সম্পাদকীয়

মানুষ আল্লাহর সেরা জীব। আশরাফুল মাখলুকাত। আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আ.......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-কুরআন

(২৩৯ ডিসেম্বর ২০১৮ সংখ্যাব পর)১৮. তুমি ধারণা করবে তারা জাগ্রত, অথচ তারা ঘুমন্ত। আমরা তাদের পাশে পরিব.......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-হাদীস

হযরত আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তো.......

বিস্তারিত পড়ুন

গীবত

(মে ২০১৭, ২২৩ সংখ্যার পর)

অপর দু’জন সাহাবী তখন পরস্পর এরূপ আলোচনা করেছিলেন: দেখো! আল্লাহ পাক এর দোষ গোপন করেছিলেন! কিন্তু নিজেই সে তা প্রকাশ করে দিলো এবং কুকুরের মতো অপমানজনক মৃত্যু বরণ করলো।

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়া সাল্লাম তাদেরও আলোচনা শুনছিলেন। কিন্তু তক্ষুণি তিনি কিছু বললেন না। কিছু দূর পর দেখা গেলো পথের পাশে এক মৃত গাধা পড়ে আছে। গলে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন তাঁদের ডেকে বললেনঃ তোমাদেরকে এ মৃত গাধার গলিত লাশ থেকে গোশত খেতে হবে। উভয়ে বিনীত ভাবে আরয করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটা কি করে সম্ভব? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন ইরশাদ করলেন: একটু পূর্বেই তোমরা মাইজের গীবতে লিপ্ত ছিলে। অথচ কারো গীবত করা এই মৃত গাধার গোশত খাওয়ার চেয়েও ঘৃণ্য। অতঃপর রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত মাইজের মর্যাদা সম্পর্কে ইরশাদ করলেন: আল্লাহর কসম মাইজ এখন জান্নাতের মনোরম উদ্যানে বিচরণ করেছে।(আবু দাউদ)

অন্য এক হাদীসে আল্লাহর রাসূল ইরশাদ করেছেন: গীবত যিনা বা অবৈধ যৌনাচারের চেয়েও ঘৃণ্য ও জঘন্য পাপ। সাহাবাগণ আরয করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! এটা কি ভাবে হতে পারে? ইরশাদ হলো: কেননা যিনা থেকে মানুষ তওবা করে কিন্তু গীবত থেকে তওবা করে না। অর্থাৎ সমাজের সকলেই যিনাকে একটি ঘৃণ্য পাপ মনে করে তাই সকলে এ অপরাধ থেকে বাঁচার চেষ্টা করে। কখনও যদি এ অপরাধ সংঘটিত হয়ে যায়, তখন অনুতপ্ত মনে আল্লাহর দরবারে তওবা করে। পক্ষান্তরে গীবতকে যেহেতু কোন পাপই মনে করা হয় না। তাই মানুষ এ থেকে বাঁচার চিন্তাও করে না। ফলে তা যিনার অপরাধকেও অতিক্রম করে যায়। হযরত মায়মূন সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, জীবনে কখনও তিনি কারো গীবত করেননি এবং কোন গীবতের মজলিসে উপস্থিত থাকেননি। (মা’আলেমুত্তানযীল)

শেখ সাদী তাঁর সুপ্রসিদ্ধ গুলিস্তায় লিখেছেন: এক রাতে আমি আমার পিতার সাথে তাহাজ্জুদের নামায পড়ছিলাম। আমাদের পাশে কিছু লোক ঘুমিয়ে ছিলো। আমি বললাম: এরা এমন ভাবে ঘুমিয়ে আছে, মনে হয় যেন মরেই গেছে। এরা যদি উঠে দু’রাকাত নামায  পড়ে নিতো তবে কত ভালো হতো। আমার পিতা বললেন: কিন্তু তুমি যদি নামায না পড়ে ওদের মত ঘুমিয়ে থাকতে তবে কত ভলো হতো। গীবত ও দোষ চর্চার পাপ থেকে অন্তত বেঁচে যেতে। হযরত ইয়াহয়া বিন মুআয আরবাযী বলেছেন: তিনটি গুণ যদি তোমার মধ্যে থাকে তবে তোমাকে মুহসিনদের (পুত পবিত্রদের) কাতারে শুমার করা হবে। এবং তুমি আল্লাহ পাকের ভালোবাসা লাভ করবে। কেননা আল্লাহ পাক মুহসিনদের ভালো বাসেন। সে তিনটি গুণ হলো।

১. কারো উপকার করতে না পরো, ক্ষতি করো না।

২.কাউকে সুখ দিতে না পারো, দুঃখ দিও না।

৩. কারো প্রশংসা করার মত মনের উদারতা যদি তোমার না থাকে, তবে অন্তত দোষ চর্চা করো না।

