আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯
আল কুরআন (আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯) ৩০. এগুলো (হজ্বের বিধান)। এ ছাড়া যে, আল্লাহ এবং পবিত্র (স্থান ও অনুষ্ঠান) সমূহের প্রতি সম্মান দেখাবে, তার প্রভ...
বিস্তারিতনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন
সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান মাখযূমী রা. আব্বাদ ইবনু তামীম তৎপিতৃব্য আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয...
বিস্তারিতবাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো
নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো। নিঃসন্দেহে এই সরকার একটি বিপ্লবোত্তর সরক...
বিস্তারিত
সংস্কৃতির ইংরেজি ‘কালচার’। বাংলায় ‘কৃষ্টি’। আরবিতে ‘তামাদ্দুন’। এই ছোট শব্দটিকে নিয়েই পৃথিবী গড়ে উঠেছে। শব্দটির সহজ কোন ব্যাখ্যা নেই। এই শব্দটির মধ্যে আমাদের জাতীয় জীবন, আমাদের সাহিত্য, সমাজসহ সব কিছু জড়িয়ে আছে। অনেকেই অনেকভাবে শব্দটির ব্যাখ্যা করেছেন। আসলে তাদের ব্যাখ্যাটাই হচ্ছে সংস্কৃতি। এখানেই ‘সংস্কৃতি’ শব্দটার মজা ও গভীরতা। আমাদের পরিশীলন, অনুশীলন, সভ্যতা, ভদ্রতা, শিষ্টতা, রুচিশীলতা ইত্যাদি শব্দটির আয়নায় দেখা যায়। বলা যায়, অনুশীলনধারা লব্ধ বিদ্যাবুদ্ধি, রীতিনীতি, সভ্যতাজনিত উৎকর্ষসহ অনেক অনেক শব্দ দিয়ে এই একটি শব্দের ব্যাখ্যা করা যায়।
'সংস্কৃতি' শব্দটি 'সংস্কার' শব্দ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। যার অর্থ শুদ্ধি, শোধন, পরিষ্কার বা নির্মল করা, উৎকর্ষ সাধন, সংশোধন, ধারণা, বিশ্বাস সংস্কার। আমাদের ধর্ম, জীবন-যাপন, সামাজিক আচার, রীতিনীতি আমাদের সংস্কৃতি। হিন্দু ভাইয়েরা মন্দিরে যায়, সেটা তাদের সংস্কৃতি। মুসলমানেরা মসজিদে যায় তা তাদের সংস্কৃতি। মাঝখানে সংস্কৃতি নিয়ে আপনার প্রশ্ন থাকার কোন অবকাশ নেই। সংস্কৃতিতে স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন। এতে সাহিত্য ও সমাজ সমৃদ্ধ হয়। তবে সেই স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হতে হবে সমাজ এবং ধর্ম বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে। কারণ, এই সংসার তার ঠিকানা, আর ধর্ম তার দুই জাহানের ঠিকানা।
ধর্মকে ধর্মের পথে চলতে দিতে হয়। ধর্ম কারো মত দল-দর্শনের উপর নির্ভর করে চলে না। এতে মানুষের হস্তক্ষেপ থাকতে পারে না। ধর্মের স্বাধীনতা আছে। তাই কবি সাহিত্যককে ধর্মের বলয়ের মধ্যে থেকে সাহিত্য চর্চা করতে হবে। লেখক যেভাবেই হোক সে একটি ধর্মের অনুসারী। আর জীবন মৃত্যু ধর্মের ভিত্তিতে হয়ে থাকে। তার সাহিত্য ধর্মবিরোধী হতে পারে না।
বলছিলাম, সংস্কৃতি শব্দটির ব্যাখ্যায় আরবি ভাষায় দুটি শব্দ ব্যবহার করা হয়। একটি হল ‘সাকাফা’। আর দ্বিতীয়টি হলো ‘তাহজীব’। সাকাফা অর্থ - Culture, Refinement, Education, Etc. অন্যদিকে তাহজিব অর্থ- Expurgation, Emendation, Rectification, Revision, Instruction, Education, Tringing and Culture. সংস্কৃতি মানুষকে পূর্ণ করে। নির্মল করে। পরিবারে, সমাজে, বিশ্বে শ্রেষ্ঠ মানবের পরিচয় নিয়ে বেঁচে থাকার শক্তি যোগায়। পথের দিশা দেয়।
