সম্পাদকীয়

আজ ১৪ এপ্রিল। বাংলা সনের প্রথম দিন। পহেলা বৈশাখ। পৃথিবীর কোন বাংলা ভাষাভাষি সমাজে কিছু ঘটুক বা না ঘটুক বাংলাদেশে কিন্তু আজ ঘটবে মহাযজ্ঞ। এই দিনের জন্যে চৈত্রের আগমনের সাথে সাথেই শুরু হয় এই মহা আয়োজন। .......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-কুরআন

৩৭. তার কথার প্রসঙ্গে তার সাথি তাকে বললো; তুমি কি তোমার সেই মহান স্রষ্টার প্রতি কুফুরি করলে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর নোতফা (শুক্রবিন্দু) থেকে, তার পরে মানুষের আকৃতি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কর.......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-হাদীস

হযরত আবু যার রা. হতে বর্ণিত আছে যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির উপর অবশ্য কর্তব্য যে, তার শরীরের প্রত্যেকটি জোড়ের সুস্থতার শোকর স্বরূপ প্রত্যহ সকা.......

বিস্তারিত পড়ুন

ইসলামের সমরনীতি

ড. মুহাম্মাদ সিদ্দিক

ইসলামের সমরনীতিকে খামাখাই সমালোচনা করে বিরুদ্ধবাদীরা। খৃষ্টান পোপ পাদ্রীরা তিনশো বছর ধরে ক্রসেডের তথা কথিত ধর্মযুদ্ধ করে, খৃষ্টান রাষ্ট্রগুলো প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বেযুদ্ধে কোটি কোটি মানুষ হত্যা করে, আর ভারত উপমহাদেশে-আরব জাহানেও বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র ও রক্তপাত কম করে নাই। আর আমেরিকান রেড় ইন্ডিয়ানদের ও অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের কারা নিশ্চিহ্ন করল। ইহুদিদের তো  কঠোর যুদ্ধনীতি রয়েছে তাদের বিভিন্ন কিতাবে। সেগুলো ছিল তিন হাজার সাল আগের যুদ্ধনীতি। ইহুদিরা তা আজও প্রয়োগ করছে আশ্রয়দানকারী আরবদের উপরে। পুরাতন যুদ্ধনীতি এই বিংশ-একবিংশ শতাব্দীতে ইহুদিরা অনুসরণ করে কি নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিচ্ছে না? তারা কি মনে করে যে তাদের সঙ্গে এখন হযরত মুসা, হযরত দাউদ, হযরত সুলাইমান রয়েছে।

বর্ণ হিন্দু সম্প্রদায় মহাভারতের রণনীতির ভক্ত। বর্তমানে তাদের কেউ কেউ সেই রণনীতি বিকৃত করে অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপর প্রয়োগে ষড়যন্ত্র করছে। মহাভারতের যুদ্ধ হয়েছিল একই বংশের সিংহাসনের দখল নিয়ে। বর্ণ হিন্দুরা জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের জন্মস্থান থেকে এ দু’টি ধর্মকে প্রায় উৎখাত করেছে। হিন্দুদের সামরিক অভিযানে বৌদ্ধ ধর্ম পাহাড়-পর্বত-জঙ্গলে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। তামিল হিন্দু ‘এল টি টি-ই’ গেরিলারা শ্রীলংকায় অন্যদের সঙ্গে নিরস্ত্র মুসলমান নিধনে রত ছিল।

আর বৌদ্ধগণ? বৌদ্ধ জাপান-চীনের একাংশ দখল করে, আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন উপকূল অঞ্চল জয় করে কি লেকমহর্ষক ঘটনাবলীর দৃষ্টান্ত রেখেছে, তা বিশ্ববাসী জানে। জাপানি বৌদ্ধরা যুদ্ধে ‘কমফোর্ট ওমেন’ (আনন্দ দানকারী নারী) এর প্রথার প্রচলন করে। বার্মার বৌদ্ধ শাসকরা আরাকানী মুসলমানদের উপর নৃশংস অত্যাচার করে চলেছে। এরা পূর্বে মগ-রাখাইনদেরও অত্যাচারের স্বাদ পরখ করায়। ফলে বহু মগ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, অতীতে। 

