সম্পাদকীয়

আজ ১৪ এপ্রিল। বাংলা সনের প্রথম দিন। পহেলা বৈশাখ। পৃথিবীর কোন বাংলা ভাষাভাষি সমাজে কিছু ঘটুক বা না ঘটুক বাংলাদেশে কিন্তু আজ ঘটবে মহাযজ্ঞ। এই দিনের জন্যে চৈত্রের আগমনের সাথে সাথেই শুরু হয় এই মহা আয়োজন। .......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-কুরআন

৩৭. তার কথার প্রসঙ্গে তার সাথি তাকে বললো; তুমি কি তোমার সেই মহান স্রষ্টার প্রতি কুফুরি করলে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর নোতফা (শুক্রবিন্দু) থেকে, তার পরে মানুষের আকৃতি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কর.......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-হাদীস

হযরত আবু যার রা. হতে বর্ণিত আছে যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির উপর অবশ্য কর্তব্য যে, তার শরীরের প্রত্যেকটি জোড়ের সুস্থতার শোকর স্বরূপ প্রত্যহ সকা.......

বিস্তারিত পড়ুন

মুসলিম উম্মাহর বিপর্যয় ও তার প্রতিকার

মুফতী আমজাদুল হক খান আরমানী

মুফতী আমজাদুল হক খান আরমানী

দূর অতীতে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জামানায় অন্ধকার যুগে আরবের মানুষের যে নৈতিক পতন, অবয় ও ধ্বংস নেমে এসেছিল, তার চেয়ে অবর্ণনীয় ও ভয়াবহ চিত্র আজকে আমাদের চার পাশে দেখতে পাচ্ছি। অথচ আমরা দাবী করি আমরা নাকি সভ্যতার চরম শিখরে পৌঁছে গিয়েছি। সভ্যতার এ সুউচ্চ শৃঙ্গে যারা পৌঁছে গিয়েছেন বলে গলাবাজি করছেন তারা সভ্যতার ফুটানিতে ফেটে পড়ে নিজেদের সভ্যতার শিখরবাসি হিসাবে প্রমাণ করার জন্য অতীতের লোকজন এবং তাদের আচার আচারণকে দম বন্ধ করে গালি দিয়ে থাকেন।

সভ্য সাহেবদের দৃষ্টিতে বর্তমান যুগের কোন আচার-আচরণ বা তৎপরতা চিন্তা চেতনাকে পছন্দ না করলে মধ্য যুগীয় চিন্তা বা বর্বরতা বলে অভিহিত করে নিজেদের এক নম্বর সভ্য ও মহামানব প্রমাণের চেষ্টা করে থাকেন। তাদের  আগলা ফুটানির তর্জন গর্জনে ধরনীতল কেঁপে উঠে।

আইয়ামে জাহেলিয়্যাত বা অন্ধকার যুগ বলতে ইতিহাসের যে অধ্যায়কে বুঝায়, সে অধ্যায়ের মানুষের চাল-চলন আর চরিত্র থেকেও যে বর্তমান যুগের সভ্যদের চাল-চলন আর চরিত্র কত নিকৃষ্ট, তা তুলনা করে দেখলেই সত্য প্রকাশ হয়ে যায়।  হযরত রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নবুওয়্যাত প্রাপ্তির সময় থেকে এক শতাব্দী পূর্বের সময়কে আইয়ামে জাহেলিয়্যাত বা অন্ধকার যুগ বলা হয়ে থাকে। তৎকালীন অবস্থার সঙ্গে বর্তমান অবস্থার একটা তুলনামূলক আলোচনা করলেই আমাদের বর্তমান গর্বের তৃপ্তি ও হাসির অসারতা প্রমাণ হবে।

জাহেলিয়্যাতের যুগে সামাজিক ভাবে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি বর্গের বিশেষ প্রভাব ছিল। আর তাদের নেতা নির্বাচন করা হতো নেতার বিশেষ বিশেষ গুণের ভিত্তিতে। বয়োজ্যাষ্ঠতা, বিচক্ষণতা, সাহসিকতা, ব্যক্তিত্ব, কাব্যনুরাগ ইত্যাদি ছিল নির্বাচনের ভিত্তি। প্রত্যেক ব্যক্তি নেতার আনুগত্য স্বীকার করতো। যে কোন মূল্যের বিনিময়ে স্ব-স্ব-গোত্রের প্রাধান্য ও দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব বজায় রাখতো। আরবদের সে যুগের নেতা নির্বাচনের ধারা পদ্ধতিকে আমরা জাহেলিয়্যাত বলে থাকি। কিন্তু দেখা যাক আমরা যারা নিজেদেরকে সভ্যতার শিখরবাসী বলে দাবী করি, নেতা নির্বাচনের আমরা কোন পদ্ধতি গ্র্রহণ করি।

