আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯
আল কুরআন (আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯) ৩০. এগুলো (হজ্বের বিধান)। এ ছাড়া যে, আল্লাহ এবং পবিত্র (স্থান ও অনুষ্ঠান) সমূহের প্রতি সম্মান দেখাবে, তার প্রভ...
বিস্তারিতনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন
সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান মাখযূমী রা. আব্বাদ ইবনু তামীম তৎপিতৃব্য আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয...
বিস্তারিতবাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো
নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো। নিঃসন্দেহে এই সরকার একটি বিপ্লবোত্তর সরক...
বিস্তারিত
ছবি : সংগৃহীত
সংস্কার ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬: জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটে বিশাল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে। ফলে দেশের শাসন কাঠামো, সংবিধান ও বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ খুলে গেছে। এবারের গণভোটে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ। এর মধ্যে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন এবং ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন। বিশাল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের ইতিহাসে এটি চতুর্থ গণভোট। ‘হ্যাঁ’ জয়ী না হলে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি থাকত না এবং অন্তর্বর্তী সরকার ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বড় ঝুঁকিতে পড়ত।
সংসদ ও শাসন কাঠামোয় পরিবর্তন : জাতীয় সংসদ এখন দুই কক্ষবিশিষ্ট হবে। নিম্নকক্ষের পাশাপাশি দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন লাগবে। ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনে নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে। নির্বাচিত সংসদ শপথের পর প্রথম ১৮০ দিন সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে, পরে নিয়মিত আইনসভা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে অর্থবিল ও অনাস্থা প্রস্তাব ছাড়া অন্য সব বিলে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
নারীদের সংরক্ষিত আসন ৫০ থেকে বাড়িয়ে ধাপে ধাপে ১০০ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবেন। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত কোনো চুক্তির জন্য সংসদের উভয়কক্ষের অনুমোদন লাগবে। সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে নির্বাচন কমিশনের একক কর্তৃত্ব থাকছে না; বিশেষজ্ঞ কমিটিও যুক্ত হবে।
রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য : একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন। জরুরি অবস্থা জারিতে মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাগবে এবং বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হবে। জরুরি অবস্থাতেও সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকার খর্ব করা যাবে না। রাষ্ট্রপতি গোপন ব্যালটে দুই কক্ষের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন। রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের জন্য দুই কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট লাগবে। ক্ষমা প্রদানের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারের সম্মতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ নিয়োগ : নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, ন্যায়পাল, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এবং মহা হিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে হবে। নির্বাচন কমিশনের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি থাকবে—প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি (প্রধান বিচারপতির প্রতিনিধি)। দুর্নীতি দমন কমিশনের জন্য সাত সদস্যের কমিটি হবে, যেখানে আপিল বিভাগের একজন সিনিয়র বিচারপতি প্রধান থাকবেন। এছাড়া হাইকোর্টের একজন বিচারপতি, সিএজি, পিএসসি চেয়ারম্যান, জাতীয় সংসদ নেতার প্রতিনিধি, বিরোধীদলীয় নেতার প্রতিনিধি ও প্রধান বিচারপতি মনোনীত বিশেষজ্ঞ থাকবেন।
আইন ও বিচার ব্যবস্থায় সংস্কার : প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগ থেকে নিয়োগ দিতে হবে। আপিল বিভাগের বিচারকের সংখ্যা প্রধান বিচারপতির চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারণ হবে। হাইকোর্ট বিচারক নিয়োগ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে হবে। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, বিভাগভিত্তিক হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল শক্তিশালী করা এবং নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিমকোর্টে ন্যস্ত করার বিধান যুক্ত হয়েছে। সংবিধান রহিতের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্ত করা হয়েছে। সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ অনুচ্ছেদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনে গণভোট বাধ্যতামূলক হবে।
মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার : বর্তমান মূলনীতি-বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে নতুন মূলনীতি হবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি। সব সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়টি যুক্ত হয়েছে। সংবিধানের ২২টি মৌলিক অধিকারের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা যুক্ত হয়েছে। নাগরিক পরিচয় ‘বাঙালি’ থেকে ‘বাংলাদেশি’ হবে। রাষ্ট্রভাষা বাংলা থাকবে, তবে অন্য মাতৃভাষাগুলোর স্বীকৃতিও দেওয়া হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা : সংসদের মেয়াদ শেষের ১৫ দিন আগে বা ভেঙে গেলে ১৫ দিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ চূড়ান্ত করতে হবে। মেয়াদ হবে ৯০ দিন, বিশেষ পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ ৩০ দিন বাড়ানো যাবে। পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি—প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রতিনিধি—প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন করবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঐকমত্য না হলে বিকল্প প্রক্রিয়ায় সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রস্তাব থেকে চূড়ান্ত করা হবে।
বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট : জুলাই সনদের কিছু ধারা ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। বিশেষ করে একজন ব্যক্তি সরকার ও দলের প্রধান হতে পারবেন না-এই বিধানে তাদের আপত্তি রয়েছে। এছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, বাংলাদেশ আইন কমিশন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের বিধানেও আপত্তি জানিয়েছে। গণভোটে এসব বিষয়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
গণভোটের কাঠামো : জুলাই সনদের ৮৪টি ধারার মধ্যে ৩৬টি জুলাই আদেশ বাস্তবায়নসংক্রান্ত এবং ৪৮টি সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত। সংবিধান সংশোধনের ৪৮টি ধারা চার ভাগে ভাগ করে গণভোটে উপস্থাপন করা হয়- ১. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত ধারা, ২. উচ্চকক্ষসংক্রান্ত ধারা, ৩. ঐকমত্যভিত্তিক ৩০টি ধারা, ৪. নোট অব ডিসেন্টযুক্ত ১০টি ধারা। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হলো এবং দেশে নতুন শাসন কাঠামো কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
সংস্কার/ইএমই
সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধের মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি আইনে রূপ না পেয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকারিতা হারিয়েছে। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ, তথ্য অধিকার এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপ দিতে জাতীয় সংসদে আজ মোট ২০টি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে সকালে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ১০টি বিল পাস হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনের সকালের বৈঠকে উত্থাপিত বিলগুলোর ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তা
স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১ ভোট।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা বেসরকারি ফলাফলে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। একটি পোস্টাল ভোটসহ ১৫১টি কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৩১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে