সম্পাদকীয়

আজ ১৪ এপ্রিল। বাংলা সনের প্রথম দিন। পহেলা বৈশাখ। পৃথিবীর কোন বাংলা ভাষাভাষি সমাজে কিছু ঘটুক বা না ঘটুক বাংলাদেশে কিন্তু আজ ঘটবে মহাযজ্ঞ। এই দিনের জন্যে চৈত্রের আগমনের সাথে সাথেই শুরু হয় এই মহা আয়োজন। .......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-কুরআন

৩৭. তার কথার প্রসঙ্গে তার সাথি তাকে বললো; তুমি কি তোমার সেই মহান স্রষ্টার প্রতি কুফুরি করলে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর নোতফা (শুক্রবিন্দু) থেকে, তার পরে মানুষের আকৃতি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কর.......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-হাদীস

হযরত আবু যার রা. হতে বর্ণিত আছে যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির উপর অবশ্য কর্তব্য যে, তার শরীরের প্রত্যেকটি জোড়ের সুস্থতার শোকর স্বরূপ প্রত্যহ সকা.......

বিস্তারিত পড়ুন

শিশুর শিক্ষা ও দৈহিক বিকাশ

শারমীন আকতার

 

(মে ২০১৭, ২২৩ সংখ্যার পর)

গিল্ডফোর্ডের বুদ্ধির সংগঠন তত্ত্ব (Guildford`s Theory on the Structure of Intellect): ১৯৭৯ সালে ক্যালিফোর্ণিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গিল্ডফোর্ড তার সহকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা করে বুদ্ধির ৮০টি উপাদান সনাক্ত করেছেন। এই উপাদানগুলোকে আবার তিনি তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করেছেন। তার মতানুসারে বুদ্ধির ৩টি মাত্রা (dimension)। তিন শ্রেণীতে বিভক্ত বুদ্ধির উপাদানগুলোকে তিনি বুদ্ধির ৩টি মাত্রা হিসাবে বিবেচনা করেছেন। এই মাত্রা তিনটি হলো,

ক. প্রক্রিয়াগত মাত্রা (operational dimension)

খ.বিষয়বস্তুগত মাত্রা (Content dimension)

গ. ফলাফলের মাত্রা (dimension of the product)

ক. প্রক্রিয়াগত মাত্রা

১. অভিসারী চিন্তন

২. কেন্দ্রানুগ চিন্তন

৩. মূল্যায়ন

৪. স্মৃতি

৫. প্রজ্ঞা

খ. বিষয়বস্তুগত মাত্রা

১. চিত্রগত

২. সাংকেতিক

৩. বিমূর্ত

৪. আচরণমূলক

গ. ফলাফলের মাত্রা

১. একক

২. শ্রেণী

৩. সম্পর্ক

৪. সংগঠন

৫. পরিবর্তনশীলতা

৬. তাৎপর্য 

গিল্ডফোর্ডের প্রক্রিয়াগত মাত্রা হলো প্রাথমিক মানসিক প্রক্রিয়া সংক্রান্ত উপাদান। পাঁচ ধরণের মানসিক ক্ষমতা এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত। তা হলো-প্রজ্ঞা (coghition) স্মৃতি (Memory) কেন্দ্রানুগ চিন্তন (Convergent thinking) অভিসারী চিন্তন (Divergent thinking) এবং মূল্যায়ন (Evaluation)। বিষয়বস্তুগত মাত্রা হলো বিষয়বস্তু সংক্রান্ত উপাদান অর্থাৎ বুদ্ধিমূলক কাজে বিষয়বস্তুর বিভিন্নতা। এই মাত্রায় তিনি চার প্রকারের ক্ষমতাকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যথা-চিত্রগত বা মূর্ত (Figural or concrete), সাংকেতিক বিষয়বস্তু (Simbolic), বিমূর্ত ভাষাযুক্ত বিষয়বস্তু (Simantic), আচরণমূলক বিষয়বস্তু (Behavioral)।

ফলাফলের মাত্রা হলো জ্ঞানের প্রকৃতি সংক্রান্ত উপাদান। বুদ্ধির ক্রিয়ার ফলে ব্যক্তির কাজে জ্ঞাতব্য বিষয়বস্তু বিশেষ প্রকৃতিতে আসে, এটিই ফলাফলের মাত্রা। মানসিক ক্ষমতা ও বিষয়বস্তু সংক্রান্ত ক্ষমতার পারস্পরিক ক্রিয়ার ছয় রকমের ফল পাওয়া যায়। তাহল এককের ধারণা (Unit), শ্রেণীগত ধারণা (Classes), সম্পর্ক সম্পর্কে ধারণা (Relation), সংগঠন সম্পর্কে ধারণা (System), পরিবর্তনশীলতা সংক্রান্ত ধারণা (Transformation) এবং তাৎপর্য সংক্রান্ত ধারণা (Implication)।

বুদ্ধির পরিমাপ (Measurement of Intellgence): বাস্তব জীবন পর‌্যাবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, ব্যক্তিভেদে কাজ করার দক্ষতা ও জ্ঞানের পরিধি বিভিন্ন এবং স্বভাবতই আমরা বলি বুদ্ধির তারতম্যের জন্যই ব্যক্তির এই বিভিন্নতা। অতএব বুদ্ধির তারতম্য মূল্যায়ন করতে হলে বুদ্ধির পরিমাপ আবশ্যক।

মানুষ যা কিছু আচরণ করে তা তার লব্ধ শিক্ষা বা অভিজ্ঞতা থেকে সৃষ্টি অভিব্যক্তি। এই অভিব্যক্তি অবশ্যই ব্যক্তির বুদ্ধি নির্ভর। তাই বুদ্ধি পরিমাপক অভীক্ষা বলতে বিশেষ মানসিক বৈশিষ্ট্য জানার জন্য বা প্রতিক্রিয়া জানার জন্য ব্যবহৃত উদ্দীপক সমূহের সমষ্টিকেই বোঝায়। এই উদ্দীপক হতে পারে ভাষাগত, শব্দগত সক্রিয় আচরণমূলক। নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বুদ্ধি পরিমাপক অভীক্ষা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

১. বিনে-সাইমন বুদ্ধি অভীক্ষা (Benet-Simon Scale):  ফরাসি মনোবিজ্ঞানী আলফ্রেড বিনে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের বুদ্ধি পরিমাপের কৌশল উদ্ভাবন করার চিন্তাভাবনা করছিলেন। ঠিক সেই সময়ে ফরাসি সরকার ও অকৃতকার্য বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের নিয়ে মহাসমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন। কারণ এদের জন্য সরকারকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছিল। স্বল্প বুদ্ধি সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক পর্যায়ে বাছাই করা গেলে প্রচুর অর্থের সাশ্রয় হতো এই উদ্দেশ্যে ফরাসি সরকার ১৯০৪ সালে আলফ্রেড বিনেকে এমন একটি বিজ্ঞান সম্মত কৌশল আবিষ্কার করতে বললেন, যার দ্বারা স্বল্প বা ক্ষীণ বুদ্ধিসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের আগে ভাগেই বাছাই করে আলাদা কার যায়।

ড: সাইমন তখন সরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তিনি লক্ষ্য করেছিলেন যে, স্বল্পবুদ্ধি সম্পন্ন রোগীরা তাদের বুদ্ধির স্বল্পতার দরুন তাদের রোগের লক্ষণ, বিবরণ ও দৈহিক অসুবিধার কথা সঠিকভাবে বলতে পারে না, ফলে রোগ নির্ণয়ে ও চিকিৎসায় নানা জটিলতা ও অসুবিধার সৃষ্টি হয়। তাই তিনিও বিনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হন। বিনে সাইমনের নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই ১৯০৫ খৃষ্টাব্দে, সর্বপ্রথম বিজ্ঞান ভিত্তিক বুদ্ধি অভীক্ষা প্রকাশিত হয়। এই অভীক্ষা বিনে-সাইমন স্কেল নামে পরিচিত।

এই অভীক্ষাটি ছিল মূলত: একটি প্রশ্নমালা। অভীক্ষার্থীকে এই প্রশ্নগুলির উত্তর দিতে বা সমস্যাগুলি সমাধান করতে বল হয়। এই প্রশ্ন বা সমস্যাগুলি আবার এক শ্রেণীর নয়। যেমন-মুখস্তবিদ্যা, মনে রাখা, যুক্তি চিন্তা, তুলনা করা, সম্বন্ধ নির্ণয় করা, বিচার করা, ভুল বের করা, সংখ্যা ব্যবহার করা ইত্যাদি বিভিন্ন মানসিক কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে প্রশ্নগুলির উত্তর দিতে হয়। যেহেতু বুদ্ধি একটি বিশেষধর্মী শক্তি নয় বরং বিভিন্ন ধরনের কাজের মধ্যে বুদ্ধির পরিচয় মিলে এবং তা সকলের জন্য সুসমও নয় তাই কোন বিশেষ ধরনের কাজ দিয়ে অভীক্ষাটি তৈরি না করে বিভিন্ন ধরনের কাজ ও সমস্যা দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। এজন্য সমস্যা, প্রশ্নের বৈচিত্র্য এবং বিভিন্নতা বিনে-সাইমন অভীক্ষার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

