সম্পাদকীয়

আজ ১৪ এপ্রিল। বাংলা সনের প্রথম দিন। পহেলা বৈশাখ। পৃথিবীর কোন বাংলা ভাষাভাষি সমাজে কিছু ঘটুক বা না ঘটুক বাংলাদেশে কিন্তু আজ ঘটবে মহাযজ্ঞ। এই দিনের জন্যে চৈত্রের আগমনের সাথে সাথেই শুরু হয় এই মহা আয়োজন। .......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-কুরআন

৩৭. তার কথার প্রসঙ্গে তার সাথি তাকে বললো; তুমি কি তোমার সেই মহান স্রষ্টার প্রতি কুফুরি করলে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর নোতফা (শুক্রবিন্দু) থেকে, তার পরে মানুষের আকৃতি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কর.......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-হাদীস

হযরত আবু যার রা. হতে বর্ণিত আছে যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির উপর অবশ্য কর্তব্য যে, তার শরীরের প্রত্যেকটি জোড়ের সুস্থতার শোকর স্বরূপ প্রত্যহ সকা.......

বিস্তারিত পড়ুন

অফুরন্ত নেকীর মাস রমজান

মাও.আবদুস সবুর

রমজান বরকতময়। রাসূলুল্লাহ সা. এর বিশিষ্ট সাহাবী সালমান ফারসি রা. বলেন, রমজানের এক দুই দিন আগে রাসূল সা. রমজানের গুরুত্ব সম্পর্কে ওয়াজ করেছেন, Òহে লোকেরা! তোমাদের সম্মুখে বরকতময় একটি মাস আসছে”। (মেশকাত: ১৯৬৫)। এ মাসে আসমান, রহমত ও জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয়। রাসূল সা. ইরশাদ করেন, Òবেহেশতের আটটি দরজা রমজানে খুলে দেয়া হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। শয়তানদের লোহার শিকল দ্বারা বেঁধে রাখা হয়”। (বুখারী: ৩০৩৫)। এ মাসে বরকতময় জিনিস নাযিল হয়েছে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, Òরমজানই হলো সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়াত এবং সত্য পথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী”। (বাকারা: ১৮৫)।

একটি রোজার ফজিলত

রমজানের রোজা আল্লাহ তায়ালা আমাদের ওপর ফরজ করে দিয়েছেন। রোজা রাখতে হবে, নিজের ছোট ছোট ছেলেমেয়েকেও উৎসাহিত করতে হবে, অভ্যস্ত করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই তা ছাড়া যাবে না। হাদীসে বর্ণিত আছে, রমজানের একটি রোজার পরিবর্তে সারা জীবন রোজা রাখলেও এর ক্ষতিপূরণ হবে না। রমজানের সেই রোজার সমান ফজিলত কখনও অর্জিত হবে না। রমজানের রোজা ফরজ। তারাবির নামাজ সুন্নত। ২০ রাকাত তারাবি পড়া সুন্নত। তারাবি জামাতের সঙ্গে পড়া সুন্নত। তারাবির মধ্যে পূর্ণ ৩০ পারা কুরআন একবার শোনাও সুন্নত। পুরো রমজানে তারাবি পড়া আরেকটি ভিন্ন সুন্নত।

ইবাদতের মাস

রমজান বেশি বেশি নফল পড়ার মাস। নফল ইবাদত করার মাস। রমজান ইবাদতের মৌসুম। যত বেশি ইবাদত করা যায়, ততই ভালো। রমজানে নফল পালনে ফরজের সমপরিমাণ সওয়াব হয়। একটি ফরজ আদায় করলে, অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায় করার সমান সওয়াব আল্লাহ তায়ালা দান করবেন।

