আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯
আল কুরআন (আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯) ৩০. এগুলো (হজ্বের বিধান)। এ ছাড়া যে, আল্লাহ এবং পবিত্র (স্থান ও অনুষ্ঠান) সমূহের প্রতি সম্মান দেখাবে, তার প্রভ...
বিস্তারিতনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন
সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান মাখযূমী রা. আব্বাদ ইবনু তামীম তৎপিতৃব্য আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয...
বিস্তারিতবাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো
নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো। নিঃসন্দেহে এই সরকার একটি বিপ্লবোত্তর সরক...
বিস্তারিতখালেদ
সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী
কুরআন
আল্লাহর কালাম। সূরা বাকারার শুরুতেই আল্লাহ তায়ালা জানিয়ে দিয়েছেন; ‘জালিকাল
কিতাবু লা রাইবা ফিহি’। অর্থাৎ এই কিতাব, এতে সন্দেহের কোনোই অবকাশ নেই। কিতাব
বলতে যা কিছু তাতে আছে, সব কিছুই সন্দেহাতীতভাবে নিৃর্ভুল, সত্য। একটি নোকতা,
হরকত, অক্ষর, শব্দ, বাক্য সব কিছুই নির্ভুল এবং প্রতিটি আয়াতই সংশয়-সন্দেহমুক্ত,
শুদ্ধ, সঠিক এবং ভুল-ভ্রান্তি হতে সম্পূর্ণ মুক্ত-পবিত্র। এতে কাফের, মোশরেক,
মোনাফেক ও খোদাদ্রোহী, নাস্তিক ব্যতীত কেউ সন্দেহ পোষণ করতে পারে না। যারা কুরআনের
একটি অক্ষর, শব্দ, বাক্য তথা আয়াত বিকৃত, পরিবর্তন কিংবা বাদ দেয়ার ধৃষ্টতা
প্রদর্শন করে বা দাবি জানায়, সে সন্দেহাতীতভাবে বর্ণিত শ্রেণিগুলোর অন্তর্ভুক্ত
হয়ে যাবে কি-না, সে সিদ্ধান্ত বা ফতোয়া দেবেন ইসলামী শরীয়তের মুফতীগণ। কোনো
মুসলমানের পক্ষে এরূপ ধৃষ্টতা প্রদর্শন করা সম্ভব নয়। যদি মুসলমান নামধারী কোনো
ব্যক্তি এরূপ দুঃসাহস করে তবে তার কঠোর শাস্তির বিধান ইসলামে রয়েছে।
দুনিয়ার
সকল ধর্মের অনুসারীদের স্বতন্ত্র বিচারবিভাগ তথা আইন-আদালত রয়েছে। যে কোনো বিষয়ে
চূড়ান্ত রায়ের জন্য সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্ট মানুষের আশা, ভরসা ও
ন্যায়বিচার লাভের একমাত্র কেন্দ্রস্থল, সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান। এ মহান
প্রতিষ্ঠানে সর্ব প্রকারের বিষয়ে মামলা রুজু করা যায় না, এমন বহু বিষয় আছে যেগুলো
উত্থাপিত হবার সাথে সাথে খারিজ হয়ে যায়। বিশেষত: কোনো ধর্মের বা ধর্ম গ্রন্থের
বিরুদ্ধে কেউ মামলা পেশ করতে চাইলে তা আদালতে গৃহীত না হওয়ার বহু দৃষ্টান্ত ইতিহাসে
বিদ্যমান।
এ
ধরনের মামলা উত্থাপনের আইনগত বাধা না থাকলেও সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দেয়ার অভিযোগ
আসাটা মোটেই অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক নয়। কেননা, এর ফলে ধর্মীয় হানাহানি ও
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা এমনকি রক্তারক্তির আশঙ্কা থেকে যায়। অথচ এ ধরনের
অরাজকতা ও খুনাখুনি দমন করাটাই তো আদালতের মৌলিক করণীয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। কথাগুলো
