অনুসরন করুন :
আল-কুরআন

আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯

আল কুরআন (আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯) ৩০. এগুলো (হজ্বের বিধান)। এ ছাড়া যে, আল্লাহ এবং পবিত্র (স্থান ও অনুষ্ঠান) সমূহের প্রতি সম্মান দেখাবে, তার প্রভ...

বিস্তারিত
আল-হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন

সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান মাখযূমী রা. আব্বাদ ইবনু তামীম তৎপিতৃব্য আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয...

বিস্তারিত
সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো

নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো। নিঃসন্দেহে এই সরকার একটি বিপ্লবোত্তর সরক...

বিস্তারিত

মাদুরোকে কেন নিশানা করল যুক্তরাষ্ট্র : ভেনেজুয়েলা সংকটের গল্প

ছবি : সংগৃহীত

সংস্কার ৪ জনিুয়ারী ২০২৬: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী-এমন তথ্য জানিয়েছে মার্কিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। বর্তমানে মাদুরোকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (এমডিসি) রাখা হয়েছে। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কেন মাদুরোর বিরুদ্ধে এতটা কঠোর অবস্থান নিল যুক্তরাষ্ট্র?

নিকোলাস মাদুরো বামপন্থি নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ এবং তার দল ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টি অব ভেনেজুয়েলা (পিএসইউভি)-এর হাত ধরে রাজনীতিতে উঠে আসেন। এক সময়ের বাসচালক ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতা মাদুরো চাভেজের উত্তরসূরি হিসেবে ২০১৩ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। চাভেজ ও মাদুরোর প্রায় ২৬ বছরের শাসনামলে তাদের দল জাতীয় পরিষদ, বিচার বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে নেয়।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাদুরোকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে বিরোধী পক্ষের দাবি, তাদের সংগ্রহ করা ভোটের হিসাবে বিরোধী জোটের প্রার্থী এদমুন্দো গনসালেস বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। মারিয়া কোরিনা মাচাদো নির্বাচনে অংশ নিতে নিষিদ্ধ থাকায় তার পরিবর্তে গনসালেস প্রার্থী হন। উল্লেখ্য, মাচাদোকে স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ রূপান্তরের সংগ্রামের জন্য অক্টোবর মাসে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তিনি ডিসেম্বর মাসে গোপনে নরওয়ের ওসলোতে গিয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন; এর আগে কয়েক মাস তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুলসংখ্যক ভেনেজুয়েলান অভিবাসীর আগমনের জন্য দায়ী করছেন। তার মতে, ২০১৩ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক সংকট ও দমনপীড়নের কারণে আনুমানিক ৮০ লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, যাদের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, মাদুরো কারাগার মানসিক আশ্রম খালি করে সেখানকার বন্দিদের জোর করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছেন। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেন নি। একই সঙ্গে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল কোকেনসহ মাদকের প্রবাহ বন্ধের ওপর জোর দেন। তিনি ভেনেজুয়েলার দু'টি অপরাধী গোষ্ঠী, ত্রেন দে আরাগুয়া (Tren de Aragua) ও কার্টেল দে লোস সোলেস (Cartel de los Soles)-কে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেন এবং দাবি করেন, দ্বিতীয়টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাদুরো নিজেই।

বিশ্লেষকদের মতে, কার্টেল দে লোস সোলেস কোনো কেন্দ্রীয় কাঠামোবদ্ধ সংগঠন নয়; বরং কোকেন পাচারে জড়িত ভেনেজুয়েলার দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বোঝাতে এই নাম ব্যবহার করা হয়। মাদুরো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের তথাকথিত মাদকবিরোধী যুদ্ধকে অজুহাত বানিয়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এবং ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদের দখল নিতে চাইছে।