ধৈর্যের মাস

রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, Òমজান হলো ধৈর্যের মাস’। রমজান অর্থ জ্বালানো, পোড়ানো” । সওম অর্থ বিরত থাকা। তার মানে এ মাসে খাওয়া-দাওয়া অন্যায়-অপকর্ম বাদ দিয়ে, চোখ-কান-নাক সবকিছু হেফাজত করে, খাওয়া-দাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রেখে, নিজের জান-শরীর ও নফসকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে এ মাসে ধৈর্য ধরে, বেশি বেশি সওয়াব আর আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা। এজন্য রমজানকে ধৈর্যের মাস বলা হয়েছে। এ মাস ধৈর্যের, জ্বালানো-পোড়ানোর মাস, বিরত থাকার মাস। অন্য মাসে যেটা হালাল, সেটি এ মাসে হারাম। অন্য মাসে খাওয়া, পান করা, স্ত্রী সহবাস করা হালাল, কিন্তু এ মাসে হারাম। সুতরাং এসব জিনিস থেকে বিরত থেকে, নিজেকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে, নিজেকে ধৈর্যধারণ করিয়ে এ মাসে কিছু অর্জন করতে হবে। ধৈর্যধারণ করতে পারলে এর বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা আমাকে চিরসুখের স্থান বেহেশত দেবেন।

সমবেদনার মাস

এ মাস পারস্পরিক সমবেদনা জ্ঞাপনের। এ মাসে আমরা দেখব, একজন গরিব মানুষ না খেয়ে থেকে কেমন কষ্ট পান। আমিও তো না খেয়ে থাকছি। সারা দিন আমার কী রকম কষ্ট লাগছে। এটা একটা সমবেদনা হবে। তখন আমার অন্তরে একটা আগ্রহ জন্ম নেবে যে, তাকে কিছু দান-খয়রাত করা দরকার। সে যেন এ কষ্ট আর না পায়। এ মাসে বেশি বেশি দান-খয়রাত করা উচিত। সমবেদনা জ্ঞাপন করা ও অন্যের দুঃখে দুঃখিত হওয়া দরকার। রোজাদারকে ইফতার করালে তিনটি লাভ! এ মাসে আল্লাহ তায়ালা মোমিনের রিজিক বৃদ্ধি করে দেন। ইফতারে তা পরিলক্ষিত হয়। রাসূল সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি রমজানে রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তিনটি লাভ পাবে।

এক. তার জীবনের সব গোনাহ আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দেবেন।

দুই. দোজখ থেকে তাকে মুক্তি দেয়া হবে।

তিন. যে ব্যক্তিকে আপনি ইফতার করাবেন, সে রোজা রেখে যে পরিমাণ সওয়াব পেয়েছে, ওই পরিমাণ সওয়াব আপনার আমলনামায় আল্লাহ তায়ালা দান করবেন। কিন্তু রোজাদারের সওয়াবে কোনো কমতি হবে না। এ কথা শোনার পর সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা তো গরীব মানুষ। একজন রোজাদারকে ইফতার করানোর মতো সামর্থ আমাদের নেই। রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, শোন! এ তিনটি পুরস্কারের জন্য তোমাদের এক টুকরা খেজুর কিংবা এক ঢোঁক পানি বা এক ঢোঁক দুধ দ্বারা ইফতার করানোই যথেষ্ট। এতেও আল্লাহ তায়ালা ওই তিনটি পুরস্কার দেবেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সা. আরও বলেন, “এটা এমন একটা মাস, যে মাসের প্রথম ১০ দিন রহমত, মাঝের ১০ দিন মাগফিরাত আর শেষের ১০ দিন দোজখ থেকে মুক্তি”। (মেশকাত: ১৯৬৫)।

শ্রমিকের কাজ কমিয়ে দিলে দু’ইটি লাভ

এরপর রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, এ মাসে যদি মালিক তার শ্রমিকের কাজ কমিয়ে দেয়, রোজা রাখার সুযোগ করে দেয়, তাহলে মালিকের দু’ টি লাভ। এক. তার জীবনের সব গোনাহ আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দেবেন।

দুই. দোজখ থেকে মুক্তি দেবেন। এজন্য মালিকের উচিত, এ মাসে শ্রমিকের কাজ কমিয়ে দেয়া। তাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়তে বলা, রোজা রাখতে বলা, তারাবি পড়তে বলা। এরপর যতটুকু দায়িত্ব পালন করা সম্ভব, ততটুকু করতে আদেশ দেয়া । (মুহাম্মদ আশরাফুল আলম ইসলাম)  অনুলিখন;।

সংস্কার ২৪১ মার্চ ২০১৯