অনুসরন করুন :
আল-কুরআন

আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯

আল কুরআন (আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯) ৩০. এগুলো (হজ্বের বিধান)। এ ছাড়া যে, আল্লাহ এবং পবিত্র (স্থান ও অনুষ্ঠান) সমূহের প্রতি সম্মান দেখাবে, তার প্রভ...

বিস্তারিত
আল-হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন

সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান মাখযূমী রা. আব্বাদ ইবনু তামীম তৎপিতৃব্য আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয...

বিস্তারিত
সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো

নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো। নিঃসন্দেহে এই সরকার একটি বিপ্লবোত্তর সরক...

বিস্তারিত

যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক চাপে আবার বিক্ষোভে উত্তাল ইসলামী ইরান

ছবি : সংগৃহীত

সংস্কার ১০ জানুয়ারী ২০২৬: যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ভরা ২০২৫ সাল শেষ হওয়ার পর নতুন বছরের শুরুতেই আবার বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। ২০২৫ সালের শেষ সপ্তাহ থেকে ২০২৬ সালের প্রথম দিনগুলো পর্যন্ত রাজধানী তেহরানসহ মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের একাধিক শহরে চলমান প্রতিবাদ দেশটির শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

২০২৫ সাল ইরানের জন্য ছিল অত্যন্ত অস্থির। ওই বছর ইসরাইল টানা ১২ দিন ইরানে সামরিক হামলা চালায়। এতে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হন এবং সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ফোরদো, ইস্পাহান ও নাতাঞ্জের পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এসব হামলা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি অর্থনীতি ও জনমনে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

এই প্রেক্ষাপটে বছরের শেষ দিকে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ইরানে বিক্ষোভ নতুন নয়। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশটিতে ছোট-বড় বহু প্রতিবাদ হয়েছে। কখনো সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা, আবার কখনো অর্থনৈতিক সংকট এসব আন্দোলনের মূল কারণ হয়ে উঠেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা, পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সম্মিলিত প্রভাব। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতা এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞা সরকারের অবস্থানকে আরও কঠোর করেছে।

টানা ১২ দিনের বিক্ষোভে পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হচ্ছে। এ সময় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন ও পুলিশের কয়েকটি মোটরবাইকে আগুন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারের সমর্থনেও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছে।

সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বিক্ষোভকারীদের দাঙ্গাবাজশত্রুর মিত্র আখ্যা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ ইরানের বর্তমান সংকটের গভীরতাই তুলে ধরছে।

২০২৫ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভের সূচনা হয় ব্যবসায়ী ও বাজার মালিকদের ধর্মঘট দিয়ে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় তারা দোকানপাট বন্ধ করে প্রতিবাদ জানায়। এক বছরের ব্যবধানে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মূল্য প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। একই সঙ্গে বেকারত্ব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৫ শতাংশে। অতীতেও অর্থনৈতিক কারণে ইরানে বিক্ষোভ হয়েছে। ২০০৮ সালে ভ্যাট বৃদ্ধির প্রতিবাদে তেহরানের বাজার এলাকায় আন্দোলন হয়, পরে সরকার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হয়। ২০১০ সালে আয়ের ওপর কর বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও বিক্ষোভের মুখে সরকার পিছু হটে।

ইরানের অর্থনৈতিক সংকটের জন্য নিষেধাজ্ঞা নাকি দুর্বল শাসনব্যবস্থা দায়ী, এই বিতর্ক দীর্ঘদিনের। বাস্তবে দেশটির অর্থনীতি কাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে। ১৯৮০ সালের পর বিপ্লবী আদর্শকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়নি। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইন ও নীতিমালা আধুনিক না হওয়ায় ইরান বৈশ্বিক বাজার থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, ফলে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব আরও তীব্র হয়।

চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বও প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। চীনের সঙ্গে ২৫ বছরের ৪০০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি এবং ২০২৫ সালে রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা চুক্তি সত্ত্বেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরেনি বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ইরানে দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভে শোনা গেছে, গাজা নয়, লেবানন নয়, ইরানের জন্য আমার জীবন। এই স্লোগান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গোষ্ঠীতে ইরানের সমর্থনকে জাতীয় সম্পদের অপচয় হিসেবে দেখার ইঙ্গিত দেয়। তবে ২০২৫ সালের পর থেকে লেবানন, সিরিয়া, গাজা ও ইয়েমেনে ইরানের প্রভাব কমেছে। এমনকি সিরিয়াকে দেওয়া সহায়তার বিপরীতে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার ফেরত চাওয়ার দাবিও উঠেছে, যদিও সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, অভ্যন্তরীণ সমস্যাও অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দায়ী। এটি শাসনব্যবস্থার ভেতরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে ইরানের নেতৃত্ব বিক্ষোভ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব আংশিকভাবে ব্যর্থতা স্বীকার করলেও নিরাপত্তা বাহিনী বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা বলছে। এতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে এবং সরকারের সঙ্গে সমাজের দূরত্ব আরও গভীর হচ্ছে।

এর পাশাপাশি ইসরাইলের সামরিক আত্মবিশ্বাস ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ইরানের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। ইসরাইল প্রকাশ্যেই বলছে, তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, এসব চাপ ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দীর্ঘমেয়াদে ইরানের শাসনব্যবস্থার অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। যদিও তাৎক্ষণিক পরিবর্তন নাও আসতে পারে, তবে বড় ধরনের রাজনৈতিক রূপান্তরের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সংস্কার/ইএমই

সম্পর্কিত খবর

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত : নিহত সব আরোহী

পাকিস্তানের মুজাফফরাবাদের কাছে দেশটির সেনাবাহিনীর এভিয়েশনের একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বুধবার (১০ জুন) বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা সব সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখা (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আইএসপিআরের ভাষ্য অনুযায়ী,

হরমুজ সংকটের স্থায়ী সমাধানে রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে দেশটির রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা তেহরানের নীতিগত সিদ্ধান্তে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ইজাদি বলেন, ইরান চায় হরমুজ প্রণালির

২০২৭ হজের সময়সূচি প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২৭ সালের (হিজরি ১৪৪৮) পবিত্র হজের পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে। রোববার মন্ত্রণালয়ের হজ-১ শাখা থেকে এ সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ২৯ মে সৌদি আরবের জেদ্দায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমের সময়সূচি ঘোষণা করে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়।

লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা হুতিদের

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, এ সমুদ্রপথে কোনো ইসরায়েলি জাহাজ দেখা গেলে তা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। গোষ্ঠীটির সশস্ত্র শাখা জানিয়েছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান আরও জোরদার