আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯
আল কুরআন (আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯) ৩০. এগুলো (হজ্বের বিধান)। এ ছাড়া যে, আল্লাহ এবং পবিত্র (স্থান ও অনুষ্ঠান) সমূহের প্রতি সম্মান দেখাবে, তার প্রভ...
বিস্তারিতনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন
সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান মাখযূমী রা. আব্বাদ ইবনু তামীম তৎপিতৃব্য আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয...
বিস্তারিতবাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো
নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো। নিঃসন্দেহে এই সরকার একটি বিপ্লবোত্তর সরক...
বিস্তারিতগ্রন্থনা : উসামা মোহাম্মদ
প্রতিদিন পৃথিবীতে প্রায় ২৫০০ শিশু মারা যায় নিউমোনিয়ায়।
যা হাম, মেলেরিয়া, এইডসের সমন্বিত মৃত্যুর চেয়েও বেশি। পৃথিবীর মধ্যে নিউমোনিয়ায় মৃত্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৬০ লাখ বাচ্চা আক্রান্ত হয় এবং প্রায় ৫০,০০০ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এই মৃত্যুর অন্যতম কারণ গণ সচেতনতার অভাব। নিউমোনিয়ার লক্ষণ থাকা বাচ্চাদের মাত্র ৩৫ ভাগ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপস্থিত হয়। যদিও সঠিক চিকিৎসা ও এন্টিবায়োটিক প্রয়োগে ১৫০ টাকারও কম ওষুধে এর চিকিৎসা সম্ভব। সরকারের প্রায় প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই এটা চিহ্নিত করার ও চিকিৎসা শুরু করার প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী বিদ্যমান।
কাশি, সর্দি, জ্বরের সাথে শ্বাসকষ্ট হলেই তাকে আমরা নিউমোনিয়া বলি, তবে গরিব দেশগুলোতে এই নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেশি এবং এ থেকে মৃত্যুর কারণও বেশি হওয়ায় বিশ্ব-স্বাস্থ্য সংস্থা একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরাও যাতে চিকিৎসা শুরু করতে পারে, সেজন্য শ্বাসকষ্ট হলেই তাকে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা শুরু করার অনুমতি দিয়েছে। নিউমোনিয়া ছাড়াও ব্রংকিওলাইটিস, হাঁপানী এপিগ্লটাইটিস, ক্রপ, শ্বাসনালীতে কিছু প্রবেশ করার কারণেও শিশুদের শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তাই কাশি, জ্বরের সাথে শ্বাসের গতি বেড়ে যাওয়া পর্যন্ত স্বল্পমাত্রায় নিউমোনিয়ার চিকিৎসা স্বাস্থ্যকার্মীর দেয়া এন্টিবায়োটিক ওষুধের মাধ্যমে প্রায়ই ভালো হয়ে যায়। কিন্তু বুক দেবে গেলে তাকে অবশ্যই নিকটস্থ অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। আবার শ্বাসের গতি বেড়ে যাওয়া, নিউমোনিয়ার ২-৩ দিনের মধ্যে উন্নতি লক্ষ্য করা না গেলে বা খারাপের দিকে গেলে জ্বর বেড়ে গেলে বাচ্চা খেতে না পারলে বা নেতিয়ে পড়লে অবশ্যই অভিজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।
১. নিউমোনিয়া কাদের হয়?
বাচ্চাদের এবং বড়দের সবারই নিউমোনিয়া হতে পারে। তবে ৫ বছরের কম বয়েসী বাচ্চাদের মধ্যেই এর প্রকোপ বেশি। দেখা গেছে যেসব বাচ্চা অপুষ্ট হয়ে জন্ম নিয়েছে, ওজন কম, বুকের দুধ খায়নি। টিকা ঠিকমত নেয়নি, ঘন বসতিতে থাকে, স্যাঁতসেতে ঘরে বাস করে, যে ঘরে বড়রা ধূমপান করে তাদের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি হয়। আবার কোন কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে যেমন-অপুষ্টি, হাম, নেফ্রটিক সিনড্রম, ক্যান্সার বা ক্যান্সার ওষুধ ও স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহারকারীদের মধ্যে নিউমোনিয়া হওয়া হার বেশি।
২. কোন টিকা নিলে নিউমোনিয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়?
