সম্পাদকীয়

আজ ১৪ এপ্রিল। বাংলা সনের প্রথম দিন। পহেলা বৈশাখ। পৃথিবীর কোন বাংলা ভাষাভাষি সমাজে কিছু ঘটুক বা না ঘটুক বাংলাদেশে কিন্তু আজ ঘটবে মহাযজ্ঞ। এই দিনের জন্যে চৈত্রের আগমনের সাথে সাথেই শুরু হয় এই মহা আয়োজন। .......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-কুরআন

৩৭. তার কথার প্রসঙ্গে তার সাথি তাকে বললো; তুমি কি তোমার সেই মহান স্রষ্টার প্রতি কুফুরি করলে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর নোতফা (শুক্রবিন্দু) থেকে, তার পরে মানুষের আকৃতি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কর.......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-হাদীস

হযরত আবু যার রা. হতে বর্ণিত আছে যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির উপর অবশ্য কর্তব্য যে, তার শরীরের প্রত্যেকটি জোড়ের সুস্থতার শোকর স্বরূপ প্রত্যহ সকা.......

বিস্তারিত পড়ুন

মসীহ ঈসাঃ ইসলামের এক নবী

মোহাম্মদ আতাউর রহীম

(মে ২০১৭, ২২৩ সংখ্যার পর)

এথানাসিয়াসের ত্রি-ঈশ্বর বিষয়ক মতবাদে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে পিতা, পুত্র বা আত্মার কারোরই কোন কিছুর অভাব নেই, কেননা তাদের মধ্যে প্রত্যেকে প্রকৃত ও যথাযথ ঈশ্বর, প্রত্যেকেই অবিনশ্বরতার দিক দিয়ে সমান এবং প্রত্যেকেই ঐশ্বরিকতায় পূর্ণাঙ্গ। কিন্তু তা সত্যেও এরা তিনজন তিন ঈশ্বর নন, শুধু এক ঈশ্বর। ফলে তারা প্রত্যেকে পূর্ণাঙ্গ ঈশ্বর হওয়া সত্ত্বেও এক এবং বহু উভয়ই। এটি নিঃসন্দেহে এক স্ববিরোধী বিষয়- যেমন একথা বলা যে পিটার, জেমন?? ও জন এদের প্রত্যেকেরই এক একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হওয়ার জন্যে প্রয়োজনীয় সবকিছুই আছে, তবে তারা সম্মিলিতভাবে তিন ব্যক্তি নয়- একজন মাত্র। ঈশ্বর অথবা মানুষ শব্দ দ্বয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ধারণা সমূহ এ দু’টি প্রস্তাবের প্রকৃতিতে কোন পার্থক্য সূচিত করতে পারে না। নিসিয়ার কাউন্সিলের পর এই বিশেষ রীতিতেই ত্রিত্ববাদের মতবাদকে ব্যাখ্যা করার বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। সে যুগের যাজক ও পাদ্রীগণ বিশেষভাবে তিন ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ সমকক্ষতা রক্ষার ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহী ছিলেন। আর তা করতে গিয়ে তারা একত্বে¡র বিষয়টি সম্পূর্ণ বিসর্জন দিয়েছিলেন। যা হোক, এ মতবাদ কীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল, সেটি কোন ব্যাপার না হলেও এগুলোর একটিকে সর্বদাই অন্যটির জন্যে বলি দিতে হয়। যেহেতু ব্যক্তি (Person) সত্ত্বা (being) শব্দের ব্যবহার নিয়ে মানুষ বিভ্রান্তির শিকার, সে কারণে তা সুনির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন। সত্ত্বা আখ্যাটি প্রত্যেকটি বিষয়ের এবং তারপর ত্রি-ঈশ্বরের তিন ব্যক্তির প্রত্যেকের গুণবাচক আখ্যা হতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ যদি বলা হয় খৃষ্টই ঈশ্বর। কিন্তু এখানে কোন সত্ত্বা নেই, বৈশিষ্ট্য নেই যা দিয়ে তার গুণ প্রকাশ পায়। তাহলে এটাকে এক অর্থহীন বিষয় ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। কিন্তু যখন বলা হয় যে এসব ব্যক্তির প্রত্যেকেই স্বয়ং ঈশ্বর, এর অর্থ অবশ্যই এই হবে যে পিতা পৃথকভাবে একটি সত্ত্বা, পুত্র পৃথকভাবে একটি সত্ত্বা এবং তদানুরূপ পবিত্র আত্মারও স্বতন্ত্রভাবে একটি সত্ত্বা রয়েছে। এখানে তিনটি সত্ত্বার তিনজনই ব্যক্তি। সে ক্ষেত্রে এই তিনজন ঈশ্বর ছাড়া আর কি হতে পারেন যদি না অনুমান করা যায় যে তিনজন সমান্বিত ব্যক্তি অথবা তিনজন পিতা, তিনজন পুত্র অথবা তিনজন পবিত্র আত্মা আছেন? পিতার যদি জন্মদানের রহস্যময় বিচিত্র ক্ষমতা থাকে, তবে এখনও তা সক্রিয় নয় কেন? তিনি যদি অপরিবর্তনীয় নাই হবেন তাহলে শুরুতে যা ছিল এখন তা নেই কেন? তাঁর পূর্ণাঙ্গতা কি একই আছে এবং তাঁর পরিকল্পনা করার ক্ষমতাও কি একই রকম রয়েছে? তাই যদি হয় তা হলে আরো সন্তান তিনি উৎপাদন করেননি কেন? গোঁড়া যাজকরা যেমনটি জিজ্ঞাসা করে সে রকম তিনি কি সন্তান জন্মদানে অক্ষম হয়ে পড়েছেন? অথবা তিনি তাঁর জন্মদানের ক্ষমতা কাজে লাগাবেন কিনা সেই ইচ্ছা ও মর্জির উপরই কি তা নির্ভরশীল? তিনি তাঁর দ্বারা ভিন্নভাবে সৃষ্টি অন্য কোন রূপ বা আকৃতি সম্পন্ন অন্য কোন কিছুর মতই? এবং তিনি তাঁরই মত একই উপাদানে গঠিত হবেন কি না?