আমরা ধর্ম ও ধর্ম গ্রন্থগুলো সম্পর্কেই বলছি। কারণ, কটাক্ষপাত, অসৌজন্য আচরণ,
বিদ্রুপ, ইত্যাদি সাম্প্রদায়িক অশান্তি, বিশৃঙ্খলার জন্ম দেয়। কিন্তু তিক্ত হলেও
সত্য ইসলাম ও ইসলাম ধর্মের কুরআন ও ইসলামের নবী সা. এর বিরুদ্ধে দুনিয়ার নানা
স্থানে নানা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর ধারা অব্যাহত রয়েছে এবং বহু ক্ষেত্রে
সরকারি তথা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাও লক্ষ্য করা যায়।
আল-কুরআন
ঘোষণা করেছে, ‘ওয়ামান ইয়াবতাগি গাইরাল ইসলামি দীনান ফালান ইউকবালা মিনহু ওয়া হুওয়া
ফিল আখিরাতি মিনাল খাসিরীন।’ অর্থাৎ যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম তালাশ করে
কস্মিন কালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে হবে সে ক্ষতিগ্রস্ত। (আল ইমরান:
৮৫)।
আয়াতটির
তফসিরী ব্যাখ্যায় অনেক কথাই বলা হয়েছে। তবে আলোচনার সুবিধার্থে একটি তফসিরী
ব্যাখ্যা এখানে উদ্ধৃত করা জরুরী। কুরআন বিকৃত বা কুরআনের কোনো আয়াতকে বাদ দেয়ার
জন্য আইন-আদালতের আশ্রয় নেয়ার যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তার অর্থ হচ্ছে,
কুরআনকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। অর্থাৎ কুরআনের প্রবর্তক মহান আল্লাহকে
মানুষের আদালতে বিচারের জন্য পেশ করা (নাউজুবিল্লাহ)।
উল্লেখিত
আয়াতটির ব্যাখ্যা দেখা যাক। বলা হয়েছে, শেষ নবী মুহাম্মদ সা. কে যে ইসলাম দেয়া
হয়েছে, তা অপরিবর্তনীয় এবং কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে। উল্লেখিত নীতি অনুযায়ী
তার আবির্ভাবের পর পূর্ববর্তী সব ধর্ম রহিত হয়ে গেছে। এখন পূর্বেকার ইসলাম আর
ইসলাম নয়, বরং- হুজুর সা. এর মাধ্যমে যা পৃথিবীতে পৌঁছেছে, তাই হলো ইসলাম।
এ
কারণেই বিভিন্ন সহীহ হাদীসে মহানবী সা. বলেছেন, ‘আজ যদি হযরত মূসা আ. জীবিত
থাকতেন, তবে তার পক্ষেও আমার অনুসরণ করা ছাড়া গত্যন্তর ছিল না।’ অন্য এক হাদীসে
বলেন, ‘কেয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে হযরত ঈসা আ. যখন অবতরণ করবেন, তখন নবুয়তের পদে
সমাসীন থাকা সত্ত্বেও তিনি আমার শরীয়তেরই অনুসরণ করবেন।’ (তাফসীর মা’আরেফুল কুরআন-
বাংলা সংস্করণ, পৃষ্ঠা-১৯৩)
হযরত মূসা আ. এর আগমনের সম্ভাবনা নেই, তবে হযরত ঈসা আ. কেয়ামতের পূর্বে আগমন করবেন। অর্থাৎ আসমান হতে অবতরণ করবেন এবং শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ সা. এর উম্মত হিসেবে রাজত্ব করবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন। তার ধর্ম বলবৎ থাকবে না। তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচার করবেন। আর এ ধর্ম হচ্ছে বিশ্ববাসীর মুক্তির উপায়। কুরআন মাজিদের আয়াতে এ ধর্ম সম্পর্কেই বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম অবলম্বন করে তবে আল্লাহর কাছে তা গ্রহণীয় নয়’। কুরআনে আল্লাহ তা‘য়ালার এ স্পষ্ট ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও মুসলমানগণ কখনো কাউকে জোরপূর্বক ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করেননি। তারা কুরআনের অপর আয়াত, লা ইকরাহা ফিদ্দীন, অর্থাৎ দ্বীন প্রচারে কোনো জোর জবরদস্তি নেই (আল ইমরান)