এ তিনটি গুণ যদি তোমার মধ্যে না থাকে। উপকারের পরিবর্তে ক্ষতি করা, প্রশংসার পরিবর্তে দোষ গেয়ে বেড়ানো এবং মানুষকে দুঃখ দেয়াই যদি হয় তোমার স্বভাব, তবে শুনে রাখো, জাহান্নামের কঠিন আযাব তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। হাশরের মাঠে সকলেই তোমাকে ঘিরে ধরবে। মহান বিচারকের দরবারে ফরিয়াদ জানাবে তোমার বিরুদ্ধে। এখন নিজেকেই তোমার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হাশরের মাঠে সকলের সামনে লজ্জিত হওয়া যদি পছন্দ করো তবে মানুষের গীবত ও দোষ চর্চায় লিপ্ত হতে পারো। কিন্তু সেটা যদি তোমার পছন্দ না হয় তবে কাউকে কষ্ট দিওনা এবং কারো গীবত করো না। (তামবীহুল গাফিলীন)

হযরত কাআব রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: গীবত এমনই গর্হিত অপরাধ যে, গীবতকারী যদি তওবা করে মৃত্যুবরণ করে তবু সকলের শেষে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যদি মৃত্যুর পূর্বে তওবা করার সৌভাগ্য না হয় সকলের পূর্বে সে-ই জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। (কিমিয়ায়ে সায়াদাত)

হযরত ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: আল্লাহ পাকের যিকিরে সর্বদা মশগুল থাকো। কেননা যিকির হচ্ছে আত্মার সকল ব্যাধির উপশম, অতঃপর গীবত থেকে নিজেকে হিফাজত করো। কেননা গীবত একটি সর্বনাশা ব্যাধি। (এহয়াউল উলুম)

হযরত আবু হুরায়ারা রা. বলেছেন: পৃথিবীতে যে ব্যক্তি আপন ভাইয়ের গোশত খেয়েছে (গীবত করেছে) কেয়ামতের দিন তাকে বলা হবে: এ মৃত দেহ থেকে গোশত কেটে তোমাকে খেতে হবে। কেননা দুনিয়াতে তুমি এর গোশত খেয়েছো। একথা শুনে ঘৃণায় মুখ বিকৃত করে সে পিছিয়ে যেতে চাইবে। কিন্তু পালিয়ে বাঁচার কোন উপায় সেদিন থাকবে না। অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে তা খেতে হবে। ( তারগীব ওয়াত্তারহীব)

হযরত কাতাদা রা. বলেছেন: মানুষ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে যেমন ঘৃণা বোধ করে, তেমনি ঘৃণা বোধ করা উচিত গীবত ও দোষ চর্চা সম্পর্কেও। (জালালাইনের হাশিয়া)

হযরত ইবনু আব্বাস রা. প্রায়ই নছিহত করে বলতেন: যখন তোমার কারো দোষ চর্চা করার লোভ হয় তখন নিজের মধ্যে বর্তমান দোষ গুলির কথা একবারে ভেবে নিও। ফলে তুমি গীবত থেকে বেঁচে যাবে। হযরত জয়নুল আবেদীন বলেছেন: গীবতের আবর্জনা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখো। কেননা গীবতকারী হচ্ছে মানুষরূপী কুকুর। (কিমিয়ায়ে সায়া’দাত)

কুকুরের স্বভাব হচ্ছে মৃত লাশ নিয়ে কামড়া কামড়ি করা। গীবতকারীরাও মানুষের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। এজন্যই হযরত জয়নুল আবেদীন গীবতকারীকেও কুকুরের সাথে তুলনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবনুল আরবী মুসনাদে ইমাম আযম গ্রন্থে লিখেছেন: হযরত ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি জীবনে কখনও কারো গীবত করেননি, আলোচনা করেননি করো সামান্যতম কোন দোষের কথা। জাহান্নামে কিছু লোকের ভীষণ খুজলি চুলকানী হবে। এমনকি শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে গোশত খসে পড়ে যাবে। তারা বলবে: হে পরওয়ারদিগার এ বিশেষ শাস্তি আমাদেরকে কি অপরাধের জন্য দেওয়া হচ্ছে। উত্তরে বলা হবে: দুনিয়াতে তোমরা মানুষের গীবত ও দোষ চর্চায় লিপ্ত ছিলে। মানুষের হৃদয়ে ক্ষত সৃষ্টি করাই ছিলো তোমাদের কাজ। তাই আল্লাহ পাক তোমাদের দেহে কষ্টদায়ক ক্ষত সৃষ্টি করে আযাব দিচ্ছেন। (এহয়াউল উলুম)

হযরত ইবনু ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু কাউকে হাজ্জাজ বিন ইয়ূসুফের সমালোচনা করতে শুনলে তাকে জিজ্ঞাসা করতেন: তুমি কি হাজ্জাজের সামনে এ কথা গুলি বলতে পারবে। না সূচক উত্তর পেলে তিনি বলতেন: সামনা সামনি প্রশংসা এবং পশ্চাতে গীবত ও দোষ চর্চা এটাকে আমরা রাসূলে কারীম সাল্লালল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যামানায় মুনাফেকী মনে করতাম। (এহয়াউল উলুম)

আজকাল অনেকের মধ্যে মুনাফেকীর অভ্যাস দেখা যায়। বিশেষ করে শাসকবর্গের আশে পাশে এই শ্রেণীর লোকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অভিজাত সমাজে তো এটা এখন একটা আর্ট বা শিষ্টাচার হিসাবে প্রচলিত হয়ে পড়েছে। আল্লাহ আমাদের সকলকে এ ধরণের মুনাফেকী থেকে হিফাজত করুন এবং স্পষ্টভাষী হওয়ার তাওফীক দান করুন।  হযরত হাতেম আছমা বলেছেন: গীবতকারী জাহান্নামে বানর রূপে এবং হিংসুক ব্যক্তি শুকর রূপে আযাব ভোগ করবে। (নুযহাতুল মাজলিস।)

হযরত ফোজায়েল বিন ইয়াজ এক ব্যক্তিকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছেন: যদি জাহান্নামের কঠিন আযাব থেকে নাযাত পেতে চাও তবে কারো গীবত করে নিজের মুখকে তুমি অপবিত্র করো না। যদি তুমি গীবতের অপবিত্রতা থেকে নিজেকে হিফাজত করতে ব্যর্থ হও তবে মনে রেখো, নিজের হাতেই তুমি তোমার আখেরাত বরবাদ করলে এবং মানুষের অন্তরে এমন ক্ষত সৃষ্টি করলে যা কোন দিন শুকায় না। হযরত আলী রা. তাঁর এক সুপ্রসিদ্ধ কবিতায় বলেছেন: তীর ধনুকের ক্ষত খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়। কিন্তু জিহবা দ্বারা মানুষের অন্তরে যে ক্ষত সৃষ্টি হয় তা কোনদিন শুকায় না। হযরত খালেদ রিবঈ একবার মসজিদে বসা ছিলেন।  একদল লোক সেখানে গীবত চর্চায় লিপ্ত ছিলো। হযরত খালেদ তাদেরকে গীবত থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর এক অসতর্ক মুহুর্তে তিনি নিজেও জড়িয়ে পড়লেন গীবতের আলোচনায়। সে রাত্রেই তিনি স্বপ্নে দেখেন এক ব্যক্তি তাঁর সামনে শুকরের গোশত এনে বলছে: হে খালেদ! তোমাকে শুকরের গোশত খেতে হবে। তিনি বললেন: অসম্ভব! হারাম গোশত আমি কি করে খেতে পারি? লোকটি উত্তরে বললো: অথচ তুমি ত আজ মানুষের গোশত খেয়েছো। সেটা কি হালাল ছিলো? এর পর লোকটি বলপূর্বক হযরত খালেদের মুখে শুকরের গোশত পুরে দিলো। হযরত খালেদ বলছেন: সেদিন থেকে একাধারে চল্লিশ দিন পর্যন্ত আমার মুখ থেকে শুকরের গোশতের দুর্গন্ধ এসেছে। এই চল্লিশ দিন আমি কোন মানুষের সাথে দেখা করতে পারিনি। ( তামবীহুল গাফিলিন)

হযরত মুজাহিদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন তোমার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তুমি তার সম্পর্কে এমন আলোচনাই করো যে ধরনের আলোচনা নিজের জন্য তুমি পছন্দ করো। অর্থাৎ তোমার অনুপস্থিতিতে কেউ তোমার দোষ চর্চা করুক এটা যেমন তোমার পছন্দ নয়, তেমনি তুমিও কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ চর্চায় লিপ্ত হতে যেওনা। হযরত মুজাহিদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: প্রতিটি মানুষের সাথে অসংখ্য ফিরিশতা থাকে। সে যখন কারো প্রশংসা করে তখন ফিরিশতাগণ উৎফুল্ল হয়ে বলতে থাকে আল্লাহু তোমাকেও এরকম করে দিন। আর সে যখন কারো দোষ চর্চায় লিপ্ত হয় তখন ফিরিশতাগণ বলতে থাকে হে আদমের বেটা! আল্লাহ তোমার দোষ লুকিয়ে রেখেছেন! অথচ তুমি মানুষের দোষ প্রচার করে বেড়াচ্ছো। বিরত হও এবং আল্লাহ পাকের প্রশংসায় মগ্ন হও। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন কেউ যদি কারো কোন দোষ দেখেও তা লুকিয়ে রাখে তবে বিনিময়ে আল্লাহ পাক তাকে জান্নাত দিবেন। ( এহায়াউল উলুম)