এ প্রশ্নও অবশ্যই করতে হবে যে ত্রি-ঈশ্বরের তৃতীয় ব্যক্তি কোন পন্থায় উৎপন্ন হয়েছেন। তাকে প্রথম দু’ব্যক্তির স্ব-স্ব পূর্ণাঙ্গতার অভিপ্রায় থেকে যৌথ ক্ষমতার মাধ্যমে হয়েছে? যদি তাই হয়, তাহলে একই কার্যক্রমে কেন চতুর্থ বা পরে আরো উৎপন্ন করা হল না?

যা হোক, ত্রিত্ববাদের এই অদ্ভুত জন্মদানের কথা স্বীকার করে নিলে পুত্রের ব্যক্তিক অস্তিত্ত্ব তার পিতার মেধা থেকেই উৎসারিত বলে অবশ্যই স্বীকার করতে হয়, আর তা পুত্রের তুলনায় নিশ্চিতভাবে পিতার অগ্রাধিকার অথবা শ্রেষ্ঠত্বের কথাই তুলে ধরে। আর কোন সত্ত্বাই যথাযথ ঈশ্বর হতে পারে না যদি তার চেয়ে ঊর্ধ্বতন বা শ্রেষ্ঠ কেউ থাকে, সংক্ষেপে এই পরিকল্পনা কার্যকরভাবে যথাযথ সমকক্ষতার এবং পাশাপাশি ত্রিত্ববাদে তিন ব্যক্তির একত্বের মতবাদকে প্রত্যাখ্যান করে।

ত্রিত্ববাদের ব্যাপারে প্রধান আপত্তি এই যে এটি হল ঐশ্বরিক প্রত্যাদেশের প্রধান উদ্দেশ্য উপাসনার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে একত্ব¡বাদ প্রতিষ্ঠার পরিপন্থী। এই একত্ববাদের সংস্কার করা অথবা অন্যরূপে তার অনুসরণ সন্দেহের বিষয় বলেই বিবেচিত বা গণ্য হবে। আর তা এ কারণে যে এ মতবাদ বহু ঈশ্বর তথা পৌত্তলিক উপাসনার প্রবর্তন করে।

