অনুসরন করুন :
আল-কুরআন

আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯

আল কুরআন (আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯) ৩০. এগুলো (হজ্বের বিধান)। এ ছাড়া যে, আল্লাহ এবং পবিত্র (স্থান ও অনুষ্ঠান) সমূহের প্রতি সম্মান দেখাবে, তার প্রভ...

বিস্তারিত
আল-হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন

সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান মাখযূমী রা. আব্বাদ ইবনু তামীম তৎপিতৃব্য আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয...

বিস্তারিত
সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো

নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো। নিঃসন্দেহে এই সরকার একটি বিপ্লবোত্তর সরক...

বিস্তারিত

দান-খয়রাত ও রোজা এবং হারাম আয়

খালেদ সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী

জীবিকা নির্বাহের জন্য মানুষকে আল্লাহ নানা প্রকারের উপকরণ প্রদান করেছেন। এগুলোর মধ্যে বৈধভাবে ব্যবসা বাণিজ্য করা অন্যতম। অনেক কিছু হালাল যেমন রয়েছে, অনেক কিছু হারাম-অবৈধ, নিষিদ্ধও রয়েছে। যেমন- খাদ্য হিসেবে শুকর, কুকুর ইত্যাদি হারাম। অনুরূপভাবে মদ হারাম। ব্যবহারিক জীবনে সৎ সততার সাথে ব্যবসা বাণিজ্য করা কিম্বা অন্য পেশা অবলম্বন করার উপর ইসলাম বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে এবং সততার সাথে ব্যবসা করতে উৎসাহিতও করেছে, যা হালাল উপার্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

কুরআন হাদীসে হালাল হারাম সম্পর্কে বহু কথা বলা হয়েছে। দোআ কবুল হওয়ার জন্য হাদীসে হালাল রিজিকের প্রভাবের কথা বলা হয়েছে। মুসলিম শরীফে হয়রত আবু হুরাইরা রা. কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদীস এই যে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন : আল্লাহ তায়ালা পবিত্র এবং তিনি কেবল পবিত্র মালই গ্রহণ করেন এবং আল্লাহ তায়ালা মোমেনদেরকে এই নির্দেশ দান করেছেন, যা নির্দেশ করেছেন তার রাসূলগণকে। তিনি বলেছেন : হে পয়গম্বরগণ! তোমরা পবিত্র খাদ্য খাও এবং নেক আমল কর। আর মোমেনদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, হে বিশ্বাসীগণ! আমি যেসব পবিত্র হালাল বস্তু তোমাদেরকে দান করেছি, সেগুলো খাও। অত:পর এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে একটি পবিত্র স্থানে আসে, তার মুখমন্ডল ধুলাবালিতে আচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং সে দুই হাত আসমানের দিকে উত্তোলন করে বলতে থাকে, হে আমার রব! এবং দোআ করে অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানি হারাম এবং পোশাক হারাম এবং হারামের ওপরই প্রতিপালিত। তাহলে এমন ব্যক্তির দোয়া কিভাবে কবুল হতে পারে? হাদীসে দুইটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত: আল্লাহ কেবল সেই সদকা (দান) গ্রহণ করেন, যা পবিত্র বৈধ উপার্জন দ্বারা অর্জিত। হারাম দ্বারা উপার্জিত মাল যদি আল্লাহর পথে খরচ করা হয়, তা তিনি কবুল করবেন না। দ্বিতীয়ত : যদি ব্যক্তির উপার্জন নাজায়েজ বা অবৈধ উপায়ে হয়, তা হলে তার দোআ আল্লাহ কবুল করবেন না।

হয়রত আবু হুরাইরা রা. বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন : লোকদের ওপর এমন এক যুগ আসবে যখন কোনো লোক পরোওয়া করবে না যে, সে যে মাল অর্জন করেছে তা হালাল কিংবা হারাম। (বোখারী)

হারাম উপার্জনের পরিণতি সম্পর্কে হাদীসে কড়া সতর্কবাণী এসেছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন : কোনো বান্দা হারাম মাল কামাই করে, অতঃপর তা হতে আল্লাহর রাস্তায় দান করে, তাহলে তার পক্ষ হতে দান কবুল করা হবে না এবং যদি তার নিজের এবং পরিবারবর্গের জন্য খরচ করে তা হলে তাতে বরকত হবে না এবং যদি তা রেখে তার মৃত্যু হয়, তা হলে তা জাহান্নামের দিকে তার সফর সঙ্গী হবে। আল্লাহ তায়ালা মন্দকে মন্দের দ্বারা মুছে ফেলেন না বরং মন্দ কাজকে ভালো কাজ দ্বারা মুছে ফেলেন। খুবস-অপবিত্র মুছে না। (মেশকাত) হাদীস দ্বারা জানা যায় যে নেক বা ভালো কাজ বৈধ উপায়ে করা হলে ওটাকেই নেক কাজ বলা হবে। উদ্দেশ্য যেমন পবিত্র হওয়া উচিত, তেমনি তার মাধ্যমও পবিত্র হতে হবে। সাধারণভাবে মানব জীবনের সর্বক্ষেত্রে এবং সর্বাবস্থায় হালাল-হারামের বিষয়গুলো অনুসরণীয় হলেও পবিত্র রমজানে যারা মাসব্যাপী ফরজ রোজা পালন করে থাকেন, তাদের জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজন হালাল উপায়ে অর্জিত হালাল সম্পদ দ্বারা রোজা পালন করা এবং হালাল দ্বারা দান-সদকা করা। মাসের অসীম বরকত-সৌভাগ্য লাভ করতে রোজাগুলো যেমন ত্রুটিমুক্ত হওয়া উচিত, তেমনি হালাল সম্পদ দ্বারা দান-সদকা করাও একান্ত আবশ্যক।(দৈনিক ইনকিলাব এর সৌজন্যে