কম্যুনিস্ট শাসনে সোভিয়েট ইউনিয়ন। কম্যুনিস্ট চীন, কম্বোডিয়া ও পূর্ব বলকানে মুসলমানদের একটি বিরাট অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। মুসলমানরা এখনও এসব এলাকাতে খুব মুসিবতে রয়েছে। সামরিক ইতিহাসের এত সব কলঙ্ক থাকা সত্ত্বেও মুসলমানদের জিহাদ নিয়ে ষড়যন্ত্র মূলক প্রচার প্রপাগান্ডা করা হয়। জিহাদ মুসলমানদের বেঁচে থাকার একটি উপায় মাত্র-যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ নিকট অতীতে আফগানিস্তান। পাশ্চাত্যই তো এ জিহাদকে সমর্থন প্রদান করেছিল? এখন অবশ্য ভোল পালটিয়েছে। সামরিক বিজয়কে পাশ্চাত্য অনৈতিক কার্য-কলাপেও ব্যবহার করেছে তার প্রমাণ রয়েছে। পর্তুগিজ ও স্পেনিশরা যেখানে সামরিক ভাবে খুঁটি গাড়ে, সেখানে প্রায় সবাইকে খৃষ্টান হতে হয়। তাইতো গোয়া, পূর্ব তিমুর, ফিলিপাইন প্রভৃতি জায়গায় জোর করে ধর্ম পরির্বতনের ইতিহাস রয়েছে। মুসলমান তো কোন সময় স্পেন বা বলকানে কারো উপর জোরাজুরি করে নাই। তবুও মুসলমানদের দোষ? রক্তারক্তির বিষয়টি কিছু কিছু মুসলমান ভয় পান ও এড়াতে চান। তাছাড়া এটিকে তারা একটি খারাপ দৃষ্টিতে দেখতে চান, এটিকে শান্তি-বিরোধী মনে করেন। তাই তারা ইসলামের সামরিক দিকটাকে এড়াতে চান। কিন্তু আমরা বলব, আপনারা এড়াতে চাইলেও অন্যরা এড়াবে না। আপনাদের জয়গা-জমিন সম্মান তো অন্যের দখলে। আপনারা অনেক ক্ষেত্রেই বহিষ্কৃত। আপনারা যদি দখলদারদের হটাতে না পারেন, বসে থাকুন। আপনাদের অযোগ্যতার জন্য আল্লাহ ইমাম মাহদীকে পাঠাবেন। অন্যেরা সমরিক নীতির আশ্রয় নিলে, মুসলমানরা কি তা থেকে পালিয়ে থাকতে পারবে? বাংলাদেশের অবস্থা যেনো শেষ পর্যন্ত গ্রানাডা বা চেচনিয়ার অবস্থার মত না হয়। যেভাবে ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদ হিটলারের নাৎসি বাহিনীর মত উঠে পড়েছে, তাতে কী হতে পারে ভেবে দেখেছেন কি? নাৎসিরা ইহুদি সহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের সহ্য করে নাই। 

ইসলামের সামরিক দিকটা থাকবে। তবে কথা হল যারা মনে করেন যে এটিই একমাত্র বা চূড়ান্ত পন্থা-তা ভাবা বোধ হয় ঠিক হবে না। এটি অন্যতম পন্থা। আর প্রয়োজন না হলে, এটির ব্যবহার না করাই ভালো। আল্লাহ কুরআনে সংঘর্ষ কামনা করতে নিষেধ করছেন। হ্যাঁ, তবে এসে পড়লে পালানো মহাপাপ। যাই হোক, ইসলাহ, প্রচার, তাসাউফ, রাজনীতি ইত্যাদি সহযোগী হতে পারে সামরিক পন্থার সামরিক পন্থা কোন একক স্বয়ং সম্পূর্ণ পন্থা নয়। ইসলাহ নেই, সামরিক অভিযান রয়েছে-তা সঠিক নয়। মুসলমান সামরিক নেতেৃত্বের যে গুণাবলী, তা অন্য সম্প্রদায়ের চেয়ে পৃথক এই জন্যই যে একজন মুসলমান সিপাহী ইসলাহ, তাবলীগের আদর্শ, তাসাউফের আধ্যাত্মিকতা ও ইসলামের রাজনীতি ন্যায়নীতি দ্বারা ইনসানে কামিল, মর্দে মুমিন। তার হাতে অন্যায় কিছু হতে পারে না। সে শুধু সত্যের সৈনিক। এ ধরনের সৈনিকের হাতে কোন অন্যায়, কোন অবিচার, কোন গণহত্যা, কোন পাশবিকতা, কোন বীভৎস কর্মকাণ্ড হতে পারে না। আমি বলতে চাই যে ইসলামের অন্যান্য দিকগুলিকে এড়িয়ে, বা খাটো করে শুধুমাত্র সামরিক পথ ইসলামের সঠিক ফলাফল দেবে না। অন্যান্য ‘পজিটিভ ইস্যু’ কে বাদ দিয়ে সামরিক সমাধানে গেলে, থাকবে শুধু সন্ত্রাস।