ইংল্যাণ্ডের একত্ব¡বাদী আন্দোলনের গভীর প্রভাব আমেরিকাতেও পড়েছিল। ক্যালভিনপন্থী একটি গোষ্ঠীর মাধ্যমে এর সূচনা হয়েছিল। কিন্তু সপ্তদশ শতাব্দী নাগাদ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে ধর্মীয় আশ্রমে পরিণত হয় এবং এ পর্যায়ে ধর্ম মতের উপর তত বেশি গুরুত্ব দেওয়া হত না। এভাবে ধীরে ধীরে ধর্মীয় পরিবর্তনের পথ উন্মুক্ত হয়। চার্লস চনসী (Charles Chauncy. ১৭০৫-১৭৫৭ খৃ.) ছিলেন বোষ্টনের অধিবাসী। তিনি এক ঈশ্বরে বিশ্বাস স্থাপনের এক সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন। জেমস ফ্রিম্যানের (১৭৫৯-১৮৩৫ খৃ.) নেতৃত্ত্বে¡ কিংস চ্যাপালের ধর্মীয় সমাবেশ ত্রিত্ত্ব¡বাদ বিষয়ক তাদের অ্যাংগলিকান গির্জার সকল রীতি- নীতি বিলোপ করে। (১৭৮৫ খৃ.) এ ঘটনা ঘটে। এভাবে আমেরিকায় প্রথম একত্ববাদী চার্চের অস্তিত্ব ঘোষিত হয়। প্রিষ্টলির মতবাদ প্রকাশ্যে মুদ্রিত ও বিতরিত হতে থাকে। অধিকাংশ লোকই তা গ্রহণ করে। এর ফল হিসেবে বোষ্টনে একজন ছাড়া সকল যাজক নেতৃবৃন্দ কর্তৃক একত্ব¡বাদ গৃহীত হয়।

উইলিয়াম এলারি চ্যানিং (W. Ellery Channing.১৭৮০-১৮৮২)

ইউলিয়াম এলারি চ্যানিং ১৭৮০ খৃ. জন্মগ্রহণ করেন। ২৩ বছর বয়সে তিনি বোষ্টনে আগমন করেন এবং যাজকের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তিনি একত্ববাদী চিন্তা দ্বারা বিপুলভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। চ্যানিং কখনোই ত্রিত্ববাদ গ্রহণ করেননি, তবে সে সময় তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা নিরাপদ ছিল না। তাকে অন্যান্য একত্ববাদী যাজকদের সাথে মিলে গোপনে ত্রিত্ববাদ বিরোধী মতবাদ প্রচারের জন্যে অভিযুক্ত করা হয়। চ্যানিং জবাবে বলেন যে ত্রিত্ববাদ সম্পর্কে তাদের মতামত তারা গোপন রাখেন নি, তবে তারা সে মতবাদ এমনভাবে প্রচার করেছেন যেন আগে কারো তা জানা ছিল না। চ্যানিং আরো বলেন, তারা এ পন্থা গ্রহণ করেছেন এ কারণে যাতে খৃষ্টানরা পরস্পরের বিরুদ্ধে আরো বিভক্ত না হয়ে পড়ে। সে কারণে এ পর্যায়ে একত্ববাদী আন্দোলন প্রকাশ্য রূপ গ্রহণ করতে পারেনি।

