সম্পাদকীয়

মানুষ আল্লাহর সেরা জীব। আশরাফুল মাখলুকাত। আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আ.......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-কুরআন

(২৩৯ ডিসেম্বর ২০১৮ সংখ্যাব পর)১৮. তুমি ধারণা করবে তারা জাগ্রত, অথচ তারা ঘুমন্ত। আমরা তাদের পাশে পরিব.......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-হাদীস

হযরত আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তো.......

বিস্তারিত পড়ুন

সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমনে ইমাম-খতীবদের ভূমিকা

 

(মে ২০১৭, ২২৩ সংখ্যা পর) 

অর্থাৎ হে রাসূল! আমি বিশ্ব সৃষ্টির প্রতি রহমত নাযিল করতে চেয়েছিলাম, তাদের প্রতি দয়া করতে প্রয়াসী হয়েছিলাম। তাই আমি আপনাকে পথ প্রদর্শক রূপে প্রেরণ করেছি। আপনাকে জীবন্ত রহমত রূপে পাঠিয়েছি।

শান্তির মূর্ত প্রতীক মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন শান্তির অগ্রদূত। তিনি সর্বদা বিগ্রহ এড়িয়ে চলতেন। সকলের সাথে শান্তিতে বসবাসকেই পছন্দ করতেন। তার নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বেও তিনি শান্তির অগ্রদূত ছিলেন। এর প্রমাণ স্বরূপ আমরা দেখতে পাই হিলফুল ফুযুল। জাহেলী যুগে তিনি বনু হাশেম, বনু আব্দুল মোত্তালিব, বনু আসাদ, বনু জোহরা ও বনু তামীমের মধ্যে সন্ধি স্থাপন করেছিলেন। তিনি মাত্র ২৫ বছর বয়সে অত্যন্ত বিচক্ষনতা ও হিকমতের সাথে কাবা ঘরের কোনে হাজরে আসওয়াদ প্রস্তর স্থাপন পূর্বক আরবদের বিবাদমাণ শান্তি প্রিয়তার বিরাট দৃষ্টান্ত রেখে ঐতিহাসিক হুদায়বিয়ার সন্ধি করেন। হুদায়বিয়ার সন্ধির পর আসে খোজায়াহ গোত্রের সাথে সন্ধির কথা। বনু খোজায়াহ তখন জাহেলিয়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। এতদসত্ত্বেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সাথে পর¯পরের সাহায্যের বিনিময়ে সন্ধি করেন। এতে তার যুদ্ধের চেয়ে শান্তি প্রিয়তার প্রমাণই বেশি পাওয়া যায়। এছাড়া তিনি মক্কা বিজয়ের দিনে ইচ্ছা করলে কুরাইশ নরপতিদের প্রতিশোধ নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি যেহেতু শান্তির অগ্রদূগত, তাই তিনি সকলকে সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শন করলেন। 

জিহাদ কি ও কেন:

জীবনের সর্বক্ষেত্রে শা’আইরে দ্বীন তথা দ্বীনের বৈশিষ্ট্য সমূহ জিন্দা করা এবং ইসলামী বিধি বিধান ও তার অনুশাসন মেনে চলা যেমন একজন মুমিনের প্রধানতম দায়িত্ব, অনরূপ ভাবে দ্বীন রক্ষা করা ও প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি কারীদেরকে প্রতিহত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ব্যবস্থা গড়ে তোলাও একজন মুসলমানের অন্যতম কর্তব্য। এমনকি প্রাণের বিনিময়ে হলেও আল্লাহর যমীনে আল্লাহর দ্বীন রক্ষা ও প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্ন নিয়োগ করা অবশ্য পালনীয় কর্তব্য এবং একান্ত প্রিয় আমল। তাই জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। কেননা, আল্লাহর বান্দাদেরকে মানুষের গোলামী হতে মুক্ত করে এক লা শারীক আল্লাহর বন্দেগীতে নিয়ে আসার বিভিন্ন ধর্ম ও পথের জুলুম আদর্শ বিমুখতা হতে নাজাত দিয়ে ইসলামের ইনসাফ ও ন্যায় ভিত্তিক জীবন ব্যবস্থার সুশীতল ছায়া তলে স্থান দেয়ার এবং নফস ও প্রকৃতি পূজার ক্ষুদ্র ও বৃহৎ পরিসর পিঞ্জির হতে বের করে সীমাহীন অন্তহীনতায় নিয়ে আসার মহান ও কল্যাণময় মাধ্যম হলো জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন:             