আমরা আমাদের সমাজের নেতা নির্বাচনে কোন প্রকার দক্ষতা, সাহসিকতা, বয়োজ্যাষ্ঠতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদির তোয়াক্কা না করে সমাজের বরং অশিক্ষিত মাস্তান, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, গডফাদার গোছের কালো টাকার মালিক ব্যক্তিদের মালপানি, মোরগ পোলাও এমনকি বিড়ি সিগারেট আর চা-পানের বিনিময়ে মূল্যবান ভোট বিক্রি করে থাকি। টাকার বিনিময়ে ভোট দেয়ার প্রতিনিধি হিসাবে একজনকে নির্বাচন করে গোটা গ্রামের ভোট একজনের নামে আদায় করে থাকি। মৃত ব্যক্তিদের নামেও ভোট গ্রহণ করা হয়। একজন পুরুষ অথবা মহিলা একাধিক ভোট দিয়ে থাকে। ভোট গ্রহণের পর শুরু হয় ভোট বাক্স ছিনতাই, মারামারি, হত্যা, ইত্যাদি। এ হল আধুনিক সভ্য যুগের প্রগতিবাদীদের নেতা নির্বাচনের অবস্থা।

সে জাহেলিয়্যাতের যুগের লোকেরা স্বদেশের স্বাধীনতা আর স্বগোত্রের ইজ্জত যে কোন মূল্যে রক্ষা করতো। কিন্তু আমরা? পারলে এখনই দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অন্যের হাতে তুলে দেই। বেরুবাড়ীতো দিয়েই রেখেছি। তিন বিঘাতো এখনো আমাদের বলে দাবী করতে পারছিনা। পার্বত্য চট্টগ্রাম তো সে তথাকথিত শান্তি বাহিনীর দখলেই আছে। অসাধু ব্যক্তিদের চোরাকারবারে দেশের অর্থনীতির বারোটা বাজিয়ে ছেরেছি। জাহেলিয়্যাতের যুগের লোকজন আমাদের মত দিনের বেলা দেশ প্রেমের মহিমা বয়ান করে রাতের অন্ধকারে দেশের সোনা-দানা, দলীল-দস্তাভেজ, গোপন তথ্য ভিন দেশে পাচার করে দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিত না। আমরা তো এখন অপকর্মে সকল দেশের সকল কালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছি।

জাহেলিয়্যাত যুগে ছিল না কোন আইনের শাসন। তাই তারা ‘জোর যার মুল্লূক তার’ এই নীতিতে বিশ্বাসী ছিল। কিন্তু আমাদের বর্তমান বিশ্বে আইনের শাসন তো রয়েছে তবুও কেন জাহেলিয়্যাত এর নীতি অবলম্বন হচ্ছে। বর্বর যুগের লোকদের খুন, হত্যা তখন ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।

কিন্তু সভ্য যুগের তরতাজা মানুষ ইমদু, আওরঙ্গ, কামাল, অভি, সুইডেন, আসিফ, শুব্রত, এরশাদ শিকদার ২৩ সন্ত্রাসী গং চক্র যাকে খুশী তাকে খুন করতো। মানুষ খুন করে ১২০ টুকরা করতো। মানুষ হত্যা করে মাথা কেটে ফুটবল খেলতো। অন্যের স্ত্রীকে চৌদ্দমাস জোর করে গৃহ বন্ধি করে রেখেছিল। এমন কোন অপকর্ম নেই যা তারা করে নি। অথচ দেশে আইনের শাসন ছিল। ছিল থানা পুলিশ আইন আদালত, হাকিম, জজ, ব্যরিষ্টার। দেশে ছিল একটি প্রতিষ্ঠিত সরকার। এর পরেও তাদের অত্যাচার নিপীড়ন আর আতংক থেকে জাতিকে মুক্ত রাখা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় ক্যাডার দ্বারা প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া। তাদের আধুনিক অনুশীলনে বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে স্তুপ হয়ে থাকতো মানুষের লাশ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এর পুরো একটি সেশন ধর্ষণ সেশন হিসাবে চলছিল। গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের যত্র তত্র প্রকাশ্যে চলতো  ব্যভিচার। সেখানে ধর্ষনের সেঞ্চুরী করা হতো। বর্বর যুগে যেনা ব্যভিচার চলতো অবাদে কিন্তু সভ্যযুগের মত ৩/৪ বছরের শিশু বাচ্চা থেকে ৮০ বছসরের বৃদ্ধার মত মহিলাদের ধর্ষণ করা হতো না। সে যুগে সমাজে অরাজকতা, মারামারি, কাটাকাটি, দুর্নীতি, ব্যভিচার, নারী হরণ, সুদ, ঘুষ, জুয়া, চুরি, ও লুটতরাজ প্রভূতি কার্যকলাপে নিন্দনীয় ছিলনা। কিন্তু আমাদের এ সভ্য সমাজে রাশি রাশি এমন দৃষ্টান্ত ছড়িয়ে আছে। যা পুরনো জাহেলিয়্যাতের কীর্তি কাহিনীকে ম্লান করে দিতে পারে।