১৮১৯ খৃ. চ্যানিং রেভারেণ্ড জ্যারেড স্পার্কসের Jared Sparks) দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে এক বক্তৃতা প্রদান করেন। তিনি তার অননুকরণীয় রীতিতে একত্ববাদী ধর্মের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন যে নিউটেষ্টামেন্টের ভিত্তি হল ওল্ড টেষ্টামেন্ট। খৃষ্টানদের জন্যে যে শিক্ষা প্রচার করা হয়েছে, তাই ইয়াহুদীদের মধ্যে প্রচার করা হয়েছিল। এটি ছিল ঈশ্বরের সুদূর প্রসারী বিশাল পরিকল্পনার পূর্ণতা যা উপলব্ধি করার জন্যে বিপুল প্রজ্ঞা প্রয়োজন। তিনি বলেন, একথা মনে রেখে তিনি এ বিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন যে পবিত্র গ্রন্থের এক অংশে ঈশ্বর যে শিক্ষা প্রদান করেন তা অন্য অংশের সাথে বিরোধপূর্ণ হতে পারে না। ঈশ্বর তাঁর গভীর বিবেচনার পর এমন সব ব্যাখ্যার প্রতি আমরা অবিশ্বাস ব্যক্ত করি, যা প্রতিষ্ঠিত সত্যের পরিপন্থী। চ্যানিং জোর দিয়ে বলেন, মানুষের উচিত তার যুক্তি ব্যবহার করা। তিনি বলেন, ঈশ্বর আমাদের বুদ্ধিবৃত্তি দিয়েছেন এবং এর জন্য আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। আমরা যদি একে ব্যবহার না করে নিষ্ক্রিয় রাখি, সে ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদেরই ধ্বংস ডেকে আনা হবে। আমরা বুদ্ধিসম্পন্ন প্রাণী বলেই আমাদের উদ্দেশ্যে প্রত্যাদেশ প্রেরণ করা হয়েছে। আমরা আলস্যে নিমজ্জিত হয়ে আশা করতে পারি যে ঈশ্বর আমাদের এমন ব্যবস্থা দিয়েছেন যেখানে তুলনা করা, সীমাবদ্ধ করা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু এটা হবে আমাদের বর্তমান অস্তিত্বের সামগ্রিক বৈশিষ্ট্যের চাইতে পৃথক কিছু। প্রত্যাদেশ যেভাবে আমাদের উপর অর্পিত হয়েছে তাকে সেভাবেই গ্রহণ করা এবং যার উপর তার বিশ্বাস ও ভিত্তি নির্ভর করে সেই মনের সাহায্যে তার ব্যাখ্যা করা প্রজ্ঞার কাজ” তিনি আরো বলেন, ঈশ্বর যদি অপরিসীম জ্ঞানী হন তাহলে তিনি তার সৃষ্টির জ্ঞান নিয়ে কৌতুক করতে পারেন না। একজন জ্ঞানী শিক্ষক তার ছাত্রগণ কর্তৃক তাকে গ্রহণের ক্ষমতার মধ্যেই তার সার্থকতা দেখতে পান, তাদের বোধের অগম্য কিছু শিক্ষা দিয়ে হতবিহবল করে কিংবা পরস্পর বিরোধী বিতর্কের মধ্যে তাদের অসহায়ভাবে নিক্ষেপ করে নয়। বুদ্ধির অগম্য বাগ শৈলীর দ্বারা আমাদের ক্ষমতা বহির্ভূত কিছু বোঝানোর চেষ্টা করা এবং বিতর্কের মধ্য দিয়ে বিভ্রান্তি  সৃষ্টি ও কোন সমাধান না করা প্রজ্ঞার পরিচায়ক নয়। একটি প্রত্যাদেশ একটি ঐশ্বরিক উপহার। তা আমাদের অজ্ঞানতাকে বৃদ্ধি এবং জটিলতাকে বহুমুখী করে না’। এই নীতি অনুসরণ করে চ্যানিং  বলেন : প্রথমেই আমরা বিশ্বাস করি এক ঈশ্বরে অর্থাৎ ঈশ্বর একজনই এবং শুধুমাত্র এক। এই সত্যের প্রতি আমরা অশেষ গুরুত্ব প্রদান করি এবং কোন ব্যক্তি যাতে ব্যর্থ দর্শনের মাধ্যমে আমাদেরকে বিভ্রান্ত করতে না পারে সে জন্যে এ ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে আমরা দায়বদ্ধ। ঈশ্বর এক প্রচারিত সত্যটি আমাদের কাছে অত্যন্ত সরল বলে মনে হয়। এর দ্বারা আমরা বুঝি যে একজন মাত্র সত্ত্বাই রয়েছেন। এক সত্ত্বা, এক মন, এক ব্যক্তি, এক বুদ্ধিমান ঘটয়িতা এবং অদ্বিতীয় সেই একজনই যিনি অনুদ্ভূত, চিরন্তন, সম্পূর্ণ নিখুঁত এবং প্রভুত্বের অধিকারী। আমরা জানি যে এই মহা সত্যের যারা ভবিষ্যতের জন্য আমানতদার ছিল এবং যারা সত্ত্বা ও ব্যক্তির মধ্যকার চুলচেরা পার্থক্য বুঝতে একেবারেই অক্ষম ছিল, সেই সরল ও অনুশীলিত লোকদের কাছে এই সব শব্দ অন্য কোন অর্থ বহন করত না। এ সব বিচারবুদ্ধি মূলত : আরো পরবর্তী কালের আবিষ্কার। আমরা এ ধরনের কোন আভাস পাই না যে ঈশ্বরের একত্ব অন্যান্য বুদ্ধিমান সত্তার একত্ব¡¡ থেকে সম্পূর্ণরূপে পৃথক কোন বিষয় ছিল।   