তিনি সেই আল্লাহ যিনি তার রাসূলকে হিদায়াত এবং সত্য ধর্ম নিয়ে প্রেরণ করেছেন, যেন এ সত্য ধর্মকে সকল ধর্মের উপর শ্রেষ্ঠত্ত্ব দান করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। (আস-সাফ : ৯)

প্রথমত: আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তা‘য়ালা হযরত রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এবং দ্বীন ইসলামের সত্যতা ঘোষণা করেছেন। 

দ্বিতীয়ত: এ কথাও ঘোষণা করেছেন যে, পবিত্র কুরআন হলো সর্বকালীন মানুষের মুক্তির মহা সনদ, পবিত্র কুরআনই জান্নাত লাভের এবং দোজখ থেকে আত্মরক্ষার পথ নির্দেশক।

 তৃতীয়ত: দুনিয়াতে যত ধর্মই থাকুক না কেন, সব গুলোই বাতিল বলে প্রমাণীত হবে, দ্বীন ইসলামই তার নিজস্ব জৌলুস নিয়ে পৃথিবীতে সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। অন্যান্য সকল ধর্মের এবং যাবতীয় মতবাদের বাতুলতা দিবালোকের ন্যায় সুষ্ঠু ভাবে প্রমাণীত হবে এবং ইসলামই প্রভাব বিস্তার করবে।

চতুর্থত: ইসলামকে বিজয়ী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করার সুনির্দেশ দায়িত্ব নিয়েই হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হয়েছেন। এবং তার প্রেরণের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে।

পঞ্চমত: ইসলামের বিজয়ে যাদের গাত্রদাহ হয় যারা ইসলামের নুরকে অপচেষ্টা অবশেষে স¤পূর্ণভাবে ব্যর্থতায় পর্যবেসিত হবে।

বস্তুত: সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহ তা’য়ালা তার সর্বশেষ ও সর্ব শ্রেষ্ঠ রাসূলকে সমগ্র বিশ্বে মানবজাতির হিদায়াতের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন এবং বিশ্বগ্রন্থ পবিত্র কুরআনকে তার প্রতি নাযিল করেছেন এবং পূর্ণ পরিণত যুক্তি সংগত বাস্তবের অগ্নি পরীক্ষায় বারে বারে পরীক্ষিত জীবন বিধান ইসলামকে সমগ্র মানব জাতির কল্যাণের প্রতীক হিসেবে দান করেছেন। ইসলাম শান্তির র্ধম। ইসলাম চায় সকলের সাথে সুখে বসবাস করুক। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামের সুমহান বাণী প্রচার করেন। তিনি তার বাণী প্রচারে ইসলাম দ্রেুহীদের দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হন। সেই পৌত্তলিক সম্প্রদায় প্রথমে তাকে ঠাট্রা বিদ্রেƒপ করতে থাকে। অতপর তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে তখন তিনি মদিনায় হিজরত করেন। কিন্তু সেখানেও তিনি স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলতে পারলেন না। সেখানে তিনি দু’প্রকার শত্রুর সম্মুখিত হন।

প্রথমত: মক্কার কুরাঈশ বংশীয়রা মদীনায় গিয়ে তাকে সমূলে ধ্বংস করার পায়তারা করে।

দ্বিতীয়ত: ইহুদীচক্র তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তখনই তার উপর ধৈর্য্যরে আয়াত নাজিল হয় ইরশাদ হয়েছে: হে রাসূল! কাফেররা যে সব ভিত্তিহীন কথাবার্তা বলে, আপনি তার উপর সবর অবলম্বন করুন এবং তাদের থেকে সুন্দর ভাবে নিরাপদ দুরত্বে থাকুন। (মুজ্জাম্মেল : ১০)