 বর্তমান বিশ্বে হাজারো কলঙ্কের ভিতর একটি আশার দিকও রয়েছে। বিশ্বে আজ কাল শিক্ষা প্রসারিত হয়েছে। মানুষ মিথ্যা খোদা, মিথ্যা ধর্ম ইত্যাদির উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। বিজ্ঞানের জয় যাত্রায় এসব মিথ্যা খোদা গায়েব হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষিত মানুষের মনে একটা শূণ্যতা বিরাজ করছে। কট্রর জাতীয়তবাদী পাশে যুক্তিবাদীর আগমন ঘটেছে। এই সব যুক্তিবাদী মানুষের দল ইসলামের জন্য একটি বিরাট সুযোগ। মিথ্যা খোদা ও ধর্মের বিপরীতে মুসলমানরা যদি এইসব আধুনিক মানসিকতার ধারক বাহকদের কাছে ইসলামের যুক্তিবাদী অবস্থান পেশ করতে পারত, তাহলে একটি বিরাট বিজয় ইসলামের জন্য হত। ইসলাম তো সম্পূর্ণ যুক্তি নির্ভর, সত্য ধর্ম। এখানে কোন মিথ্যা খোদা, মূতিপূজা, অবৈজ্ঞানিক-অযৌক্তিক কথা-বার্তা নেই। মিথ্যা ধর্মসমূহের প্রতি বীতশ্রদ্ধ আধুনিক মানসিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের কাছে ইসলামের আদর্শ উপস্থাপনের সুযোগ এসে গেছে। মানুষ আজকে আগের চেয়ে অনেক বেশী আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত। অতীতে যেভাবে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে একদেশ অন্যদেশকে কবজা করত, তেমনটি আর নেই। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, নারীর অধিকার, শ্রমের মর্যাদা, আন্তর্জাতিকতাবাদ ইত্যাদি কমবেশী হলেও এখন স্বীকৃত। এসবই তো ইসলামের কথা। সংঘর্ষ  হ্রাস পেয়ে বিশ্বে এখন আলোচনা, Òডায়লগÓ প্রচার ইত্যাদির সুযোগ এসে গেছে। ইসলামের জন্য তাই কৌশল হিসাবে সংঘর্ষের পন্থা আপাতত কোথাও কোথাও বন্ধ রেখে প্রচার (তাবলীগ) ও আলোচনার পন্থা অবলম্বন করা উচিত। এ কথাটি হুদায়বিয়া পরবর্তী অবস্থার মত। যেখানে যেখানে সংঘর্ষ চলছে সে সব এলাকা বাদ দিয়ে মুসলমানদের উচিত বাকী বিশ্বে জোরে সোরে প্রচার ও আলোচনার লাইন অনুসরণ করা। পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত এসব মানুষের নিকট যদি কুরআনকে সঠিক ভাবে উপস্থপন করা যায়, তাহলে বিভ্রান্ত, শূণ্য মন, প্রশান্ত হতে পারত। পাশ্চাত্যে যাদের কাছেই কুরআনকে উত্থাপন করা হয়েছে। তাদের অনেকেই অভিভূত হয়ে পড়েছে কুরআনের সৌন্দর্য ও যুক্তি-তর্ক। আমরা মুসলমানদের ভিতর যে স্টাইলে প্রচার করছি, যেভাবে তাবলীগ করছি, সেভাবে পাশ্চাত্যে বা অন্যত্র হবে না। আমরা তো কিছুটা হলেও ঈমানদার। তাই মুসলমানদের জন্য তাবলীগ পদ্ধতি, একেবারে সম্পূর্ণ নাস্তিকের জন্য বা বিধর্মীদের জন্য কৌশলগত দিক দিয়ে সঠিক হবে না। আমাদের বর্তমান তাবলীগ পদ্ধতিতে আমরা হাদীসের উপর বেশী জোর দিচ্ছি, কিন্তু নাস্তিককে আল্লাহর বান্দাহ বানাতে পদ্ধতি হবে ভিন্ন। কুরআনের এমন একটি আকর্ষণ রয়েছে এর স্টাইল, এর যুক্তি, এর ভাষার এর সৌন্দর্যের যে যুক্তিবাদী মত তা এড়াতে পারে না। কিন্তু অনেক ইসলাম প্রচারক কুরআনের দরসকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। হাদীস তো থাকবেই। তবে কুরআন কি বেশী গুরুত্ব পেতে পারে না। হাদীস তো বিশাল ভাণ্ডার। কুরআন সংক্ষিপ্ত পরিসরে ইসলামের নির্যাস, আর খুবই কার্যকরী। কুরআন হাতে করে নাস্তিকের সঙ্গে আলোচনা, ডায়ালগ করুন, ভালো ফল পাবেন। ফাঁকে ফাঁকে অবশ্য হাদীসও থাকবে।