আমরা ত্রিত্ব¡¡বাদের বিরোধী এ কারণে যে তা শাব্দিকভাবে ঈশ্বরের একত্বে¡¡র কথা বললেও কার্যত তার বিপরীত। এই মতবাদ অনুযায়ী তিনজন অবিনশ্বর ও সমকক্ষ ব্যক্তি রয়েছেন যারা সর্বোচ্চ ঈশ্বরত্ত্বে¡র অধিকারী, তাদের বলা হয় পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা। ধর্মতাত্ত্বিকগণ যেমনটি বর্ণনা করেছেন, এই সব ব্যক্তির প্রত্যেকেরই নিজস্ব চেতনাবোধ, ইচ্ছা (মন) ও উপলব্ধি রয়েছে তারা পরস্পরকে ভালোবাসেন, পরস্পর কথাবার্তা বলেন এবং একে অন্যের সাহচর্যে উৎফুল্ল হন। তাঁরা মানুষের প্রায়শ্চিত্তের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেন, প্রত্যেকেরই রয়েছে যথাযথ কর্মস্থল এবং প্রত্যেকেই যার যার নিজের কাজ করেন, একজন অন্যজনের কাজ করেন না। পুত্র মধ্যস্থতাকারী, তিনি পিতা নন। পিতা পুত্রকে প্রেরণ করেন, নিজে প্রেরিত হন না। তিনি পুত্রের মত দেহ সচেতন নন। সুতরাং এখানে আমরা তিন ধরনের বুদ্ধিমান ঘটয়িতাকে পাচ্ছি যারা ভিন্ন চেতনাবোধ সম্পন্ন, ভিন্ন ইচ্ছার অধিকারী ও ভিন্ন উপলব্ধি সম্পন্ন; তাঁরা ভিন্ন কাজ করেন এবং তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন সম্পর্ক বজায় রাখেন। এসব বিষয় যদি তিনটি ‘মন’ বা ‘সত্ত্বা’ গঠন না করে, তাহলে আমরা সত্যই জানি না যে তিনটি মন বা সত্ত্বা কীভাবে গঠিত হয়। এটি হল বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য, কর্মকাণ্ডের পার্থক্য, চেতনাবোধের পার্থক্য যা আমাদের বিভিন্ন বুদ্ধিসম্পন্ন সত্ত্বার ব্যাপারে বিশ্বাসী করে এবং যদি এসব লক্ষণ সত্য না হয় তাহলে সমগ্র জ্ঞানেরই পতন ঘটে, কারণ আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নেই যে বিশ্ব- জগতের সকল ঘটয়িতা ও ব্যক্তি এক নন বা অভিন্ন মনের নন। আমরা যখন তিন ঈশ্বরের কথা কল্পনা করার চেষ্টা করি, আমরা আমাদের তিনজন ঘটয়িতার প্রতিনিধিত্ব করার কথা ছাড়া বেশি কিছু ভাবতে পারি না যারা একই প্রকার বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র্য দ্বারা পরস্পর থেকে পৃথক যেগুলো ত্রিত্ব¡¡বাদের ব্যক্তিদেরও পৃথক করে রাখে। যখন সাধারণ খৃষ্টানরা এ ব্যক্তিদের নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলতে, একে অপরকে ভালোবাসতে ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব পালন করার কথা শোনে, তখন তারা কীভাবে তাদের পৃথক সত্ত্বা, পৃথক মন সম্পন্ন নন বলে মনে করতে পারে। ক্রমশ:

সংস্কার ২৪১ মার্চ ২০১৯