 কাফেররা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঠাট্রা বিদ্রƒপ করে কখনো গণক, কবি ও উম্মাদ ইত্যাদি বলতো। আল্লাহ তায়ালা তাকে শান্তনা দিয়ে এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারা আপনাকে যত মন্দই বলুক না কেন আপনি সবর অবলম্বন করুন। কাফেরদের অন্যায় আচরণের প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন না। আল্লাহ তায়ালাই তাদের স¤পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। তাই আপনি তাদের সাথে রুক্ষ ব্যবহার করবেন না, তাদেরকে নছীহত করতে থাকুন, ভদ্র ভাবে তাদের থেকে দুরে থাকুন। কিন্তু যখনই কোন ধৈর্যের আয়াত অবতীর্ণ হতো তখন তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার সাহাবীগণের উপর অত্যাচারের মাত্রা দিগুণ বাড়িয়ে দিত। অপর পক্ষে মুসলমানরাও তাদের সংখ্যালঘুতা ও দূর্বলতার কারণে কাফেরদের মোকাবেলা করতে সক্ষম ছিলেন না।

 পূর্বেই বলা হয়েছে, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম সকলের সাথে মিলে মিশে সুখে বসবাস করতে চায়। কিন্তু যখন এর শত্রুরা একে গ্রহণও করে না বরং এর সম্মুখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং ধরা পৃষ্ঠ হতে একে বিলীন করতে চায়, তখন তাদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ ছাড়া কোন গত্যান্তর থাকে না আর এ শক্তি প্রয়োগের উদ্দেশ্য হলো বাতেল শক্তিকে নির্মূল করা, পদদলিত মানবতার পুনরুদ্ধার করা এবং যারা ইসলামের সরল ও সঠিক পথে আসতে ইচ্ছুক তাদেরকে ঐ পথে আনয়ন করা। যেমন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে এবং তোমরা আল্লাহ পাকের পথে যুদ্ধ কর তাদের সাথে যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে।  (বাকারা:১৯০)

সর্ব প্রকার ফেৎনার অবসান এবং আল্লাহর দ্বীন পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত কাফের এবং তাদের দোসরদের সাথে সর্বাত্মক জিহাদ চালিয়ে যাও। অপর এক আয়াতে বলা হয়েছে:  আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক, যতক্ষণ না ভ্রান্তি শেষ হয়ে আল্লাহর হুকুম পূর্ণাঙ্গ ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। (আনফাল: ৩৯)       

আয়াতে বর্ণিত দুটি শব্দ ফেৎনা এবং দ্বীন অতি তাৎপর্যপূর্ণ। আরবী অভিধানে শব্দদ্বয় একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়। দ্বীন অর্থ ইসলাম আর ফেৎনা অর্থ কুফুর শিরক। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, সমস্ত মুসলমানদের কাফেরদের বিরুদ্ধে ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ করতে হবে, যতক্ষণ না কুফর শিরক সমূলে উৎখাত হয়, ইসলাম পূর্ণ প্রতিষ্ঠা হয় এবং ইসলাম ব্যতীত অন্য সব ধর্মের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর রাদি আল্লাহু আনহু ও অন্যান্য সাহাবায়ে কিরাম বলেন, ফেৎনা অর্থ সে সব দুঃখ দুর্দশা ও বিপদ আপদ, যা মক্কার বুকে কাফের কর্তৃক মুসলমানদের প্রতি নিয়মিত ভোগ করতে হয়েছে। আর দ্বীন অর্থ প্রভাব, বিজয়। এক্ষেত্রে আয়াতের তাফসীর হবে, মুসলমানগণ কাফেরদের বিরুদ্ধে ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ করবে, যতক্ষণ না তারা অন্যের অত্যাচার উৎপীড়ন থেকে মুক্তি লাভ করে এবং বিজয়ের মাধ্যমে জালেমদের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

 উপরোক্ত দু’টি আয়াতের সারমর্ম হলো, ইসলাম বিরোধী সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাড়াও এবং জিহাদের মাধ্যমে তাদের মূলোৎপাটন কর। এ ধরা পৃষ্ঠ থেকে তাদের অস্তিত্ত্ব¡ নিশ্চিহ্ন কর এবং ইসলামের ঝান্ডা উড্ডীন কর। তাইতো হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাহমাতুল্লিল আলামীন হওয়া সত্ত্বেও জিহাদ করেছেন এবং এরই মাধ্যমে ইসলামকে ধরার বুকে সকল বাতিল ধর্মের উপর বিজয়ী করেছেন।

আল্লাহ তা’য়ালা জিহাদের মূলনীতি ও তার উদ্দেশ্য স¤পর্কে ইরশাদ করেছেন যে, জিহাদের উদ্দেশ্য আদৌ ব্যক্তিগত শত্রুতা উদ্ধার বা প্রতিশোধ গ্রহণ নয়, কোন প্রকার স্বার্থ উদ্ধার নয় বরং মানবতার বৃহত্তর কল্যাণেই ইসলাম জিহাদের কল্যাণকর বিধান প্রবর্তন করেছে। সমাজ জীবনের অশান্তি দূরীভূত করার লক্ষ্যে বিশ্ব মানবকে যারা সত্য ও ন্যায় থেকে বঞ্চিত করতে চায় তাদের প্রতিরোধ কল্পে সভ্যতার বিকাশ সাধনের প্রয়োজনে সুবিচার কায়েমের তাগিদে ইসলাম জিহাদের বিধান প্রবর্তন করেছে। মাবন দেহে যদি কোন ফোড়া দেখা দেয় আর তা দেহের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করে তখন চিকিৎসক মাত্রই দেহের এ ফোড়াকে অস্ত্রপচার করে অশান্তি দূর করে অসুস্থ দেহকে শান্ত ও সুস্থ করেন, ঠিক তেমনি ভাবে মানব সমাজে যখন অন্যায় অসত্য অনাচার অত্যাচার অবিচার অহরহ হতে থাকে এবং অন্যায়কারীদের দৌরাত্ন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে থাকে তখন ইসলাম জিহাদের নির্দেশ দেয়। এ জন্যেই আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন তোমরা কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না অশান্তি দূরিভূত হয়।

জিহাদ অর্থ আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য বিপক্ষ শক্তির সঙ্গে চরম প্রতিযোগিতা করা। অন্য অর্থে বিপরীত মুখী চরম প্রচেষ্টা। প্রত্যেক ব্যাপারেই প্রচেষ্টা দুই প্রকার একটি প্রাকৃতিক প্রচেষ্টা অপরটি কৃত্রিম প্রচেষ্টা। যা প্রাকৃতিক তা প্রতিনিয়ত একই ভাবে চালু আছে আর যা কৃত্রিম তা মানুষের চেষ্টার উপর নির্ভর করে। যেমন ঠান্ডা ও গরম এর মধ্যে ঠান্ডা আপনা আপনিই হয় আর গরম করার জন্য চেষ্টা লাগে। শিক্ষা ও মুর্খতা এর মধ্যে শিক্ষার জন্য চেষ্টা দরকার আর মুর্খতার জন্য কোন চেষ্টা লাগে না। যেগুলো বিনা চেষ্টায় হয়, ঐ গুলি প্রাকৃতিক আর যেগুলি চেষ্টার দ্বারা হয়, ঐ গুলি কৃত্রিম। এই দুই চেষ্টার মধ্যে যে টানা হেচড়া ওটার নামই জিহাদ। 

যেমন: একটি উড়ো জাহাজ যখন উপর দিয়ে যায় তখন মধ্যাকর্ষণ শক্তির চেষ্টা তাকে মাটিতে নামাবে আর প্লেনের ইঞ্জিনের চেষ্টা তাকে উর্ধ্বে তুলে রাখবে ও চালু রাখবে। ইঞ্জিনের শক্তি ও মধ্যাকষণ এর শক্তির সঙ্গে এই যে টানা হ্যাচড়া অর্থাৎ বিপরীত মুখী শক্তির সঙ্গে মোকাবিলা করে ইঞ্জিন প্লেনকে উর্র্ধ্বে এবং চালু রাখার জন্য যে চেষ্টা করা হয় এটাকেই বলা হয় প্লেনের জিহাদ। প্লেনের জিহাদ কোন ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে নয় তার জিহাদ নিজে টিকে থাকার জন্য। ঠিক তেমনিই মুসলমানদের জিহাদ জাহিলিয়্যাতের সঙ্গে মোকাবেলা করে নিজের জাতিসত্তা সহ টিকে থাকার জন্য। প্লেনের ইঞ্জিন বন্ধ করলে সে যেমন উর্দ্ধে টিকে থাকতে পারে না ঠিক তেমনিই মুসলমান জিহাদ বন্ধ করলে ইসলাম উর্দ্ধে অর্থাৎ উন্নত ও উত্তম ধর্ম হিসেবেও টিকতে পারে না। ইরশাদ হচ্ছে: তোমরা জান মাল দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ কর। (সফ ১১)। (ক্রমশ:)    


লেখক : মাও. আমজাদুল হক খান আরমানী
সংস্কার ২৩৯ ডিসেম্বর ২০১৮