আমাদের সংস্কৃতিকে ঘিরে সাহিত্য এবং সভ্যতা গড়ে ওঠে। সব সাহিত্য তার গ্রাম, দেশ, সমাজ ও সভ্যতা থেকে নেয়া । যদি কেউ তার দেশীয় রসদে সাহিত্য রচনা না করে, তখন সেটা আর সাহিত্য হয় না।
যে সাহিত্যে দরদ নেই, প্রেম নেই, ভালোবাসা নেই, জাতির কথা নেই, ধর্মের মহাত্মের ঘোষণা নেই, মানবতা নেই, গরিব-দুঃখির কথা নেই, দেশের পতাকা ও স্বাধীনতার কথা নেই, বিশ্বের সকল পতাকা এবং ভূখণ্ডের প্রতি সম্মান নেই, দেশের সম্পদের কথা নেই, সে সাহিত্য আর সাহিত্য হয় না, তা হয় কিছু শব্দের অপচয়। সময় নষ্ট। নিজের এবং জাতির ক্ষতির কারণ। কারণ, সাহিত্য শব্দের বিশ্লেষণেই এই কথাটি আছে।
‘সাহিত্য’ শব্দের বিশ্লেষণে বলা হয়, সমাজের সহিত, কল্যাণের সহিত যা সম্পৃক্ত তার নাম সাহিত্য। তা হলে এই কথার আরেক পীঠ হল, যাহা কল্যাণের জন্য নয়, সমাজের জন্য নয়, মানবতার জন্য নয়, তা অসাহিত্য।
আমাদের দেশ, সংস্কৃতি, ধর্ম ও দর্শনকে পবিত্র রাখার জন্য, রক্ষা করার জন্য, আমাদের সুসাহিত্যের প্রয়োজন। সুসাহিত্যিকের প্রয়োজন। এটাই সংস্কৃতির মূল ভিত্তি। আমাদের লেখকদের মধ্যে অনেকেই সুদূর প্রসারী চিন্তা করে না। পাঠকদের মধ্যে অনেকে না বুঝে দল এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সাহিত্যকে দেখে। এতে সাহিত্যের ক্ষতি হয়। দেশের অকল্যাণ হয়।
আমাদের মধ্যে অনেকে আছে এক রোখা। উশৃংখল লেখক অথবা পাঠক। কেউ আছি সংকীর্ণ মনা। তারা আকাশকে দেখে না।
আবারো বলি, ধর্মীয় লেখা মানে কুরআন গীতার বর্ণনা নয়- ধর্মীয় লেখা মানে মানবতার, সামাজিকতার তথা শান্তি সুখ সমৃদ্ধির কথা। আপনার লেখায় কুকুরের অধিকারের কথা থাকবে। এটিও সাহিত্য। এ কথাটিই ধর্ম বলেছে। তাহলে ধর্মের দোষ কোথায়? এই সহজ বিষয়কে আপনি এক চোখে দেখেন কেন?
‘সংস্কৃতি’ এবং ‘সাহিত্য’ বলতে উপরে আমরা কথাটি এভাবেই বুঝাতে চেয়েছিলাম। আসুন আমরা এ পথেই সাহিত্য চর্চা করি। n
ঢাকা ব্যাংক-আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ এ কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিশু সাহিত্য ও প্রথম বই-এই পাঁচ শাখায় মোট ৮ জন লেখককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান গতকাল চ্যানেল আই ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।
মানুষ চিন্তাশীল এক আশ্চর্য প্রাণী। সে শুধু চিন্তাই করে না, চিন্তার বাস্তবায়নও করে। প্রথমে ভাষা, তার পর লেখা, ছাপানো বই, তার পর আবার বইমেলা! পাঠক-ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার নানান কায়দা-কানুন। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, এই বইমেলার ইতিহাস কমপক্ষে ৫০০ বছরের পুরনো ইতিহাস। পৃথিবীতে প্রথম বইমেলার শুভ সূচনা হয় জার্মানিতে, যা ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা নামে সুপরিচিত। মাত্র পাঁচ দিনের বইমেলা। প্রথম তিন দিন ব্যবসায়ীদের জন্য। পরের দুই দিন সবার জন্য উন্মুক্ত।