সম্পাদকীয়

আজ ১৪ এপ্রিল। বাংলা সনের প্রথম দিন। পহেলা বৈশাখ। পৃথিবীর কোন বাংলা ভাষাভাষি সমাজে কিছু ঘটুক বা না ঘটুক বাংলাদেশে কিন্তু আজ ঘটবে মহাযজ্ঞ। এই দিনের জন্যে চৈত্রের আগমনের সাথে সাথেই শুরু হয় এই মহা আয়োজন। .......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-কুরআন

৩৭. তার কথার প্রসঙ্গে তার সাথি তাকে বললো; তুমি কি তোমার সেই মহান স্রষ্টার প্রতি কুফুরি করলে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর নোতফা (শুক্রবিন্দু) থেকে, তার পরে মানুষের আকৃতি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কর.......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-হাদীস

হযরত আবু যার রা. হতে বর্ণিত আছে যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির উপর অবশ্য কর্তব্য যে, তার শরীরের প্রত্যেকটি জোড়ের সুস্থতার শোকর স্বরূপ প্রত্যহ সকা.......

বিস্তারিত পড়ুন

মাঝে মাঝে মনে হয় সব কথার সব লেখার হয়েছে অবসান

এহসান উল্লাহ্

সময় মনের সাথে কথা বলে কি না-জানি না। তবে এটা বেশ ভাল ভাবে উপলব্ধি করতে পারি, নীরবতা মনের সাথে অতি সংগোপনে একান্তে কথা বলে। মৌন সে ভাষা নিরব কথার আড়ালে লুকিয়ে থাকে ব্যথিত মনের নীরব অশ্রুজল। যখন যে অবস্থায় নীরবে চুপি চুপি বসে থাকি না কেন, নীরবতা যে মনের সাথে বসে বিশেষ ভাবে কথা বলে, এটা বুঝতে পারি। উদয় অস্ত যখন ভাবি এবং মনের একান্ত ভাবনাগুলো যখন মনের সাথে কথা বলে, তখন সব কথা ও ভাবনাসমূহ কি নিরর্থক? এগুলোর কি কোন অর্থ নেই? ভাবনাগুলোর কি কোন আদি-অন্ত নেই? মানুষের মনের মৌলিক কথা ভাবনা চিন্তা তার মনের বহিঃপ্রকাশ ব্যহ্যত: তার কোন অর্থ হয়ত সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না সত্য কিন্তু তার স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করারও উপায় নেই। কারণ মন মনের কথাই বলে। আর মানুষের মন বড় চঞ্চল। বিচিত্র তার গতিধারা। বলার অপেক্ষা রাখে না কবি-সাহিত্যকের মন অত্যন্ত আবেগ প্রবন। এমন ভাবে মনের এলোমেলো ভাবনাগুলো মেঘের মত কোথায় যেন উড়ে গিয়ে পথ হারায়। আবার তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসি যত্ন সহকারে, নিমগ্ন  হই কল্পনার জগতে। কিন্তু মনের সেই সব অবিন্যস্ত ভাবনাগুলোকে সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে বড্ড বেগ পেতে হয়। আর তখনই মনে হয় লেখার বুঝি আর কিছু নেই। সব লেখার, লেখার সব কথা ও ভাবনার সব শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু যখন ভাবনার অপ্রশস্ত অলি-গলি অতিক্রম করে লেখার প্রশস্ত রাস্তায় এসে দাঁড়াই তখন কিন্তু মনে হয় না যে সব কথা ও ভাবনার এবং লেখার সব শেষ হয়ে গেছে! লেখার বিষয় কখনই শেষ হয় না। ভাবনারও হয় না ইতি। হয়তো কখনো কখনো লেখার প্রতি একটা অনিহা আসে। আর আসাটাই স্বাভাবিক। তবে সেটা সাময়িক। আর এই ছেদ পড়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। মানব জীবনের বিচিত্র গতিধারা বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ কারণে ভিন্ন খাতে ধাবিত হয়।

কখনো সুখ, কখনো দুঃখ পালা বদল করে অনাকাঙ্খিত ভাবেমানব জীবনে আসে। কারো জীবনই গোলাপ ফুলের শয্যা নয় । একটা অবসাদ, ক্লান্তি ও  অনভিপ্রেত দুঃখ, তার পরেই আসে অনাবিল সুখ ও শান্তি। যেমন আসে শীতের পরে বসন্ত। বলতে চাইছি-দুঃখ সাথে কবে নিয়ে আসে সুখ আবার উল্টো করে বলা যায় সুখের পিছনে থাকে অবাঞ্ছিত দুঃখ। এমনি ভাবে ভাবনার ব্যরোমিটার মনের ভিতরে আপ-ডাউন করছিল যখন অলস ভঙ্গিতে সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে গালে হাত দিয়ে বসে বসে ভাবছিলাম। মনের অলস ভাবনাগুলোত আর চুপচাপ বসে থাকে না। প্রতিদিনের অভ্যাস বশত: দূরদর্শন চালু করে দিয়ে গানে গানে সকাল শুরু, অনুষ্ঠানটি দেখছিলাম । নিস্ক্রিয়ত কেটে মন তখন বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠে। মনের কন্দরে লুকিয়ে থাকা ভাবনাগুলো তখন সক্রিয় হয়ে উঠে। তখন নতুন একটা অনুভূতির যাদু-স্পর্শে মন বলে-লেখার বিষয় কখনই শেয় হয় না, ভাবনার হয় না শেষ, কথা কখনো ফুরোয় না। হ্যাঁ মনের জলভূমি যদি কখনো শুষ্ক হয়ে যায় তখন মনের সুকুমার প্রবৃত্তিগুলো নিরস হয়ে যায়। মাঝে মাঝে মনের ভাবনাগুলো কোথায় যেন হারিয়ে যায় ঠাহর করতে পারি না। কোন রকমে মনের অবিন্যস্ত ভাবনাগুলোকে সযতেœ ধরে রাখার চোষ্টা করি। আসলে মনের লালিত ভাবনাগুলো জোয়াড় ভাটার মত । কখনো উজানমুখি হয়, কখনো ভাটায় মিম্নগামী হয়। মনের ভাটার এই নিম্নমুখীতা অনেক সময় মনে একটা অজানা ব্যথার সৃষ্টি করে, ফলে একটা অবিমিশ্র মিষ্ট্রির হয় মনে। আমি যেন একটা রহস্যলোকে প্রবেশ করছি। বুঝতে পারি না কি সেই রহস্য!  মনে হয় এটাই যেন পরমাত্মা। তখন দূরকে নিকট এবং নিকটকে দূর মনে হয়। কিছুতেই কাছে যেতে পারি না, মনের সংশয়ও দূর হয় না। তাই মনের ঘোর কাটে না। তখন খুব কষ্ট হয় ব্যথা অনুভব করি। হতাশ হয়ে পড়ি। তখন মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথের দুঃসময় কবিতার কয়েকটি লাইন,

“ওরে বিহঙ্গ ওরে বিহঙ্গ মোর খনিক অন্ধ বন্ধ করো না পাখা”।

তখন উপলব্ধিতে আসে জীবন সচল! মৃত্যু অচল। অচলতা স্থবিরতা আনে। সচলতা আনে জীবন। তখন মনের বদ্ধ দুয়ার যায় খুলে। জীবন কত সুন্দর।

 

 

সংস্কার ২৪১ মার্চ ২০১৯