আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯
আল কুরআন (আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯) ৩০. এগুলো (হজ্বের বিধান)। এ ছাড়া যে, আল্লাহ এবং পবিত্র (স্থান ও অনুষ্ঠান) সমূহের প্রতি সম্মান দেখাবে, তার প্রভ...
বিস্তারিতনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন
সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান মাখযূমী রা. আব্বাদ ইবনু তামীম তৎপিতৃব্য আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয...
বিস্তারিতবাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো
নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো। নিঃসন্দেহে এই সরকার একটি বিপ্লবোত্তর সরক...
বিস্তারিত
ছবি : সংগৃহীত
সংস্কার ৯ জানুয়ারী ২০২৬: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্র সংস্কারসংক্রান্ত গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে সক্রিয় হলেও বহুল প্রত্যাশিত গণভোট নিয়ে তাদের নীরবতা সরকারকে উদ্বিগ্ন করছে। নির্বাচন নিয়ে সরকার আশাবাদী থাকলেও গণভোটে দলগুলোর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা মনে করছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করা শুধু সরকারের নয়, রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্রকামী মানুষেরও নৈতিক দায়িত্ব। তবে এখনো রাজনৈতিক দলগুলোর স্পষ্ট অবস্থান না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল গণভোটের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান পরিষ্কার করে নি। বরং কয়েকটি জেলা ও উপজেলায় বড় দলের কিছু নেতার ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনার জন্য অশুভ ইঙ্গিত বলে মনে করছেন তারা। তাদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত দ্রুত নিজ নিজ অবস্থান স্পষ্ট করা।
অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে সরকারের প্রচার দুর্বল। রাষ্ট্রের প্রচারমাধ্যম সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকায় জনমত গঠনের প্রধান দায়িত্ব সরকারেরই বেশি। পাশাপাশি এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের সমন্বয়ের ঘাটতিও রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণভোটের সফলতার ওপর সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ভর করছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সক্রিয় করতে সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে।
গত বছরের ২৫ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদ সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের লক্ষ্যে ‘গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর খসড়ার অনুমোদন দেয়। এতে গণভোটের প্রক্রিয়া, প্রস্তুতি ও ভোট গণনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের পৃথক ব্যালটে একটি প্রশ্ন থাকবে, ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং এতে অন্তর্ভুক্ত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?’
এই প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে চারটি প্রস্তাবে সম্মতি এবং ‘না’ ভোট দিলে সবগুলো প্রস্তাব বাতিল বলে গণ্য হবে। প্রস্তাবগুলো হলো, ১) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠনের নতুন প্রক্রিয়া। ২) ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষসহ দ্বি-কক্ষ সংসদ ব্যবস্থা এবং সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের বাধ্যতামূলক অনুমোদন। ৩) প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা (সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ), রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা। ৪) রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য অনুযায়ী জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার বাস্তবায়ন।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, গণভোট প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য জরুরি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন। সংবিধান সংশোধন ও জনগণের সুস্পষ্ট সম্মতির প্রয়োজন হওয়ায় গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। গণভোট ব্যর্থ হলে জুলাইয়ের প্রত্যাশা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে দেশকে মুক্ত করেছেন। তাদের দায়মুক্তি নিশ্চিত করা এবং সে লক্ষ্যে আইন প্রণয়নও প্রয়োজন। জুলাইকে নিরাপদ রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষায় গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও বড় ভূমিকা রাখতে হবে। তবে এখনো দলগুলোর সক্রিয় প্রচার চোখে পড়ছে না। এতে নির্বাচন কমিশনকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো এখনো গণভোটের পক্ষে বা বিপক্ষে আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামেনি। সরকারের দিক থেকেও দৃশ্যমান উদ্যোগ কম। অথচ গণভোট সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও গর্বের বিষয়। এটি সফল করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের কার্যকর যোগাযোগ প্রয়োজন। সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সব রাজনৈতিক দলকেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার চালাতে হবে এবং এর সুফল জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। ‘না’ জয়ী হলে দেশে আবার ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পথ খুলে যেতে পারে, এই বিষয়টি সবাইকে বোঝাতে হবে।
বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার চালাবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও নির্বাচনি প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে দলীয়ভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মাঠে নামবে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম বলেন, একদিনে নির্বাচন ও গণভোট হওয়ায় প্রচারের প্রধান দায়িত্ব সরকারের। তবে দলীয় কর্মসূচিতে তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলছেন এবং নির্বাচনি প্রচার জোরদার হলে গণভোটের প্রচারও বাড়বে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন জানান, তাদের দল গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করতে সর্বোচ্চ প্রচার চালাবে। নির্বাচনি প্রতীকের পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দেশব্যাপী প্রচার করা হবে।
গণভোটের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের পথ বন্ধ করার লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় মসজিদ, মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো থেকে গণভোটের পক্ষে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনকেও এ কাজে যুক্ত করা হবে। ধর্ম উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেন বলেন, গণভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রবণতা বন্ধ হবে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ভবিষ্যতে দেশে আর কোনো ফ্যাসিস্ট শাসক তৈরি হবে না। আগামী ৫০ বছরের বাংলাদেশের পথরেখা নির্ধারণে এই গণভোট গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংস্কার/ইএমই
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকায় ক্যারাভ্যান নামাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এই প্রচারণা চালানো হবে। মঙ্গলবার বেলা ৩টায় বাংলামোটরে এনসিপির পার্টি অফিসের সামনে ক্যারাভ্যানের উদ্বোধন করা হবে। এতে উপস্থিত থাকবেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং এনসিপির
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে প্রভাবমুক্ত রাখতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ছাত্র সংসদসহ দেশের কোনো সংগঠনের নির্বাচন আয়োজন না করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। সোমবার ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের
মুসলিম পারিবারিক আইন সংক্রান্ত এক রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয় বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতেই দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ হবে। একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া ২৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, মুসলিম পারিবারিক আইনে কোথাও সরাসরি স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। দলটির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এ তথ্য জানিয়েছেন। সোমবার ১২ জানুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, জোট গঠনের জন্য এনসিপি অনেক ছাড় দিয়েছে।