নিউমোকক্কাস, হেমোফাইলাস, স্টেকাইলোকক্কাস, ক্লেবসিরেলা, টিবি ইত্যাদি জীবাণু দিয়ে এই রোগ হয়। টিবি এবং হেমোফাইলাসের টিকা সরকারিভাবে সারাদেশেই বিনামূল্যে বাচ্চাদের দেয়া হয়। আর যারা ঝুঁকিপুর্ণ তাদের নিউমোকক্কাস টিকার জন্যও উপদেশ দেয়া হয়। হাম-রুবেলার টিকাও এখন বিনামূল্যে দেয়া শুরু হয়েছে। তাই এই রোগগুলোর পরবর্তীতে হওয়া নিউমোনিয়ার প্রকোপও কম।
৩.নিউমোনিয়া হলে কি হয়?
শ্বাসে টেনে নেয়া বাতাস থেকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এবং শরীরের অপ্রয়োজনীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইড বের করে দেয়াই হলো শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রধান কাজ। নিউমোনিয়া হলে শ্বাসনালীর শেষ প্রান্তে যেখানে এই বাতাসের আদান-প্রদান হয় সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এটা বাধাগ্রস্ত হয়। ফলাফল-অক্সিজেন পাওয়া থেকে শরীর বঞ্চিত এবং বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড শরীরে জমা হওয়া। যা দ্রুতই মস্তিষ্ক, হৃদপিন্ড, কিডনী ইত্যাদিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে বাচ্চাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।
৪. কখন বুঝবেন আপনার বাচ্চার নিউমোনিয়া হয়েছে?
জীবাণু দিয়ে শ্বাসনালী আক্রান্ত হলেই শরীর প্রতিরোধ হিসাবে কাশি এবং জ্বর তৈরি করে। ভাইরাসের কারণে হলে সর্দি বা চোখ দিয়ে পানি পড়ার মতো উপসর্গও থাকতে পারে। এরপর অক্সিজেন এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইডের এক্সচেঞ্জ বাড়াতে শ্বাসের গতি বাড়িয়ে দেয়। এই শ্বাসের গতি ২ মাসের কমে ৬০ বা এর চেয়ে বেশি ১ বছরের নিচে ৫০ বা তার চেয়ে বেশি এবং ৫ বছরের নিচে ৪০ বা তার চেয়ে বেশি হলে আমরা তাকে নিউমোনিয়ার কারণের দ্রুত শ্বাস হিসেবে ধরে নেই। শ্বাস নিতে গিয়ে বুকের খাঁচা দেবে গেলে তাকে আমরা মারাত্মক নিউমোনিয়া বলি। শ্বাসের গতি বেড়ে গেলেই আমরা নিউমোনিয়া হয়েছে বলে ধরে নেই।
৫. কখন বাচ্চাকে ডাক্তারের কাছে নিবেন?
কাশি, জ্বরের সাথে বাচ্চার শ্বাসকষ্ট শুরু হলেই তাকে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন। তবে অপুষ্টিতে ভোগা রোগীদের কাশির সাথে জ্বর বা উল্টো শরীর ঠান্ডা হয়ে গেলেও ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। আবার ২ মাসের কম বয়সের রোগীদের নেতিয়ে যাওয়া, খিঁচুনি হওয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা খেতে না পারার লক্ষণ থাকলেও ডাক্তারের নিকট নিয়ে যেতে হবে।
৬. নিউমোনিয়া হলে কি পরীক্ষা করাবেন?
লক্ষণ শুনে, দেখে এবং রোগীর শরীর, বুক পরীক্ষা করে নিউমোনিয়া শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা হয়। তবে নিউমোনিয়ার ধরন জেনে চিকিৎসা দেয়ার জন্য অনেক সময়ই বুকের এক্সরে করা হয়। আবার রক্ত, কফ পরীক্ষা করেও জীবাণু নির্ণয় করা হয়।
৭. চিকিৎসা করবেন কিভাবে?