আরো ইশরাদ হয়েছে: গীবত ঈমানকে ক্ষয় করে ফেলে। (এবং তা ক্ষয় হতে হতে এক সময় এমন পর্যায়ে এসে পৌঁছে যে তার অন্তরে এক তিল পরিমাণ ঈমানও তখন আর অবশিষ্ট থাকেনা। ফলে মৃত্যুর সময় তার কলেমা নছীব হয় না। আমাদের সকলকে আল্লাহ হিফাজত করুন) (সিরাতে আহমদিয়া)

 গীবতের ফল

গীবত প্রকৃতপক্ষে নিজের জন্য ক্ষতি ও ধ্বংসই শুধু ডেকে আনে। আর যার গীবত করা হয় তার জন্য ডেকে আনে কল্যাণ ও পরকালীন মঙ্গল। এ জন্যই এক বুজুর্গ বলেছেন: যদি কারো গীবত ও দোষ চর্চা করার এতই সাধ হয় তবে আপন মায়ের গীবত করাই উত্তম। কেননা এতে তাঁর কল্যাণ হবে। গীবত মানুষের জন্য কি কি ক্ষতি ও কল্যাণ ডেকে আনে এখানে সংক্ষেপে আমরা তাই আলোচনা করতে প্রয়াস পাবো।

দোয়া কবুল না হওয়া: যে ব্যক্তি সর্বদা মানুষের গীবত ও দোষ চর্চায় লিপ্ত থাকে আল্লাহ পাকের দরবারে সে এতই ঘৃণ্য ব্যক্তিরূপে চিহ্নিত হয় যে তার কোন দোয়াই কখনও কবুল হয় না। এবং তওবা করার পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহ পাকের রহমত ও করুণা থেকে সে বঞ্চিত থাকে।

১. হারাম খাদ্য দ্বারা উদর পূর্ণকারী ব্যক্তি। ২. গীবতকারী ব্যক্তি। ৩. হিংসুক ও কৃপণ ব্যক্তি।

হযরত ইব্রাহীম বিন আদহামকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আমরা দোয়া করি অথচ আমাদের দোয়া কবুল হয় না। এর কারণ কি? তিনি বললেন: তোমাদের দোয়ায় প্রাণের স্পর্শ নেই কেননা হৃদয় তোমাদের মৃত। ফলে আল্লাহ পাকের নিকট গ্রহণযোগ্য হয় না। আবার জিজ্ঞাসা করা হলো: অন্তর বা কলব মৃত হয় কি কারণে? উত্তরে হযরত ইব্রাহীম বিন আদহাম বললেন: তোমাদের মধ্যে বড় বড় আটটি দোষ আছে যা কলবের সজীবতা নষ্ট করে দেয়:

১.সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাকের অসংখ্য নিয়ামত প্রতি মুহুর্তে তোমর ভোগ করছো। অথচ সামান্যতম কৃতজ্ঞতা বোধও নেই তোমাদের অন্তরে।

২. সবর্দা কুরআন শরীফ তেলাওয়াত কর। অথচ সে অনুযায়ী আমল কর না।

৩. মুখে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসার দাবী করে বেড়াও। অথচ তোমাদের জীবনের সব কিছু রাসূলের সুন্নত পরিপন্থী। ভালোবাসার স্বাভাবিক দাবী ত এই যে, তাঁর বাতানো তরীকাতেই তোমরা নিজেদের জীবন গড়ে তুলবে।

৪.মৃত্যু এক অবধারিত সত্য এবং মৃত্যু থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই। একথা তোমরা বেশ ভালো করেই জানো। অথচ অন্তরে তোমাদের মৃত্যুর কোন ভয় নেই। মৃত্যুর ভয় থাকলে সেজন্য অবশ্যই তোমরা প্রস্তুতি নিতে।  (ক্রমশ:)


লেখক : মুলঃ আল্লামা আবদুল হাই লখনবী রাহ. অনুবাদঃ  হাফেজ আবু তাহের মেছবাহ
সংস্কার ২৩৯ ডিসেম্বর ২০১৮