 আমার এসব বলার অর্থ হল, আধুনিক বিশ্বে সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তনে ইসলামকে উপস্থাপনের চমৎকার সুযোগ এসেছে। পুরোপুরি ইসলাম অতীতে রাসূলুল্লাহ সা. ও খোলাফায়ে রাশেদীনের সময় ছিল। তার-পরে বিভিন্ন সময়ে ইসলামের উপস্থিতি হিসাবে কমবেশী ছিল। জনাব আবুল হাশিম তাঁর ‘দি ক্রিড অব ইসলাম’ গ্রন্থে লিখেছেন যে রাসূল সা. ও খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়টা ইসলামের একটি মডেল ছিল। আমাদের এই মডেল নিয়ে এগুতে হবে।  আমি বলব, হ্যাঁ মডেল ছিল। তবে যেহেতু পৃথিবী সবেমাত্র আধুনিক যুগে প্রবেশ করে, সে সময়। তাই অনেকের নিকট ইসলামের বিস্ময়কর দিকগুলোর মাধুর্য বোধগম্য হয় নাই-অতীতের কলুষতা অনেককে পিছনে টানছিল। তাই খোলাফায়ে রাশেদীনের পরে ইসলামকে আর সে রকম ভাবে প্রতিষ্ঠিত তেমন আর পাওয়া যায় নাই, যদিও পৃথিবী একেবারে ইসলাম শূণ্য হয় নাই। ইসলামের উপস্থিতি শতকরা হিসাবে হ্রাস-বৃদ্ধি পাচ্ছিল-কখনও শতকরা ৭৫ ভাগ, কখনও ২৫ ভাগ, আবার শতকরা কখনও ৫০ ভাগ। সোজা কথায় বলতে হয় ‘ইসলাম ওয়াজ এডভানসড অব ইটস এজ’-ইসলাম সময়ের চেয়ে অগ্রবর্তী ছিল। এ জিনিসকে বোঝানো যায় একটা উদাহরণ দিয়ে। তুঘলক বাদশাহ মোহাম্মদ তুঘলক তাঁর সময়ে কাগজের টাকা চালু করেছিলেন। তা কিছু দিন চালু ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে অনেকের অযোগ্যতা, অসহযোগিতা ইত্যাদির জন্য কাগজের নোট তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু কাগজের নোট তো আজ বিশ্বে সয়লাব, এই জন্য বলা হয়ে থাকে ‘মুহাম্মদ তুঘলক ওয়াজ ফার এডভানসড অব হিজ এজ’ মুহাম্মদ তুঘলক তাঁর যুগের জন্য বহু অগ্রবর্তী ছিলেন। ইসলামের মডেল ৭ম শতাব্দীতে  এসেছিল। এরপর কম-বেশী ছিল। বর্তমান সময়ই হল পূর্ণ ইসলামকে অনুধাবনের প্রকৃত সময়। কুরআনের জ্ঞান-বিজ্ঞান এখন মানুষের নিকট যুক্তিসম্মতভাবে বোধগম্য। একথা বিশ্বাস না হলে ড. মরিস বুকাইলীর ‘বাইবেল, কুরআন এন্ড সায়েন্স’ বইটি পড়–ন। পূর্ণ কুরআন-হাদীস প্রতিষ্ঠিত করার প্রকৃষ্ট সময় এখন। এখন বিভ্রান্ত আধুনিক মন কুরআন-হাদীসকে সহজে বুঝতে পারবে। আমাদের দায়িত্ব¡ তা বিশ্বের কাছে তুলে ধরা, প্রচার আলোচনা -ডায়ালগ এর মাধ্যমে। কবি ইকবাল তাঁর এক কবিতায় লিখেছিলেন, তিনি কবি অনাগত দিনের। কবির কাব্যের বিষয়বস্তু হল কুরআন ও হাদীস। আর কবির সময় তখনও অনেকে কুরআন ও হাদীস অনুধাবনে সক্ষম হয় নাই। কবির বাণী আকৃষ্ট করবে অনাগত ভবিষ্যৎকে-কবির সময়কে নয়। কবি ইকবাল সঠিক কথাই বলেছেন।