গত বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মাদুরো সরকারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। প্রথমে, মাদুরোকে ধরিয়ে দেওয়ার তথ্যের জন্য ঘোষিত পুরস্কারের অঙ্ক দ্বিগুণ করা হয়। এরপর সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক বহনের অভিযোগে কিছু জাহাজকে লক্ষ্য করে মার্কিন সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করে। এর পর থেকে ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরে এমন জাহাজে ৩০টির বেশি হামলা চালানো হয়েছে, যাতে ১১০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, মাদক পাচারকারীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একটি -আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাতে জড়িত, কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অনিয়মিত যুদ্ধ চালাচ্ছে। তবে বহু আইন বিশেষজ্ঞ বলছেন, এসব হামলা বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে নয়। বিশেষ করে ২ সেপ্টেম্বরের প্রথম হামলাটি নিয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে, কারণ সেখানে পরপর দুবার হামলা চালানো হয় এবং প্রথম হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরাও দ্বিতীয় হামলায় নিহত হন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক এক প্রধান কৌঁসুলি বিবিসিকে বলেছেন, এসব অভিযান শান্তিকালে বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত হামলার পর্যায়ে পড়ে।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা সশস্ত্র সংঘাতের আইন মেনেই কাজ করেছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই কার্টেলগুলো থেকে রক্ষা করা যায়, যারা আমাদের উপকূলে বিষ নিয়ে আসতে চাইছে এবং আমেরিকানদের জীবন ধ্বংস করছে। অক্টোবরে ট্রাম্প বলেন, তিনি ভেনেজুয়েলার ভেতরে গোপন অভিযান চালাতে সিআইএ-কে অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি যাদের নার্কো-সন্ত্রাসী বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে স্থলভাগে হামলার হুমকিও দেন। তার দাবি, এর প্রথম অভিযান ২৪ ডিসেম্বর একটি ডক এলাকায় চালানো হয়েছে, যেখানে মাদক বহনের অভিযোগ থাকা নৌকাগুলো বোঝাই করা হচ্ছিল।

মাদুরোকে আটক করার আগেও ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু নন এবং তার জন্য দেশ ছেড়ে চলে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। একই সঙ্গে তিনি ভেনেজুয়েলার ওপর আর্থিক চাপ বাড়ান। ভেনেজুয়েলায় যাতায়াতকারী সব নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী জাহাজের ওপর পূর্ণ নৌ অবরোধ ঘোষণা করা হয়। তেলই মাদুরো সরকারের বৈদেশিক আয়ের প্রধান উৎস।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে বড় আকারের সামরিক বাহিনী মোতায়েন করে, যার ঘোষিত লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল ও কোকেনের প্রবাহ ঠেকানো। এই বাহিনী একদিকে মাদক পাচারের অভিযোগে জাহাজে হামলা চালাচ্ছে, অন্যদিকে নৌ অবরোধ কার্যকর করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি

সংস্কার/ইএমই

সম্পর্কিত খবর

বিহারে মুসলিম তরুণীকে হেনস্তা নিকাব খুলে সিঁদুর পরানোর তদন্ত

ভারতের বিহারের নওয়াদা জেলায় এক মুসলিম তরুণীকে জনসমক্ষে হেনস্তা, জোর করে নিকাব খুলে নেওয়া এবং কপালে সিঁদুর পরানোর অভিযোগ উঠেছে। গত সপ্তাহে কামালপুর এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনার একটি ভিডিও বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা, ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও বেড়েছে : যুদ্ধ ও কূটনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা

সমঝোতা বাতিলের ঘোষণা ট্রাম্পের: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) আর কার্যকর নয় বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের পাশে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতার সময় শেষ হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র

ইন্টারপোলের অভিযানে ৫৯ দেশে এক হাজারের বেশি গ্রেপ্তার

বিশ্বজুড়ে মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের নেতৃত্বে পরিচালিত সমন্বিত অভিযান ‘অপারেশন গ্লোবাল চেইন’-এ ৫৯টি দেশ থেকে এক হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মানবপাচারের শিকার বা সম্ভাব্য ভুক্তভোগী ২ হাজার ৭০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী। ইন্টারপোল জানায়, গত ৮ থেকে ১২

ন্যাটো সম্মেলন ও ট্রাম্পের তৎপরতা : ইসরায়েল নীতিতে বিতর্ক

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য উচ্চপর্যায়ের ন্যাটো সম্মেলনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সম্মেলনে যোগ দিতে মঙ্গলবার ৭ জুলাই ২০২৬ আঙ্কারায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। পরদিন তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