কম
মারাত্মক নিউমোনিয়ার বাচ্চাকে খোলা বাতাসে আরামে শ্বাস নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বাচ্চার খাবার এবং শরীরের পানির পরিমাণ ঠিক রাখতে হবে। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে। আর অ্যামোক্সিসিলিন, কট্রিম অক্সাজল, সেফালোস্পোরিন জাতীয় এন্টিবায়োটিক ঠিক পরিমাণ মতো (ওজন দেখে) ৫-৭ দিন দিতে হবে। নাক বন্ধ থাকলে লবণ-পানি (নরমাল স্যালাইন) দিয়ে ভিজিয়ে তা খুলে দিতে হবে। আবার আলতো করে টেনেও তা বের করে আনা যাবে।
মারাত্মক নিউমোনিয়ায় রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হবে। প্রথমেই অক্সিজেন দিয়ে শ্বাসে সাহায্য করতে হবে। এরপর পেটে নল দিয়ে বা শিরার মাধ্যমে পুষ্টির ব্যবস্থা পরিবর্তন করে দিতে হবে, যতক্ষণ বাচ্চা সহজে মুখে খেতে না পারবে। এরপর প্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিকও শিরার মাধ্যমে দিতে হবে। তবে হাসপাতালে আসার আগে, স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে গেলে মাংসের মধ্যে ১ ডোজ এন্টিবায়োটিক সে দিয়ে দিবে।
৮. কাশির জন্য দুশ্চিন্তা নয়:
এ সময়ে কাশিতে বাচ্চাকে বুকের দুধ, গরম পানি, তুলশি পাতার রস, লেবুর রস বয়স অনুসারে দিতে হবে। তবে এই কাশি ১ থেকে ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত সময়ে ধীরে ধীরে কমে যাবে। নতুন কোন এন্টিবায়োটিকের প্রয়োজন নেই। তাই বলা যায়, নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করতে এবং দ্রুত চিকিৎসা করতে হলে গণ সচেতনতা বাড়াতে হবে। তবেই এই রোগ থেকে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব।
(ডা. জহুরুল হক সাগর, নবজাতক ও শিশু কিশোর মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, রূপসী বাংলা হাসপাতাল, ৮৩৩ শনির আখরা, কদমতলী, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা। মোবাইল: ০১৭৮৭ ৭৪০ ৭৪০। ই-মেইল : zhsagar@gmail.com)
বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা এখন প্রকৃত অর্থেই বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকির বড় সতর্কবার্তা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) প্রকাশিত সর্বশেষ অ্যাটলাসে উঠে এসেছে, পৃথিবীর প্রতি ৯ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন এই রোগে ভুগছেন। ২০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর
হঠাৎ হাসপাতালে কোনো রোগীকে ভেন্টিলেশনে নেওয়ার কথা জানলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিন্তু বাস্তবে ভেন্টিলেটর এমন একটি চিকিৎসা-সহায়ক যন্ত্র, যা বিপদে পড়া রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সহজ ভাষায় বোঝার জন্য বিষয়টি ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হলো। ভেন্টিলেশন কী, কেন দিতে হয় এবং
আপনি কি জানেন আমাদের দেহের গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো কিডনী যা,দেখতে শান্ত,কথা না বলা এই দুই ছোট্ট অঙ্গ কিন্তু শরীরের নেপথ্যের নায়ক। কিডনি চুপচাপ নিজের কাজ করে যায়, আর সমস্যায় পড়লেও খুব একটা শব্দ করে না। তবুও শরীরের বর্জ্য ফেলা,পানি নিয়ন্ত্রণ,রক্তচাপ সামলানো সবকিছুরই বড় দায়িত্ব
কিডনি হোক বা পিত্তথলি, দৈনন্দিন ভুলেই পাথর হয়, কী ভাবে এমন প্রবণতা আটকানো সম্ভব? কিডনিতে এক বার পাথর হলে, আবার তা হতে পারে। পিত্তথলিতেও পাথর হতে পারে দৈনন্দিন জীবনযাপনে নিয়ন্ত্রণ না আনলেই। কী ভাবে সেই ঝুঁকি এড়াবেন?