মোদ্দা কথা যে সব এলাকায় সংঘর্ষ নেই। যে সব এলাকাতে নিরপেক্ষ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেখানে কুরআন-হাদীসকে প্রচার ও আলোচনার মাধ্যমে উপস্থাপিত করার দায়িত্ব¡ মুসলমান সমাজের। জাতি এ সুযোগের সদ্ব্যবহার না করলে পস্তাতে হবে। ইতিমধ্যেই খৃষ্টান এনজিও, চার্চ, পোপ, পাদ্রীরা বাইবেল প্রচারে তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।

পুরো ইসলাম নিয়ে আমরা বিশ্বের সামনে না দাঁড়ালে, চার্চ খণ্ডিত-বিকৃত ইসলাম (খৃষ্টাবাদ) নিয়ে হাজির হবে। হাজার হলেও হযরত ঈসা আ. এর ধর্মও তো ছিল ইসলাম। তা কে অস্বীকার করবে? বিশ্ব কি তাহলে দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাবে? আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, পলিনেশিয়া, পূর্ব এশিয়াতে খৃষ্টধর্ম প্রবল বেগে ঢুকছে অর্থের প্রলোভনে। আফগানিস্তানে জিহাদের মাধ্যমে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হলেও, তা খুব দ্রুততার সঙ্গে করা হয় গতি মধ্য পন্থায় রাখা উচিত ছিল। জিহাদে অনেকেই শরীক হলেও, পরবর্তীতে শুধু পাকিস্তানপন্থী আলেম ও তালেবে ইলেম ক্ষমতা দখল করে। এখন তো খৃষ্টান বাহিনীর হাতে আফগানিস্তান। জিহাদ সম্পর্কে পুনর্বার বলতে হচ্ছে যে ইসলাম বিরোধী শক্তিসমূহ জিহাদ নিয়ে সমালোচনা ও ব্যঙ্গ করে থাকে। আমার উত্তর হল কেন এ ব্যঙ্গ? অমুসলিমরা তো জিহাদ করছে, এবং এখনও রয়েছে। বিরুদ্ধবাদীরা জিহাদকে শুধু সংঘর্ষের দৃষ্টিভঙ্গিতে  দেখতে চায়, তাহলে বলতে হয় যে তাতো তারাও করে, আর তা খুবই জঘন্য ভাবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ক্রুসেডের যুদ্ধ, স্পেনে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, জাপানের চীনের যুদ্ধ, ইসরাইলের সাবরা ও সাতিলার হত্যাকান্ড, রেডইন্ডিয়ান ও অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের সংঘর্ষ, সোভিয়েট কম্যুনিষ্টদের মুসলমান জাতিসমূহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, হিন্দুদের রাম-রাবনের যুদ্ধ, কুরুক্ষেত্র, বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত সংঘর্ষ ও কাশ্মীরী মুসলমান হত্যা- এসব কি? মুসলমানদের যুদ্ধে হযরত মুহাম্মদ সা. ও চার পূণ্যবান খলিফার যুদ্ধনীতিই হল আদর্শ। আর তা হল দুর্বলদের সাহায্য ও আত্ম রক্ষার্থে। কুরআন বলে ‘যারা ঈমানদার তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, আর যারা অবিশ্বাসী তারা যুদ্ধ করে শয়তানের পথে’। (নিসা:৭৬) মুসলমানদের বিরুদ্ধবাদীরা যদি যুদ্ধ-বিরোধীই হয়, তাহলে তারা তাদের সামরিক বাহিনী ভেঙ্গে দিলে পারে। নিজেদের সামরিক শক্তি দিন দিন বৃদ্ধি করতে থাকবে, আর মুসলমানদের সামরিক শক্তির তারা খর্বতা কামনা করবে, তা কি করে হয়? শেষ কথা হল যে দু’একটি স্থান যেমন ফিলিস্তীনে সামরিক জিহাদের পরিস্থিতি থাকলেও অন্যত্র অসামরিক জিহাদ প্রচেষ্টা এর মাধ্যমে মুসলমাদের এগুতে হবে।

সংস্কার ২৪১ মার্চ ২০১৯