অনুসরন করুন :
আল-কুরআন

আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯

আল কুরআন (আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯) ৩০. এগুলো (হজ্বের বিধান)। এ ছাড়া যে, আল্লাহ এবং পবিত্র (স্থান ও অনুষ্ঠান) সমূহের প্রতি সম্মান দেখাবে, তার প্রভ...

বিস্তারিত
আল-হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন

সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান মাখযূমী রা. আব্বাদ ইবনু তামীম তৎপিতৃব্য আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয...

বিস্তারিত
সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো

নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো। নিঃসন্দেহে এই সরকার একটি বিপ্লবোত্তর সরক...

বিস্তারিত

রাষ্ট্রপতি ও সংসদ উপনেতা পদ নিয়ে সিদ্ধান্তে সময় নিচ্ছে সরকার

ছবি : সংগৃহীত

সংস্কার ১৪ মার্চ ২০২৬: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মন্ত্রিসভা গঠন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং সংসদে চিফ হুইপ ও ছয় হুইপ নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এখন বাকি রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং সংসদে সরকারি দলের উপনেতা নির্ধারণ। ফলে এই দুই পদ নিয়েই রাজনৈতিক অঙ্গনে ও জনমনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, সংসদ উপনেতা নিয়ে এখনই খুব বেশি তাড়াহুড়ো নেই সরকারি দলে। এর আগে ২০০১ সালে ক্ষমতায় থাকার সময় এবং ২০১৮ সালে বিরোধী দলে থাকার সময়ও বিএনপি সংসদ উপনেতা করেনি।

তবে রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশি আলোচনা চলছে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কতদিন দায়িত্বে থাকবেন, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন নাকি তাকে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ করা হবে, এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে তাকে অপসারণ করতে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।

২০০১ সালের বিএনপি সরকারের সময় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছিলেন। তবে সেই ঘটনা সরকারকে বিব্রত করেছিল বলে মনে করা হয়। তাই আপাতত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসনের পথে যেতে রাজি নয় বিএনপি। তবে দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে, সরকার চাইলে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে পারেন।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখছে বিএনপি। প্রথমত, দলটি এখন কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় না। দ্বিতীয়ত, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির হিসাব-নিকাশ রয়েছে। তৃতীয়ত, সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি রাষ্ট্রপতিকে সরানোর দাবি তুলেছে, তাই তাদের চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নিতে চায় না সরকার।

আরেকটি হিসাব হলো, এখন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বর্তমান সরকারের মেয়াদের সঙ্গেই তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। অথচ এরপর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। ফলে অন্তত ছয় মাস পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হলে পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিএনপির নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিই দায়িত্বে থাকবেন এমন আলোচনাও রাজনৈতিক মহলে রয়েছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি পদে অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো নেতাকে বসানোর সম্ভাবনাই বেশি। ত্রয়োদশ সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে সম্মানের চোখে দেখেন এবং অধিবেশনে সভাপতিত্বের জন্য তার নাম প্রস্তাবও করেছিলেন। তবে তিনি অসুস্থ থাকায় সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

কিছু সূত্রের মতে, শারীরিক কারণে রাষ্ট্রপতি পদে না হলেও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রী পদমর্যাদার কোনো দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। একইভাবে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকেও সমমর্যাদার কোনো পদ দিয়ে সম্মানিত করা হতে পারে। সংসদের স্পিকার পদে ড. মঈন খানের নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে স্পিকার করা হয়। রাষ্ট্রপতি পদেও ড. মোশারররফ হোসেনের নাম বেশি আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হবে তা প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কেউ নিশ্চিতভাবে জানেন না।

এদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। আবার অনেকে বলছেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কেও গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মতে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের সময়ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনেকটা চমক দেখিয়েছেন। যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা আগে খুব বেশি আলোচনায় ছিলেন না। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও এমন চমক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গঠিত মন্ত্রিসভায় আলোচনায় থাকা বেশিরভাগ বিএনপি ও শরিক দলের নেতাই স্থান পেয়েছেন। পরে মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান এবং রুহুল কবির রিজভীকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা করা হয়। ফলে বিএনপির প্রবীণ তিন নেতা ড. খন্দকার মোশারররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আবদুল মঈন খান এখনো সরকারের বাইরে আছেন। তাদের কোথায় দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। বর্তমানে মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী। সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার হয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

ড. খন্দকার মোশারররফ হোসেন কুমিল্লা-১ ও ২ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় রাষ্ট্রপতির মতো সম্মানজনক পদ তার প্রাপ্য, এমন আলোচনা রয়েছে তার ঘনিষ্ঠদের মধ্যে। অন্যদিকে ড. আবদুল মঈন খান নরসিংদী-২ আসন থেকে চারবার এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঢাকা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী একজন রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ দুইবার দায়িত্ব পালন করা যায়। শেখ হাসিনা সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পান মো. সাহাবুদ্দিন, যার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত।

২০২৪ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা আন্দোলন করলেও তখন তাকে অপসারণ বা পদত্যাগের ঘটনা ঘটেনি। তবে গত ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি সরে যেতে চান। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি নিজেকে অপমানিত মনে করছেন এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করলেও পদ ছাড়তে আগ্রহী।

সংস্কার/ইএমই

সম্পর্কিত খবর

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ যাচাইয়ে ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে জয়নাল আবদিনকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, মির্জা আব্বাস, সালাহউদ্দিন আহমদ

জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা নিবেদন

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬ সকাল সোয়া ১০টার দিকে

রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে সংসদে হট্টগোল : ওয়াকআউট বিরোধী দলের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে সংসদে হট্টগোল ও ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটেছে। অধিবেশনে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ঘোষণা দিলে বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে এর বিরোধিতা করেন

ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন : ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। একই সঙ্গে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামাল। সংসদের কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে