সম্পাদকীয়

আজ ১৪ এপ্রিল। বাংলা সনের প্রথম দিন। পহেলা বৈশাখ। পৃথিবীর কোন বাংলা ভাষাভাষি সমাজে কিছু ঘটুক বা না ঘটুক বাংলাদেশে কিন্তু আজ ঘটবে মহাযজ্ঞ। এই দিনের জন্যে চৈত্রের আগমনের সাথে সাথেই শুরু হয় এই মহা আয়োজন। .......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-কুরআন

৩৭. তার কথার প্রসঙ্গে তার সাথি তাকে বললো; তুমি কি তোমার সেই মহান স্রষ্টার প্রতি কুফুরি করলে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর নোতফা (শুক্রবিন্দু) থেকে, তার পরে মানুষের আকৃতি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কর.......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-হাদীস

হযরত আবু যার রা. হতে বর্ণিত আছে যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির উপর অবশ্য কর্তব্য যে, তার শরীরের প্রত্যেকটি জোড়ের সুস্থতার শোকর স্বরূপ প্রত্যহ সকা.......

বিস্তারিত পড়ুন

শুনতে কি পাও

মুহা: রিয়াজ উদ্দিন

 

শুনতে কি পাও? কান্নার বিষণœ সুর! মজলুমের গগনবিদারী আর্তনাদ! দুর্বল অসহায়ের হাহাকার! চিৎকার! শুনছ না? পাবে! তোমার হৃদয়ের বন্ধ দরজা খুলে দাও। কল্পনার ডানায় ভর করো। কাশ্মীর, ফিলিস্তীন, মায়ানমার, ইরাক, ইরান, সিরিয়াসহ পৃথিবীটা একবার প্রদক্ষিণ কর। তুমি সব শুনতে পাবে। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে নির্যাতিত, নিপীড়িত, শোষিত, বঞ্চিত মজলুম মুসলমানের রক্ত ঝরছে। তাদের তাজা রক্তে লাল হচ্ছে পৃথিবী। মানবতা ডুকরে ডুকরে কাঁদছে। অথচ তুমি শুনছ না? দেখতে চাও সে মলিন চেহারার অসহায় মানুষগুলো? শুনতে চাও তাদের কাতর কণ্ঠের করুণ আবেদন ও মিনতি? তোমার দেশেই দেখার ও শোনার সুযোগ রয়েছে। 

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরের বস্তিগুলো দেখে আস। কক্সবাজারের নির্জন দ্বীপে যাদের বসবাস। যাদের ক্ষুধাকাতর কণ্ঠের করুণ হাহাকার বাতাসে ভেসে বেড়ায়? দেখতে পাবে। চাক্ষুস দেখতে পাবে। আমার বিশ্বাস, সেখানে গেলে তুমি কাঁদবে। তাদের অসহায়ত্ব দেখে। অভাব-অনটন, দুঃখ-কষ্ট ও জীবনযাত্রার নিম্নমান দেখে। আপন জন ও সহায় সম্পত্তি হারানো অসহায় মানুষগুলো দেখে। ইজ্জত আব্রু খোয়ানো মা বোনদের দেখে। মানবতার ভুলুণ্ঠিত পরাজয় দেখে।

 অভাব দেখতে চাও? বন্যা কবলিত হাওর এলাকায় যাও। বনি আদমের দুর্দশার কঠিন ও বাস্তব চিত্র দেখতে পাবে। দেখতে পাবে অভাব কি? একজন অসহায় মায়ের আঁচলে মোছা অশ্রু। অবুজ শিশুর মুখে এক লোকমা খাবার তুলে না দিতে পারার অসহায়ত্বে পিতা-মাতার আর্তনাদ! মর্মবেদনা! এ রকম অসংখ্য অগনিত গরীব, অসহায় ও অবহেলিত মানুষ আছে আমাদের চারপাশে, যাদের খবর তুমি জান না। কেন তুমি তাদের খবর নিতে পারো না? তারা কি তোমার মুসলমান ভাই বোন নয়? তাদের প্রতি তো তোমার রয়েছে বিরাট দায়িত্ব ও কর্তব্য। তুমি বিলাসী জীবন যাপন করবে আর তোমার মুসলমান ভাই বোন মানবেতর জীবন যাপন করবে? এটা কি হয়? তুমি হরেক রকমের খাবার খাবে আর তারা না খেয়ে থাকবে! এটা কিভাবে সম্ভব! তোমার আলমিরা ভর্তি নতুন নতুন ফ্যাশন ও বাহারি ডিজাইনের কাপড়-চোপড় থাকবে আর তারা জীর্ণ-শীর্ণ পোশাক পরবে! এটা কি হতে পারে! তুমি কেন হতে যাবে ভোগবাদীদের প্রধান ভোক্তা। তাদের অনুসারী। অথচ তারা কি করে জানো? বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের জিনিসপণ্য তোমার কাছে বিক্রি করে। আর এ টাকা সাহায্যের নামে তোমার মুসলমান ভাই বোনদের দান করেও তাদের কে ধর্মান্তরিক করে। কখনো কি ভেবেছ? ওরা পারলে তুমি কেন পারবে না? আমি জানি তুমিও পারবে। শুরু কর আজ থেকে। 

প্রিয় পাঠক! তোমার প্রতি আমার ভালবাসা ও আবেগ মিশ্রিত অনুরোধ, দূরের মজলুম মুসলমানের জন্য অন্তত দুয়া কর। আর দেশের মুসলমানদের জন্য দুয়া কর ও সামর্থানুযায়ী সাহায্য কর। আল্লাহ আমাদের সকলকে কবুল করুক। আমীন।

সংস্কার ২৪১ মার্চ ২০১৯