অনুসরন করুন :
আল-কুরআন

আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯

আল কুরআন (আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯) ৩০. এগুলো (হজ্বের বিধান)। এ ছাড়া যে, আল্লাহ এবং পবিত্র (স্থান ও অনুষ্ঠান) সমূহের প্রতি সম্মান দেখাবে, তার প্রভ...

বিস্তারিত
আল-হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন

সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান মাখযূমী রা. আব্বাদ ইবনু তামীম তৎপিতৃব্য আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয...

বিস্তারিত
সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো

নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো। নিঃসন্দেহে এই সরকার একটি বিপ্লবোত্তর সরক...

বিস্তারিত

লোকসানে দেশের ব্যাংক খাত : ক্ষতি ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা

ছবি : সংগৃহীত

সংস্কার ১৮ জুন ২০২৬ বৃহস্পতিবার: দীর্ঘদিনের অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব, নিয়ন্ত্রণহীন ঋণ বিতরণ ও দুর্বল সুশাসনের প্রভাবে দেশের ব্যাংক খাত স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্মিলিতভাবে বড় ধরনের লোকসানে পড়েছে। ২০২৫ সালে ব্যাংকিং খাতের মোট নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট, মাসিক প্রতিবেদন এবং ব্যাংকগুলোর প্রকাশিত আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ব্যাংকসহ কয়েকটি দুর্বল ব্যাংকের বড় অঙ্কের ক্ষতিই পুরো খাতকে লোকসানে ফেলেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ব্যাংক খাতের নিট মুনাফা ছিল ১৪ হাজার ২৩১ কোটি টাকা, যা ২০২৩ সালে বেড়ে ১৪ হাজার ৮৪০ কোটি টাকায় ওঠে। ২০২৪ সালে তা কমে ১২ হাজার ১৫৮ কোটি টাকায় নেমে এলেও ২০২৫ সালে পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন ঘটে এবং পুরো খাত ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা লোকসানে পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্পদের প্রকৃত মূল্যায়ন এবং দীর্ঘদিন আড়ালে থাকা সমস্যাগুলো প্রকাশ পাওয়ায় এই চিত্র সামনে এসেছে। ব্যাংক সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৯টি ব্যাংকের সম্পদের গুণগত মান যাচাই করেছে। এর মধ্যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং বাকি চারটির আর্থিক অবস্থাও দুর্বল। ফলে আগে নিয়মিত বা সহনীয় হিসেবে দেখানো অনেক ঋণের প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ পেয়েছে।

এর আগে ২০০৪ সালে ব্যাংক খাতে ৭৭৬ কোটি টাকা, ২০০৬ সালে ২ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা এবং ২০১২ সালে হলমার্ক কেলেঙ্কারির প্রভাবে ১ হাজার ৯৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের ক্ষতির পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

ব্যাংকগুলোর বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১০টি ব্যাংকের সম্মিলিত লোকসান হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৬ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক।

অন্যদিকে, কয়েকটি শক্তিশালী ও বহুজাতিক ব্যাংক মুনাফায় রয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। দেশীয় ব্যাংকের মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা, সিটি ব্যাংক ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা এবং পূবালী ব্যাংক ১ হাজার ৯০ কোটি টাকা মুনাফা করলেও তা পুরো খাতের ক্ষতি সামাল দিতে পারেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের মোট ঋণের ৫৯ শতাংশ এখন দুর্দশাগ্রস্ত ঋণে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষে এ ধরনের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে, যা ব্যাংক খাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে ডিস্ট্রেসড ঋণের নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই। সাধারণভাবে যেসব ঋণ থেকে আয় আসে না বা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ হয় না, সেগুলোকে এ শ্রেণিতে ধরা হয়। তবে পুনঃতফসিল করা ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ হলে সেগুলোকে ডিস্ট্রেসড ঋণ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয় বলেও জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সংস্কার/ইএমই

 

সম্পর্কিত খবর

ইসলামী ব্যাংককে ৬ হাজার ৫০০ কোটির সহায়তা বাংলাদেশ ব্যাংকের

তারল্য সংকট মোকাবিলা এবং গ্রাহকদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে আরও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার দেওয়া এই সহায়তাসহ গত তিন দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে মোট ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটি।

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা ফিরছে : কমছে টাকা উত্তোলনের চাপ

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের পর ব্যাংকটির কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। কয়েক দিন ধরে গ্রাহকদের মধ্যে থাকা উদ্বেগ অনেকটাই কমেছে। ফলে নগদ অর্থ উত্তোলনের চাপ কমার পাশাপাশি আবারও মেয়াদি আমানত (এফডিআর/এমটিডিআর) হিসাব চালু করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন

ইসলামী ব্যাংকে নিরপেক্ষ বোর্ডের আশ্বাস : সৎ ও গ্রহণযোগ্য পর্ষদ চায় গ্রাহকরা

ইসলামী ব্যাংকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের নবনিযুক্ত প্রশাসক মোহাম্মদ জহির হোসেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সীমিত সময়ের জন্য প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল : দায়িত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক

আমানতকারীদের স্বার্থ, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। পর্ষদের সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক