আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯
আল কুরআন (আল— হজ্ব : ৩০ থেকে ৩৯) ৩০. এগুলো (হজ্বের বিধান)। এ ছাড়া যে, আল্লাহ এবং পবিত্র (স্থান ও অনুষ্ঠান) সমূহের প্রতি সম্মান দেখাবে, তার প্রভ...
বিস্তারিতনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন
সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান মাখযূমী রা. আব্বাদ ইবনু তামীম তৎপিতৃব্য আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয...
বিস্তারিতবাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো
নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলো। নিঃসন্দেহে এই সরকার একটি বিপ্লবোত্তর সরক...
বিস্তারিত
ছবি : সংগৃহীত
সংস্কার ২৯ এপ্রিল ২০২৬ বুধবার: দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্প্রতি উদ্বোধন হলেও, প্রকল্পটি ঘিরে ব্যয়, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিবেশী ভারতসহ এশিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় এই প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেশি, যা ভবিষ্যতে দেশের জন্য বড় অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, রূপপুর প্রকল্পটি শুরু থেকেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত। ‘বালিশকাণ্ড’সহ একাধিক বিতর্কের পর সর্বশেষ পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং যুক্তরাজ্যপ্রবাসী টিউলিপ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার পাচারের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান রোসাটম এই অর্থের বিনিময়ে প্রকল্পের ব্যয় ১২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়িয়েছে। অথচ একই ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অন্যান্য দেশে ৪ বিলিয়ন ডলারের মধ্যেই নির্মাণ সম্ভব। ফলে এই প্রকল্পের ব্যয় এখন জাতীয় অর্থনীতির ওপর বড় চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্প ব্যয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকমতো সরবরাহ করছে না রোসাটম, যা সন্দেহজনক।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রূপপুর প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা উচিত। তার মতে, কোনো প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয় এবং বর্তমান সরকারের উচিত বিষয়টি গভীরভাবে অনুসন্ধান করা।
এদিকে মঙ্গলবার রূপপুর কেন্দ্রের একটি ইউনিটে জ্বালানি লোড করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগস্ট থেকে প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।
ব্যয় তুলনায় বড় পার্থক্য: গবেষণায় দেখা গেছে, রূপপুরে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় প্রায় ৯.৩৬ সেন্ট, যেখানে ভারতের কুদানকুলাম প্রকল্পে তা ৫.৩৬ সেন্ট। অর্থাৎ রূপপুরে ব্যয় প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি। একইভাবে কিলোওয়াটপ্রতি নির্মাণ ব্যয় রূপপুরে ৫,২৭১ ডলার, যা ভারতের তুলনায় অনেক বেশি।
বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ব্যয় সাধারণত ১,৫৫৬ থেকে ৫,০৮১ ডলারের মধ্যে হলেও, রূপপুরে তা প্রায় ৫,৮৯০ ডলার। এমনকি রাশিয়াতেও একই প্রযুক্তির ব্যয় কম।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট: রোসাটম ফিনল্যান্ডে ১,২০০ মেগাওয়াট কেন্দ্র নির্মাণ করছে ৬ বিলিয়ন ডলারে, আর তুরস্কে ৪,৮০০ মেগাওয়াট কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১৫.৩৬ বিলিয়ন ডলার—যেখানে ইউনিটপ্রতি ব্যয় রূপপুরের তুলনায় কম।
অর্থায়ন ও মোট ব্যয়: প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১,২৬৫ কোটি ডলার, যার ৯০ শতাংশ ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া। বিভিন্ন খাতে ব্যয় যোগ করে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩.২০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা)।
তদন্তে ধীরগতি: দুদকের তদন্ত প্রায় ১৬ মাস ধরে চললেও এখনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। কমিশন না থাকায় সংস্থাটির কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। বিদেশ থেকে তথ্য সংগ্রহে জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় নথির অভাবে তদন্ত এগোচ্ছে ধীরগতিতে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। পরে আদালত দুদকের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে রুল জারি করে। এরপর দুদক তদন্ত শুরু করলেও এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন: ‘গ্লোবাল ডিফেন্স কর্প’ নামের একটি সংস্থার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রূপপুর প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়ের আড়ালে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করা হয়েছে, যা মালয়েশিয়ার ব্যাংকের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে। এতে শেখ হাসিনা, জয় ও টিউলিপ সিদ্দিকীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়।
বিদ্যুৎ সরবরাহে সম্ভাবনা: সব বিতর্কের মাঝেও আশা করা হচ্ছে, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে দেশের মোট বিদ্যুতের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করতে পারবে এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প একদিকে যেমন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে ব্যয়বৃদ্ধি ও দুর্নীতির অভিযোগ এটিকে বিতর্কিত করে তুলেছে। এখন এই প্রকল্পের স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংস্কার/ইএমই
তারল্য সংকট মোকাবিলা এবং গ্রাহকদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে আরও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার দেওয়া এই সহায়তাসহ গত তিন দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে মোট ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটি।
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের পর ব্যাংকটির কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। কয়েক দিন ধরে গ্রাহকদের মধ্যে থাকা উদ্বেগ অনেকটাই কমেছে। ফলে নগদ অর্থ উত্তোলনের চাপ কমার পাশাপাশি আবারও মেয়াদি আমানত (এফডিআর/এমটিডিআর) হিসাব চালু করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন
ইসলামী ব্যাংকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের নবনিযুক্ত প্রশাসক মোহাম্মদ জহির হোসেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সীমিত সময়ের জন্য প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আমানতকারীদের স্বার্থ, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। পর্ষদের সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক