সম্পাদকীয়

ব্যতিক্রমধর্মী মাসিক পত্রিকা সংস্কারের এ সংখ্যাটি হচ্ছে ২৪ তম বর্ষ শুরু সংখ্যা। আজ থেকে ২৪বছর আগে ১৯৯৭ সালের আগস্ট মাসে বেরিয়েছিল সংস্কারের প্রথম সংখ্যাটি। সেই প্রথম আলোর মুখদেখা এবং পথ চলা শুরু করে স.......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-কুরআন

(৫১ থেকে ৬৫) ৫১. সে বললো: তাহলে অতীত হয়ে যাওয়া লোকদের অবস্থা কী?৫২. মূসা বললো: এ বিষয়ের জ্ঞান আমার প্রভুর কাছে কিতবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি ভুলও করেন নাই, ভুলেওযাননা।৫৩. তিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্য বিছ.......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-হাদীস

আলী রা. হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ইরশাদ করেছেন, বান্দাযখন মেসওয়াক করে নামাযের জন্য দাঁড়ায় তখন ফেরেশতা তার পিছনে দাঁড়িয়ে যায় এবং অত্যন্তমনোযোগ সহকারে তার তেলাওয়া.......

বিস্তারিত পড়ুন

কি আর বলবো?

আবু আবীর

বিচিত্র এই পৃথিবীর দিকে তাকালে অনেক সময় অনেক কিছুই খারাপ লাগে। মনে হয় এ ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন না হলে ভালো হতো। কিন্তু কি করা? এই ধরুন! আমরা এখন করোনা মহামারী কাল অতিক্রান্ত করছি। করোনা আমাদের দেশে নয়, বিশ্বের সকল প্রান্তেই হানা দিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, করোনার ব্যক্তিগত কোনো শক্তি না থাকলেও এটা যে আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো একটি শাস্তি তাতে কোন সন্দেহ নেই। আমাদের বাংলাদেশে করোনা এখন আর নেই! আমি কি মিথ্যে বললাম? মনে হয় পরিস্থিতির দিকে তাকালে সকলেই আমার সাথে একমত হবেন। যদি আমরা হাসপাতালগুলোর চিত্র না দেখি, এই খবরাখবর না শুনি, মিডিয়ার সম্মুখীন না হই, তাহলে বুঝতে পারবো যে আমরা করোনার মধ্যে নেই । বরং করোনা আমাদের থেকে বহুদূরে পালিয়েছে ! আফসোস! আমাদের অসচেতনতার জন্য । আফসোস হয় আমাদের নিজেদেরকে নিয়ে কেন আমরা সচেতন হতে পারছি না, কেন আমরা শিক্ষিত হতে পারছি না, কেন আমরা সুশিক্ষিত হতে পারছি না, কেন আমরা স্ব শিক্ষিত হতে পারছি না? স্কুলের গন্ডিতে না গেলে যদি আমরা অশিক্ষিত থাকি সে ক্ষেত্রে স্বার্থতো আমরা ভালোই বুঝি? তো কেন আমরা জাতির স্বার্থ বুঝিনা? দেশের স্বার্থ বুঝিনা? এত প্রশ্নের মধ্যে যদি আমরা বলি যে, আমরা আসলেই জঘন্য প্রকৃতির মানুষ, আমাদের পিছনে শয়তানকে লাগিয়ে দেয়া রয়েছে, শয়তান আমাদের সবসময়ই বিভ্রান্ত করছে, বিপথগামী করছে, কিন্তু আমরা টের পাচ্ছি না, আমাদের এই বিভ্রান্ত হয়ে যাওয়া, জাতিকে পিছনের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া, কত বড় ক্ষতির কারণ হচ্ছে, তা ভাবা যায় না। করোনা কালীন মাস্কের কথাই বলি না কেন!? আমাকে বাইরে বের হতেই