এ
নীতি অনুসরণ করে আসছেন সর্বদা, সর্বকালে। ইসলাম বিদ্বেষীরা কুরআনের অনেক শিক্ষা
জেনেও না জানার ভান করে থাকে। ইসলামের নবজাগরণে ভীত-শঙ্কিত হয়ে নানাভাবে ইসলামের
নবী এবং ইলাহী বিধান কুারআনের অবমাননা, বিকৃতি, বিভ্রান্তি এবং কুরআনের আয়াত বাদ
দেয়ার মতো ধৃষ্টতা-দুঃসাহস দেখাতে শুরু করেছে।
কুরআনের
প্রতি অমর্যাদা প্রদর্শনে ইয়াহুদী-খৃষ্টানদের জুড়ি না থাকলেও বর্তমান যুগে কুরআনের
আয়াত বাদ দেয়ার উদ্যোগের ন্যায় ঘৃণ্য অপরাধ তাদের দ্বারা সংঘটিত হবার ঘটনা
সাম্প্রতিক জানা যায় না। তবে তাদেরই গোপন ইঙ্গিতে মুসলমান নামধারী কোনো
গোষ্ঠী-সম্প্রদায় এ অশুভ তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে কি-না, তা ভেবে দেখার বিষয়। ভারতে
কুরআনের আয়াত পরিবর্তনের উদ্যোগের প্রতি আমরা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।
সূরা
আল ইমরানের অন্যত্র আল্লাহ নিশ্চিত করে আরো ঘোষণা করেছেন। ‘ইন্নাদ্দীনা
ইন্দাল্লহিল ইসলাম,’ অর্থাৎ নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র
ইসলাম (আয়াত: ১৯)।
সারকথা
এই যে, রাসূলুল্লাহ সা. এর আবির্ভাবের পর কুরআন ও তার শিক্ষার সাথে সমঞ্জস্যপূর্ণ
ধর্মই ইসলাম এবং এ ধর্মই আল্লাহ তা‘য়ালার কাছে গ্রহণযোগ্য, অন্য কোনো ধর্ম নয়।
বিষয়টি কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন আঙ্গিকে বর্ণিত হয়েছে। ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব,
বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য সম্পর্কে কুরআনের এসব ঘোষণা কাফের, মোশরেক, মোনাফেক তথা
আল্লাহদ্রোহী ও ইসলাম বিদ্বেষীরা কখনো সহ্য করতে পারে না। কেননা, তারাই
জাহান্নামের ইন্ধন হবে, কুরআন বারবার এ কথা ঘোষণা করেছে। আল্লাহর হারাম (নিষিদ্ধ)
বস্তু গুলোকে যারা হালাল বা বৈধ করে, তারাই বহু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে
দাঁড়ায় এবং তা থেকে খাঁটি মুসলমানরাও রেহাই পায় না। তাই আল্লাহদ্রোহীদের সম্পর্কে
রাসূলুল্লাহ সা. এর একটি হাদীস রয়েছে, যা মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক কর্তৃক বর্ণিত।
রাসূলুল্লাহ সা. একটি দলকে উদ্দেশ করে বলেন, তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর। তারা বলল, আমরা
ইসলাম গ্রহণ করেছি। রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, তোমরা মিথ্যা বলেছ। তোমাদের ইসলাম
কীভাবে শুদ্ধ হবে, অথচ তোমরা আল্লাহর সাথে পুত্র সাব্যস্ত কর এবং তোমরা সলীবের
(ক্রশ) পূজা কর এবং শূকর ভক্ষণ কর। (তাফসীর কাবীর)।
পূর্বে
উল্লেখিত হাদীসের ব্যাখ্যা করতে গেলে আরো বহু বিষয় আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়
এবং সেদিকে না গিয়ে এককালের ৩৩ কোটি দেবতার পূজারী বহুত্ববাদী ভারত সম্পর্কে
কিঞ্চিত বক্তব্য পেশ করা আবশ্যক। ইসলামের শুরু থেকে এযাবৎ হিন্দুত্ববাদী ভারতে