বর্তমানে সংস্কৃতির নামে চলছে উশৃঙ্খলতা, বে-আদবী, বে-আইনী, বিভ্রান্তির খেয়ালে ইবলিশী প্রোগ্রামের বাস্তব অনুশীলন। আযানের বিরুদ্ধে কবি শামসুর রহমান ও কবীর চৌধুরী গংদের হামলা। ‘‘জাতীয় কবিতা উৎসব’ এর নামে মৌলবাদ তথা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য উস্কানি দেয়া। ইডেন গার্লস কলেজের বদরুন্নেছা হলের নামায কক্ষে ছাত্রীদের নামায বন্ধ করা। ২১ জন মুরতাদ একত্রিত হয়ে মসজিদে মোনাজাত বন্ধের ও পবিত্র কুরআনের পলিটিক্যাল আয়াত নিষিদ্ধ করার দাবীতে মৌলবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়। নাস্তিক মুরতাদ আবেদ খান রাজাকার তৈরীর উৎস মাদ্রাসা বন্ধের দাবী করে। রেডিও, টিভিতে কুরআন তিলাওয়াত ও আযান নিষিদ্ধ করার দাবী করা হয়। কবি সুফিয়া কামাল মহিলাদের বোরখা পড়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দেয়। মুসলিম নামধারী দুই কুলাংগার ইসলাম ও মানবাধিকার শিরোনামে’ বই প্রকাশ করে কুরআন হাদীস ত্যাগ করা ও এর চর্চা বন্ধের দাবী করে।

সংস্কৃতির নামে আমাদের দেশে চলছে অপসংস্কৃতি ১৯৯৫ সালের এপ্রিল মাসে রহস্য পত্রিকার সাংবাদিকের সম্মতিতে একটি চিঠি প্রকাশিত হলো। সে চিঠিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অবুঝ এবং ভুল ব্যাখ্যাকারী হিসেবে অপবাদ দেয়া হয়। সোনারগাঁও হোটেলে হ্যালোইন অনুষ্ঠান, বন্যার্তদের সাহায্যের জন্য কলড্যান্স অন্ষ্ঠুান, ডিসকো ড্যান্সের বি¯তৃতি, বিমানের অভ্যন্তরে ক্রদের প্রকাশ্যে নামাযের নিষিদ্ধ ঘোষণা, মুসলিম বিদ্বেষী বন্ধিমের ওপর আলোচনা, বাংলাদেশ বিমানে ‘ইশ্বরের কৃপা বিমান বালার ঘোষণা, পর্নোগ্রাফির সয়লাব, এনজিওদের প্রতিষ্ঠা, মনোগ্রামে কালী মুর্তি, বেতার বাংলা ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে তিলোওমা নারী মূর্তির ছবি একে ছবির নিতম্বে বায়তুল মোকাররম মসজিদের ছবি প্রদর্শন, মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে থিয়েটার উৎসব উদ্বোধন, রাজধানীর কে.জি স্কুলে ভারতীয় বই, সুন্দরী কেনা বেচার জন্য পত্র বিনিময়, বিদেশী ফ্যাশন শো, মৌলবাদের বিরুদ্ধে যুলীর কার্টুন, কপালে সিঁদুর লাগিয়ে বসন্ত বরণ, ইসলামের ইতিহাস বাদ দেয়ার দাবী, ১লা বৈশাখী মেলায় নারীর হাতে নরের পান্তা ভাত খাওয়ার প্রকাশ্য অনুষ্ঠান, বর্ষ বরণে বস্ত্র হরণ ইত্যাদি ইত্যাদি। আরো অনেক উদাহরণ দেয়া যায়, আপাতত এ পর্যন্তই থাক।