হবে। কারণ করোনা মহামারীর জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু বন্ধ করে আমাকে বসে থাকলে চলবে না। মাস্ক পরা উচিত। কিন্তু আমরা কি জানি কেন মাস্ক পরা উচিত। হয়তো জানি না। জানলে অবশ্যই ব্যবস্থাটি আমরা গ্রহণ করতাম। কেউ যদি আক্রান্ত হয় এবং মাস্ক পড়ে, তার মাধ্যমে অন্যের কাছে ভাইরাস পৌঁছানোর সম্ভাবনা ৬০ ভাগ কমে যায়। আর যখন আমি আক্রান্ত নই তখন মাস্ক পরা থাকলে আমার মাধ্যমে অন্যের ক্ষতির সম্ভাবনা ৬০ ভাগ কমে যায়। আবার আমি যদি আক্রান্ত হই এবং মাস্ক পরি, তাহলে আমার মাধ্যমে কাউকে ভাইরাস প্রদান করা অন্ততপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে যায়। তাহলে মাস্ক পরাটা অবশ্যই উপকারী। এছাড়া আরো কাজ করে, মাস্ক আমাদের অনেক উপকার করতে পারে, যেমন ধুলোবালি, ধোয়া কিংবা দূষিত বায়ু থেকে আমাদেরকে দূরে রাখতে পারে। তাছাড়া বিশ্বব্যাপী এই অবস্থা দেখার পরেও যদি আমাদের মধ্যে এই সচেতনতা তৈরি না হয় তাহলে আমরা কেমন মানুষ? একজন রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, করোনাতো নেই। কাঁচা বাজারে গেলে কোন মানুষকে মাস্ক পরা অবস্থায় পাওয়া যায় না। কদাচিৎ দু'একজনের মুখে মাস্ক দেখা যায়। আপনি হয়তো মাস্ক পরে মাছের বাজারে গেলেন, দেখা গেল আপনার গায়ের উপর মাস্ক না পরা অনেকেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এইযে অসচেতনতা, এর ফলেই কিন্তু আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। আমাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বা মোরালিটি যদি না ফিরে আসে, তাহলে কখনই আমাদের উত্তরোত্তর উৎকর্ষ সাধন করা সম্ভব নয়। আমরা টাকার কুমির হতে পারব, ধন-সম্পদের মালিক হতে পারব, বাড়ি-গাড়ির মালিক হতে পারব, কিন্তু আমাদের বুদ্ধি-বিবেচনা লোপ পেতে পেতে আমাদেরকে অবুঝ অবলা পশু শ্রেণীর কাছাকাছি নিয়ে যাবে। এবং এটা কখনোই কোন ভালো লক্ষণ নয়। মাস্ক ব্যবসায়ীরা এক ধরনের মনোপলি ব্যবসা করেছিল করোনার শুরু থেকে। এখন মাস্ক সকলের হাতের নাগালেই রয়েছে। আগে যে মাস্ক ৮০ টাকা, ৭০ টাকা, ৬০ টাকা, ৫০ টাকা, ২০ টাকা বিক্রি হতো সেগুলোর দাম অনেক কমে গেছে। যেই সার্জিক্যাল মাস্ক ২০ টাকায় বিক্রি হতো তা এখন ১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ১৫০ টাকায় ৫০ টি মাস্ক এর প্যাকেট পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ মাত্র ৩ টাকায় একটি মাস্ক পাওয়া যায়। যেখানে একটি সিগারেট খেতে ১২ টাকা, ১৫ টাকা পর্যন্ত খরচ করা হয়, এক কাপ চা খেতে ৫ থেকে ১০ টাকা খরচ করা হয় এবং দিনের মধ্যে এক প্যাকেট সিগারেট খাওয়া হয় অথবা পাঁচ ছয় বার চা খাওয়া হয়, সেই ক্ষেত্রে একটি মাস্ক কিন্তু ভালোভাবে নিয়ম মেনে পড়লে একদিন পড়া যায়। তাই বিষয়টি একান্তই অভ্যাসের ব্যাপার। সচেতনতার