কুরআন, মহানবী সা. ও ইসলামের অবমাননা ও ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার
ইয়াহুদি-খৃষ্টানদেরও হার মানায়। তার সর্বশেষ ন্যক্কারজনক ঘটনা, সম্প্রতি একজন
ভারতীয় নাগরিক কর্তৃক ভারতের সুপ্রিম কোর্টে (সর্বোচ্চ আদালত) পবিত্র কুরআনের
আয়াত পরিবর্তনের রিট দায়ের করা এবং তা আদালতে গৃহীতও হওয়া। আশ্চর্যের বিষয় যে,
রিটকারী ভারতের এমন একটি মুসলিম নামক সম্প্রদায়ের সদস্য, যারা শুরু থেকে কুরআন
সম্পর্কে নানা ভিত্তিহীন, আপত্তি উত্থাপন করে ইতিহাসে কুখ্যাতি লাভ করেছে। কুরআনের
২৬টি আয়াত পরিবর্তনের জন্য এ সম্প্রদায়ের লোকটিকে রহস্য জগত হতে প্ররোচিত করা
হয়েছে, নাকি লোকটি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে এ ঘৃণ্য কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছে সে
প্রশ্ন না রেখেও বলা যায় যে, সুপ্রিম কোর্ট রিটটি বিনাবাক্যে লুফে নিয়েছে বলে মনে
হয়। কী চমৎকার উদ্যোগ! ভারতের বিভিন্ন আদালতে বিভিন্ন সময় উপস্থাপিত মুসলিম
স্বার্থসংশ্লিষ্ট বহু মামলার রায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘোষিত হওয়ার দৃষ্টান্ত
রয়েছে। তাতে পক্ষপাতিত্বের ফলে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত করার দাবি করা যায় না। সে বিবরণে
না গিয়ে এ ক্ষেত্রে এটুকু বলা যথেষ্ট হবে যে, এই একটি রিট মামলা ভারতীয় সুপ্রিম
কোর্টের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও ভাবমূর্তি জলাঞ্জলি দেয়ার শামিল।
কেননা,
মুসলমানদের একমাত্র ধর্মীয় বিধান মহান আল্লাহর পক্ষ হতে তার প্রিয় নবী সা. এর
নাজিল করা আল কুরআনের আয়াত পরিবর্তনের ধৃষ্টতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ
মুসলমানগণ এ দেশের সর্বস্তরের মাশায়েখ, ওলামার নেতৃত্বে ফুঁসে উঠেছেন এবং রিট
খারিজ করা না হলে তারা ভারতের দিকে লংমার্চের সতর্কবাণীও উচ্চারণ করেছেন। ভারতীয়
সুপ্রিম কোর্ট কুরআনের ২৬টি আয়াত পরিবর্তনের জন্য দায়ের করা রিট গ্রহণ করায় তার
জন্য ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি অবিলম্বে খারিজ করে রিটকারীকে গ্রেফতার করে তার উপযুক্ত
শাস্তির ব্যবস্থা করা না হলে মুসলিম বিশে^র সর্বত্র এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও
তারা করছেন। তাই ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের উচিত, অবিলম্বে মর্যাদা, ভাবমর্যাদা
অক্ষুন্ন রাখা এবং কুরআনের খোদা প্রদত্ত মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
কুরআনে ২৬টি আয়াত পরিবর্তনের জন্য ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে রিটকারী ভারতীয় নাগরিকের
যে সংক্ষিপ্ত পরিচয় পাওয়া যায় তাতে তার নাম, ওয়াসিম রেজভী, শিয়া ওয়াকফ বোর্ডের
সাবেক চেয়ারম্যান উল্লেখ করা হয়েছে।হ (সৌজন্যে: ইনকিলাব)
