আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯
আল কুরআন (আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯) ৩০. এগুলো (হজ্বের বিধান)। এ ছাড়া যে, আল্লাহ এবং পবিত্র (স্থান ও অনুষ্ঠান) সমূহের প্রতি সম্মান দেখাবে, তার প্রভ...
বিস্তারিতনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন
সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান মাখযূমী রা. আব্বাদ ইবনু তামীম তৎপিতৃব্য আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয...
বিস্তারিতবাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো
নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো। নিঃসন্দেহে এই সরকার একটি বিপ্লবোত্তর সরক...
বিস্তারিত
ছবি : সংগৃহীত
সংস্কার ০১ জানুয়ারী ২০২৬: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকতেই বলেছিলেন ‘এই দেশেই আমার জন্ম, এই দেশেই আমার মৃত্যু হবে, এই দেশের মানুষের মাঝেই আমি বাঁচতে চাই।’ দেশ ও দেশের মানুষের জন্য যিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন, নানা প্রলোভন উপেক্ষা করে যিনি কখনো আপোষ করেন নি, সেই নেত্রীকে বিদায়ের মুহূর্তে দেশের মানুষ উপহার দিয়েছে হৃদয় নিঙড়ানো ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত তার জানাজায় যেদিকেই চোখ যায়, শুধু মানুষের ঢল। যাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন, সেই কোটি মানুষের চোখের পানি, দোয়া ও ভালোবাসায় চিরবিদায় নেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
কোটি মানুষের অংশগ্রহণে জানাজার পুরো এলাকা ছিল শোকে স্তব্ধ। জনসমাগম ছিল এতটাই বেশি যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। যেন একটি কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল পুরো বাংলাদেশ। দল-মত নির্বিশেষে মানুষের এই ঢল প্রমাণ করেছে, আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মানুষের হৃদয়ে কত গভীর জায়গা করে নিয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে গোটা দেশ। আর গতকাল বুধবার তার জানাজায় অংশ নিতে সারাদেশ থেকে ছুটে আসেন কোটি মানুষ। তিনি বিএনপির নেত্রী হলেও তার নেতৃত্বগুণ, ব্যক্তিত্ব, আচরণ ও দূরদৃষ্টির কারণে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের নেত্রী। তাই তার মৃত্যু ছুঁয়ে যায় সব বয়সী, সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে।
জানাজায় অংশ নেন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে যুবক-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সবাই। উপস্থিত ছিলেন আলেম-ওলামা, মুফতি, পীর-মাশায়েখ, ইসলামী স্কলার, ডান-বাম-ইসলামী ধারার রাজনৈতিক নেতাকর্মী, কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক, ব্যবসায়ীসহ সমাজের সব স্তরের মানুষ। জানাজা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শুরু হলেও মানুষের বিস্তৃতি ছড়িয়ে পড়ে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে আগারগাঁও, বিজয় সরণী, জাহাঙ্গীর গেট, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, মিরপুর সড়ক, শ্যামলী, কলাবাগানসহ কয়েক কিলোমিটার এলাকায়। রাজধানীর বাইরেও দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা এবং বিশ্বের নানা দেশে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বেলা ২টায় জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও বিপুল জনসমাগমের কারণে তা শুরু হয় বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে। সকাল থেকেই মানিক মিয়া এভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। সকাল ১০টার আগেই এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। সময় যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে মানুষের সংখ্যা। কারওয়ান বাজার, আগারগাঁও, বিজয় সরণী, মিরপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বহু মানুষ পায়ে হেঁটেই জানাজায় অংশ নেন। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর ও সদরঘাটেও দেখা যায় দলে দলে মানুষ ঢাকায় আসছেন জানাজায় যোগ দিতে।
ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, নাটোরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষ জানান, প্রিয় নেত্রীর শেষ বিদায়ে শরিক না হয়ে থাকতে পারেননি তারা। অনেকেই রাত কাটিয়েছেন স্টেশন ও ফুটপাথে, শুধু জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য। কোটি মানুষের এই মহাসমুদ্রে সংসদ ভবন এলাকা ও আশপাশের সড়ক, ফুটপাথ, অলিগলি এমনকি উড়ালসড়কও ভরে যায়। সবাই দাঁড়িয়ে, কেউ বসে, কেউ চোখের পানিতে দোয়া পড়ে শেষ বিদায় জানান নেত্রীকে। অনেকেই বলেন, এমন জানাজা তারা জীবনে দেখেন নি। পুরান ঢাকার সত্তরোর্ধ্ব ব্যবসায়ী হাজী আবদুল লতিফ বলেন, ১৯৮১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজা দেখেছিলাম। ভেবেছিলাম, আর এমন দৃশ্য দেখব না। আজ ৪৪ বছর পর তাঁর স্ত্রীর জানাজায় এসে মনে হচ্ছে ইতিহাস ফিরে এসেছে।
জানাজার ঠিক আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের কান্নাবিজড়িত বক্তব্য এবং পরে তারেক রহমানের দোয়ার আহ্বানে পুরো এলাকা নীরব হয়ে যায়। শোকের ভারে যেন স্তব্ধ হয়ে পড়ে মানিক মিয়া এভিনিউ। জানাজায় নারীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। মূল স্থানে প্রবেশ সীমিত থাকলেও নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে হাজারো নারী অশ্রুসজল চোখে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। বেলা ৩টা ৩ মিনিটে জানাজা শুরু হয়। জানাজা পরিচালনা করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। জানাজার আগে নজরুল ইসলাম খান বেগম খালেদা জিয়ার জীবন, সংগ্রাম ও ত্যাগের কথা তুলে ধরেন। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, তারেক রহমান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বুদ্ধিজীবী ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও জানাজায় অংশ নেন।
বিদেশি অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। চীন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ ৩২টি দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধি জানাজা প্রত্যক্ষ করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ইন্তেকালের পর বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ সেখানে রাখা হয়। বুধবার সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে লাল-সবুজে মোড়ানো গাড়িতে করে কফিন নেওয়া হয় গুলশানে তারেক রহমানের বাসায়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে সকাল ১১টা ৫ মিনিটে কফিন নিয়ে যাত্রা শুরু হয় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার উদ্দেশে।
জানাজার আগে তারেক রহমান সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে কারও কাছে কোনো দেনা বা কষ্ট থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মরদেহ নেওয়া হয় জিয়া উদ্যানে। বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়। বড় ছেলে তারেক রহমান নিজ হাতে মাকে কবরে শায়িত করেন। দাফন শেষে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। জানাজা ও দাফনকে ঘিরে সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান এলাকায় মঙ্গলবার রাত থেকেই ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কোটি মানুষের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় এভাবেই ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জানাজায় চিরবিদায় নিলেন আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
সংস্কার/ইএমই
আজ পহেলা বৈশাখ। জীর্ণ-পুরাতনকে পেছনে ফেলে নতুনের প্রত্যাশা নিয়ে শুরু হলো বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। ঋতুচক্রের আবর্তনে আগত এই দিনটি বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে নতুন আশা ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে এসেছে নতুন বছর।
সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধের মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি আইনে রূপ না পেয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকারিতা হারিয়েছে। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ, তথ্য অধিকার এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপ দিতে জাতীয় সংসদে আজ মোট ২০টি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে সকালে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ১০টি বিল পাস হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনের সকালের বৈঠকে উত্থাপিত বিলগুলোর ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তা
স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১ ভোট।