ব্যাপার। পরের জন্য চিন্তা করার ব্যাপার। নিজের স্বার্থ নিয়ে না ভাবার ব্যাপার। সবকিছু যেনো একাকার হয়ে গেছে। এমন অবস্থায়ও যদি আমরা মাস্ক পড়ার ব্যাপারে সচেতন না হই তাহলে আমাদের সমস্যা আরো বাড়বে। রিক্সাওয়ালারা বলেন করোনা চলে গেছে, হাট-বাজারে দোকানিরা বলেন করোনা নেই। রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে। তাদের দৃষ্টিতেও করোনা নেই। তাহলে প্রতিদিনের সংবাদপত্র বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে যে খবরগুলো আসছে যে, বাংলাদেশেও করোনায় মৃত্যুর হার কম নয় । কোনদিন ৪২ জন মারা যাচ্ছে। কোনদিন পর ৫৬ জন মারা যাচ্ছে। কোনদিন ৫০ জন মারা যাচ্ছে। আবার শনাক্ত হচ্ছে দুই হাজার, আড়াই হাজার। তাহলে কি একথা প্রমাণিত হয় না যে করোনা আছে বরং আমরা ব্যাপকভাবে করোনার পরীক্ষা করতে পারছিনা, পরীক্ষা আমাদের কাছে সহজ নয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে, করোনা উপসর্গ নিয়ে ঘরেই কাতরাতে হয় বলে আমাদের প্রকৃত সংখ্যাটা জানা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালগুলোতে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার কি হাল সেটা বলাই বাহুল্য। এই ক্ষেত্রে করোনা আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে গেলে যে অর্থকরী দিতে হয়, এমন সামর্থ্যবান কতজন মানুষ আমাদের দেশে রয়েছে? বড়লোকের বৈধ-অবৈধ টাকার পাহাড় রয়েছে, তারা আক্রান্ত হচ্ছেন, সরাসরি বড় বড় হসপিটালে চলে যাচ্ছেন, আইসিইউতে সিসিইউতে থাকছেন, লাইফ সাপোর্টে যাচ্ছেন, এদের কেউ কেউ মারা যাচ্ছেন, আবার অনেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আসছেন। কিন্তু গরিবরা, মধ্যবিত্তরা, নিম্নআয়ের মানুষরা এই সুযোগগুলো নিতে পারছেন না। আমার জানা মতে অনেকে এমন আছেন যারা হাসপাতালে যাওয়ার ক্ষমতা নেই। সাধারণভাবে ডাক্তার দেখাতে যেতে পারছেন না। গেলে তারা বলেন করোনা টেস্ট করা হয়েছে কি? আগে করোনা টেস্ট করে আসতে হবে। তাহলে এই লোকের মাথায় আবার ধরিয়ে দেওয়া হল ৩৫০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা। করোনা টেস্ট এর ফলাফল আসতে আসতে দেখা যায় রোগীর দফা শেষ। হাসপাতালে কি অবস্থা সেটা বলাই বাহুল্য। এমনি ভাবে চলতে থাকলে যারা বলেন, করোনা নাই, করোনা শেষ হয়ে গেছে, আমাদেরকে করোনা কোনো ক্ষতি করবে না, আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, আমরা রিক্সা চালাই, আমরা খেটে খাই ইত্যাদি, তাহলে কি এই জাতি রক্ষা পাবে? আসলে আমাদের সচেতনতা দরকার। এতকিছুর পরেও যদি আমরা সচেতন না হই, নিজে থেকে নিজের মূল্য না বুঝি, নিজের পরিবারের গুরুত্ব না দেই, নিজের পরিবার-পরিজন-সন্তানাদি সবার ভালো না চাই, তাহলে কি আর বলব - আমরা অপেক্ষা করবো, দেখা যাক কি হয়। আল্লাহ আমাদের সহায় হবেন, এই প্রত্যাশা।