সম্পর্কিত খবর

পরিশুদ্ধ নিয়ত

নিয়ত পরিশুদ্ধ রাখা কেন অনিবার্য ভাবে প্রয়োজন? ‘সাইয়িদুনা উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘সমস্ত কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। ব্যক্তি তাই পাবে, যা সে নিয়ত করবে। অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সন্তুষ্টির) জন্য হিজরত করেছে, তার হিজরত (বাস্তবিকই) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য হয়েছে। আর যে ব্যক্তির হিজরতের (উদ্দেশ্য) ছিল, দুনিয়া উপার্জন বা কোনো নারীকে বিয়ে করা তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে।’ (সে আখিরাতে কোনো সাওয়াব পাবে না।) (সূরা মুমিনুন: ১১৫)

ইসলাম ও মাযহাব নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি ও তা নিরসন

লা মাযহাবির পক্ষ থেকে আর একটা প্রশ্ন করা হয়, ইমামগণ সাধারণ মানুষ; তারা তো নবী না। আর সবাই একমত যে নবী ছাড়া প্রতিটি মানুষ যত বড়ই ইমাম হোক সবাই সঠিক করতে পারে আবার ভুল করতে পারে। তাই আমি এমন একজন মানুষকে কিভাবে মানবো যে সঠিক করতে পারে আবার ভুল করতে পারে। ইমামকে মানা ওয়াজিব করে দেওয়া মানে একটা ভুল কাজ

সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব কুরআন মাজীদ

যাবতীয় কল্যাণ, সর্বপ্রকার জ্ঞান-গরিমা, প্রজ্ঞা ও রহস্যের আধার হল আল কুরআন। একে অনুসরণ করেই দুনিয়া ও আখিরাতে পাওয়া যায় সুখের সন্ধান, মেলে সঠিক পথের দিশা। আল কুরআন মহান আল্লাহর বাণীর অপূর্ব সমাহার বিস্ময়কর এক গ্রন্থের নাম। আল কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সংরক্ষিত এক সংবিধান। আল্লাহ তা‘আলা জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে সুদীর্ঘ ২৩ বছরে মানব জাতির হিদায়াত হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন তার নাম আল কুরআন। এই কুরআন যেমন সমগ্র মানব জাতির মানসিক সংশয়, সন্দেহ, অস্পষ্টতা, কুপ্রবৃত্তি, লোভ-লালসা নামক নানা রকম রোগ-ব্যাধি নিরাময়ের অব্যর্থ মহৌষধ ঠিক তেমনি দৈহিক রোগ-ব্যাধি, বেদনা, কষ্ট-ক্লেশ এবং জীবন চলার পথের সকল অন্ধকার বিদূরিত করার এক অনবদ্য নির্দেশিকা। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন, ‘আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের প্রতিষেধক এবং মুমিনদের জন্য রহমত।’ (বনী ইসরাঈল : ৮২) এই কুরআন হল, সত্য-মিথ্যা এবং বৈধ-অবৈধের সীমা-রেখা

অহংকার ও আত্মতৃপ্তি

যাবতীয় প্রশংসা কেবলই আল্লাহ তা‘আলার যিনি সমগ্র জগতের মালিক ও রব। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল­ামের ওপর, যিনি সমস্ত নবীগণের সরদার ও সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী। আরও বর্ষিত হোক তার পরিবার-পরিজন ও সমগ্র সাথী-সঙ্গীদের ওপর। মনে রাখতে হবে, অহংকার ও বড়াই মানবাত্মার জন্য খুবই ক্ষতিকর ও মারাত্মক ব্যাধি, যা একজন মানুষের নৈতিক চরিত্রকে শুধু কলুষিতই করে না বরং তা একজন মানুষকে হেদায়াত ও সত্যের পথ থেকে দূরে সরিয়ে ভ্রষ্টতা ও গোমরাহির পথের দিকে নিয়ে যায়। যখন কোনো মানুষের অন্তরে অহংকার ও বড়াইর অনুপ্রবেশ ঘটে, তখন তা তার জ্ঞান, বুদ্ধি ও ইরাদার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে এবং তাকে নানাবিধ প্রলোভন ও প্ররোচনার মাধ্যমে খুব শক্ত হস্তে টেনে নিয়ে যায় ও বাধ্য করে সত্যকে অস্বীকার ও বাস্তবতাকে প্রত্যাখ্যান করতে। আর একজন অহংকারী সবসময় চেষ্টা করে হকের