এবার ইসলাম, মুসলমান, আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখদের উপর চরম আঘাতের পর আঘাত হেনে দেশে অবলীলায় চলছে সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি। চিত্তবিনোদনের নামে চলছে অবাদে যেনা ব্যভিচার। অবিবাহিত যুগলের একত্রে সংসার করার জন্য চিত্তবিনোদনের নামে চলছে লিভ টুগেদার। গাড়ীর চাবি অদল বদল করে স্ত্রী অদল বদলের চিত্ত বিনোদনের একটা রেওয়াজ অভিজাত এলাকার কালো টাকার মহাজনদের মধ্যে রয়েছে। স্বামী তার স্ত্রীকে, স্ত্রী তার স্বামীকে, ভাই তার বোনকে নায়কের সাথে স্ত্রী, বোন, কন্যার কোলাকুলি, জড়াজড়ি ফষ্টিনষ্টির দৃশ্য দেখে চিত্ত বিনোদনের নামে চরম তৃপ্তি লাভ করে থাকে। বেশ্যাখানায় গিয়েও অনেকে মাথা ঠান্ডা করে চিত্ত বিনোদন করেন।  মদ গিলে, জুয়া, হাউজি খেলে, ধর্ষণ, খুন-খারাবি সুদ-ঘুষ, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই-রাহাজানী, চাঁদাবাজি, ইত্যাদি করেও আধুনিক ষ্ট্যান্ডার্ড চিত্ত বিনোদন করে থাকে এবং নিজেদেরকে সভ্য যুগের সভ্য মানব মনে করেন।

জাহিলিয়্যাতের যুগের মানব নামের যে সব হিংস্র বর্বর জানোয়ার ছিল তাদের অপকীর্তির তুলনায় বর্তমান সভ্যতার যুগের সভ্য মানুষ এর ফুটানিতে যারা ফেটে পড়ে তাদের অপকীর্তি অতীত যুগকে ম্লান করে দেয়। অতীত যুগের মানুষের সামনে যখন পবিত্র কুরআন এর দা’ওয়াত দেয়া হয়, তখন অমানিশা নিকষ কালো অন্ধকার ধীরে ধীরে দুরীভূত হয়ে আলোর উজ্জ্বল আভা প্রকাশ পেতে লাগলো। ফলে সেই জাহেলিয়্যাতের ও শিরকের অন্ধকার থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহ বিমূখ মানুষ গুলো মহান রাব্বুল আলামীনের খাঁটি বান্দায় পরিণত হল এবং তারা দুনিয়া থেকে বেহেস্তের সু-সংবাদ লাভে ধন্য হল। তাদের নাম ইতিহাসের পাতায় চীরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

আজকের এ উন্নতি ও বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের যুগে মানুষ আধুনিক হতে আধুনিকতর প্রযুক্তি ও শিল্প কল-কারখানা, বিল্ডিং, চোখ ঝলসানো বস্তু সামগ্রী, দূর দূরান্তে যোগাযোগের নানাবিধ মাধ্যম যেমন: টেলিফোন, ফ্যাক্স, ইন্টারনেট, দূুর দূরান্তে অতি সহজে যাতায়াতের জন্য দ্রুতগামী বাহন, যুদ্ধ জয়ের জন্য আধুনিক সমরাস্ত্র, স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য উন্নততর আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সহ শান্তির জন্য কত কিছুই না করা হয়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ সবের দ্বারা কি শান্তি পাওয়া যাচ্ছে? মোটেই না। কারণ শান্তিএকমাত্র দ্বীনের মধ্যেই নিহিত। আর দ্বীন হল আল্লাহ প্রদত্ত বিধি বিধান মেনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশিত পথে জীবন যাপন করা। যতদিন মানুষ দ্বীন ইসলাম তথা কুরআন সুন্নাহর পুরাপুরি অনুশাসন অনুকরণ করে জীবন যাপন করেছিল ততদিন তাদের মাঝে বিরাজ করছিল শান্তি সৌহার্দ, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি। কিন্তু সেই মুসলিম জাতি যখন নবীয়ে রহমতের প্রদর্শিত পথ থেকে বিচ্যুতি হয়েছে তখনই নেমে এসেছে তাদে উপর জুলুম-অত্যাচার ও নির্যাতন।

যুগের এই ক্লান্তি লগ্নে নবীয়ে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রক্ত ঝড়ানো দ্বীনকে পুণরায় পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য জান মালের কুরবানী করার প্র¯‘িত নিতে হবে। তাওহীদের হিলালী ঝান্ডা সর্বত্র উড়িয়ে দিতে হবে। ইসলাম প্রতিষ্ঠার দৃপ্ত শপথ নিতে হবে। আজো যদি মুসলিম জাতি পূণরায় ঈমানের বলে বলিয়ান হয়ে কুরআন ও সুন্নাহকে জীবনে বাস্তবায়ন করে, তাহলে খোলাফায়ে রাশেদীনের সে সোনালী যুগ আবারো ফিরে আসবে।

এ পৃথিবীতে ইসলামকে টিকিয়ে রাখতে হলে দ্বীনের দা’ওয়াত তথা আম্র বিল মারূফ এবং নাহী আনিল মুনকারের দুর্বার প্রেরণা আমাদের মাঝে জাগিয়ে তুলতে হবে।

সংস্কার ২৪১ মার্চ ২০১৯