নিয়ত পরিশুদ্ধ রাখা কেন অনিবার্য ভাবে প্রয়োজন? ‘সাইয়িদুনা উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘সমস্ত কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। ব্যক্তি তাই পাবে, যা সে নিয়ত করবে। অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সন্তুষ্টির) জন্য হিজরত করেছে, তার হিজরত (বাস্তবিকই) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য হয়েছে। আর যে ব্যক্তির হিজরতের (উদ্দেশ্য) ছিল, দুনিয়া উপার্জন বা কোনো নারীকে বিয়ে করা তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে।’ (সে আখিরাতে কোনো সাওয়াব পাবে না।) (সূরা মুমিনুন: ১১৫)
লা মাযহাবির পক্ষ থেকে আর একটা প্রশ্ন করা হয়, ইমামগণ সাধারণ মানুষ; তারা তো নবী না। আর সবাই একমত যে নবী ছাড়া প্রতিটি মানুষ যত বড়ই ইমাম হোক সবাই সঠিক করতে পারে আবার ভুল করতে পারে। তাই আমি এমন একজন মানুষকে কিভাবে মানবো যে সঠিক করতে পারে আবার ভুল করতে পারে। ইমামকে মানা ওয়াজিব করে দেওয়া মানে একটা ভুল কাজ
যাবতীয় কল্যাণ, সর্বপ্রকার জ্ঞান-গরিমা, প্রজ্ঞা ও রহস্যের আধার হল আল কুরআন। একে অনুসরণ করেই দুনিয়া ও আখিরাতে পাওয়া যায় সুখের সন্ধান, মেলে সঠিক পথের দিশা। আল কুরআন মহান আল্লাহর বাণীর অপূর্ব সমাহার বিস্ময়কর এক গ্রন্থের নাম। আল কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সংরক্ষিত এক সংবিধান। আল্লাহ তা‘আলা জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে সুদীর্ঘ ২৩ বছরে মানব জাতির হিদায়াত হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন তার নাম আল কুরআন। এই কুরআন যেমন সমগ্র মানব জাতির মানসিক সংশয়, সন্দেহ, অস্পষ্টতা, কুপ্রবৃত্তি, লোভ-লালসা নামক নানা রকম রোগ-ব্যাধি নিরাময়ের অব্যর্থ মহৌষধ ঠিক তেমনি দৈহিক রোগ-ব্যাধি, বেদনা, কষ্ট-ক্লেশ এবং জীবন চলার পথের সকল অন্ধকার বিদূরিত করার এক অনবদ্য নির্দেশিকা। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন, ‘আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের প্রতিষেধক এবং মুমিনদের জন্য রহমত।’ (বনী ইসরাঈল : ৮২) এই কুরআন হল, সত্য-মিথ্যা এবং বৈধ-অবৈধের সীমা-রেখা
যাবতীয় প্রশংসা কেবলই আল্লাহ তা‘আলার যিনি সমগ্র জগতের মালিক ও রব। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালামের ওপর, যিনি সমস্ত নবীগণের সরদার ও সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী। আরও বর্ষিত হোক তার পরিবার-পরিজন ও সমগ্র সাথী-সঙ্গীদের ওপর। মনে রাখতে হবে, অহংকার ও বড়াই মানবাত্মার জন্য খুবই ক্ষতিকর ও মারাত্মক ব্যাধি, যা একজন মানুষের নৈতিক চরিত্রকে শুধু কলুষিতই করে না বরং তা একজন মানুষকে হেদায়াত ও সত্যের পথ থেকে দূরে সরিয়ে ভ্রষ্টতা ও গোমরাহির পথের দিকে নিয়ে যায়। যখন কোনো মানুষের অন্তরে অহংকার ও বড়াইর অনুপ্রবেশ ঘটে, তখন তা তার জ্ঞান, বুদ্ধি ও ইরাদার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে এবং তাকে নানাবিধ প্রলোভন ও প্ররোচনার মাধ্যমে খুব শক্ত হস্তে টেনে নিয়ে যায় ও বাধ্য করে সত্যকে অস্বীকার ও বাস্তবতাকে প্রত্যাখ্যান করতে। আর একজন অহংকারী সবসময় চেষ্টা করে হকের