এই অভীক্ষার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ক্রমবর্ধমান হারে সমদূরত্ব সম্পূন্ন এককের সজ্জা। এখানে অভীক্ষার্থীর বয়সকে একক ধরা হয়। অভীক্ষার্থীর বয়স অনুযায়ী এককগুলি বিভিন্ন পর্যায়ে বিভক্ত। স্কেলের নিম্নতম একক হলো তিন বছর বয়সের জন্য নির্ধারিত কতগুলো প্রশ্ন বা সমস্যা। তার পরেরটি হলো চার বছরের জন্য নির্ধারিত কতগুলি প্রশ্ন বা সমস্যা। এভাবে ক্রমশ: ধাপে ধাপে ১৫ বছর গিয়ে স্কেলটি শেষ হয়। বিনে-সাইমন স্কেলের তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রশ্ন বা সমস্যাগুলো ক্রমবর্ধমান দুরুহতার মান অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। অর্থাৎ অভীক্ষার সর্বপ্রথম আইটেমটি সবচেয়ে সহজ এবং সর্বশেষ আইটেমটি সবচেয়ে কঠিন। এতে শিশু মানসিক ক্ষমতা অনুযায়ী বয়ঃবৃদ্ধি অনুসারে প্রথম থেকে ক্রমশ শেষের দিকের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে।

বিনে-সাইমন বুদ্ধি অভীক্ষার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো মানসিক বয়সের পরিকল্পনা। সত্যি কথা বলতে কি এই অভিনব পরিকল্পনাটিই বুদ্ধিমতত্তা অভীক্ষায় আধুনিক কালের সাফল্যের চাবিকাঠি। বিনের প্রশ্নপত্রে বয়স অনুযায়ী কতগুলি প্রশ্ন আছে। একটি ৭ বছরের বালক তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নগুলির উত্তর দিতে পারলে বলা যেতে পারে বালকটির মানসিক বয়স ৭। যদি নির্ধারিত প্রশ্নের সবগুলোর উত্তর দিতে ব্যর্থ হয় তবে তার মানসিক বয়স ৭ এর কম। কিন্তু যদি ৮ বা ৯ বছরের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারে তবে তার মানসিক বয়স ৮ বা ৯ বছর হবে।

২. স্ট্যানফোর্ড-বিনে স্কেল (Stanford-Binet Scale): ১৯১৬ খৃষ্টাব্দে আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এল. এম টারম্যান বিনে সাইমন অভীক্ষার পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করে যে অভীক্ষাটি প্রণয়ন করেন তাই স্ট্যানফোর্ড-বিনে স্কেল নামে পরিচিত। এই সংস্করণে পূর্বের কিছু প্রশ্ন বাদ দেয়া হয় ও নতুন কিছু প্রশ্ন সংযোজন করা হয়।

টারম্যান, সর্বপ্রথম বুদ্ধি পরিমাপের গাণিতিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন এবং বুদ্ধাঙ্ক শব্দটি ব্যবহার করেন। স্ট্যানফোর্ড বিনে স্কেলটি বুদ্ধাঙ্ক ব্যবহারের জন্যই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বুদ্ধাঙ্ক হলো প্রকৃত বয়স ও মানসিক বয়সের অনুপাত। মানসিক বয়সকে প্রকৃত বয়স দ্বারা ভাগ করে ভাগ্নাংশ এড়ানোর জন্য ১০০ দ্বারা গুণ করলে যে সংখ্যা পাওয়া যায় তাকে বুদ্ধাঙ্ক বলে। বুদ্ধাঙ্কের সূত্রটি নিচে দেয়া হলো।

বুদ্ধাঙ্ক =(মানসিক বয়স/প্রকৃত বয়স)ী১০০

lQ=(M.A/C.A)X ১০০    

lQ= Intelligence Quotiont

M.A= Mental Age

C.A= chronological Age

একটি ৮ বছরের শিশু যদি ৮ বছর বয়সের উপযোগী সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, তবে তার বুদ্ধাঙ্ক হবে:

(৮/৮)X ১০০=১০০

যদি সে ৭ বছর বয়সের নির্ধারিত প্রশ্নের উত্তরর দিতে পারে তবে তার বুদ্ধাঙ্ক  হবে:(৭/৮)X ১০০=৮৭.৫

যদি সে ৯ বছর বয়সের উপযোগী প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে তবে তার বুদ্ধাঙ্ক  হবে:

(৯/৮)X ১০০=১১২.৫

৩. টারম্যন-মেরিল স্কেল (Terman-Meril Scele) ১৯৩৭ খৃষ্টাব্দে টারম্যন ও মেরিল স্ট্যানফোর্ড বিনে স্কেলের পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে একটি নতুন সংস্করণ বের করেন যা টারম্যান-মেরিল সং¯করণ নামে সুপরিচিত। বর্তমানে ভাষা ভিত্তিক অভীক্ষা হিসাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই অভীক্ষার জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

৪. ওয়েসলারের অভীক্ষা (Wechsler-test): বিনের অভীক্ষা যখন বহু ভাষায় অনুদিত হয়ে ব্যবহার হতে শুরু করল, তখন দেখা গেল যে অভীক্ষাটি কেবল শিশুদের জন্য প্রযোজ্য। তাছাড়া এই অভীক্ষা নিয়ে ব্যক্তির কর্ম সম্পাদনী দক্ষতা পরিমাপ করা যায় না। যেহেতু এগুলিও বুদ্ধির অবিচ্ছেদ্য অংশ তাই তা বাদ দিয়ে বুদ্ধির পরিমাপ সম্পূর্ণ হয় না। এই সমালোচনা সামনে রেখে ডেভিড ওয়েসলার ১৯৩৯ সালে বয়স্কদের জন্য বুদ্ধি পরিমাপ একটি অভীক্ষা প্রণয়ন করেন। এই অভীক্ষায় তিনি মৌখিক ও কার্য সম্পাদনী উভয় প্রকার দক্ষতা পরিমাপের ব্যবস্থা করেন। বরস্কদের পাশাপাশি ওয়েসলের ১৯৪৯ সালে শিশুদের জন্যেও অনুরূপ আরো দু’টি অভীক্ষা তৈরি করেন। পরবর্তীকালে আমেরিকান মনোবিজ্ঞান সমিতি ওয়েসলারের এই অভীক্ষাগুলির সংস্কার করে যুগোপযোগীভাবে প্রকাশ করেন।

৫. বুদ্ধির দলগত অভীক্ষা (Group Test of Intelligence): বিনে এবং ওয়েসলারের অভীক্ষাগুলো সবই হচ্ছে ব্যক্তিগত অর্থাৎ এগুলো ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মনোবিজ্ঞানীর সহায়তায় একজন একজন করে গ্রহণ করা হয়। এর ফলে এই অভীক্ষাগুলি গ্রহণ করার জন্য প্রচুর সময় ও অর্থের প্রয়োজন হয়। তাছাড়া যখন বহু সংখ্যক লোকের বুদ্ধি অল্প সময়ের মধ্যে পরিমাপের প্রয়োজন পড়ে তখন এগুলি একেবারেই অকেজো হয়ে দাঁড়ায়। এইসব সমস্যার কথা চিন্তা করে দলীয় অভীক্ষার প্রয়োগ শুরু হয়। বুদ্ধির দলীয় অভীক্ষা হলো একসাথে অনেক লোককে বসিয়ে কাগজ কলমের সাহায্যে পরীক্ষা নিয়ে তাদের বুদ্ধি পরিমাপ করা।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় যখন  সেনাবাহিনীতে লোক নিয়োগের প্রয়োজন হয়, তখন আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী আর্থার অটিস (Arther Otis) এর পরিচালনায় দু’টি দলীয় অভীক্ষা প্রণীত হয়। এর প্রথমটি হলো ইংরেজী ভাষাভাষীদের জন্য আর্মি আলফা টেস্ট এবং অপরটি হলো বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ভিন্ন ভাষাভাষীদের জন্য আর্মি বিটা টেস্ট। দলগত অভীক্ষার একটি বৈশিষ্ট্য হলো, এগুলো খুব অল্প সময়ে অভীক্ষার্থীর উপর প্রয়োগ করা যায়।

বুদ্ধির উপর বংশগতি ও পরিবেশের প্রভাব (Effects of heredity and Environment on Intelligence): অন্যান্য প্রাণীর মতো মানুষের সব রকমের আচরণ তার বংশগতি ও পরিবেশের উপর নির্ভরশীল। তাই স্বাভাবিক ভাবেই মানুষের বুদ্ধি ও তার বংশগতিও পরিবেশের দ্বারা প্রভাবিত হয়।

বুদ্ধির সাথে বংশগতির সম্পর্ক: ব্যক্তি জন্মগতভাবে অর্জন করে দৈহিক বৈশিষ্ট্য, মানসিক বেশিষ্ট্য আর স্বভাগত বৈশিষ্ট্য। বুদ্ধি মানসিক বৈশিষ্ট্যের অন্যতম উপাদান। অতএব এর উপর বংশগতির প্রভাব গভীর। বংশগতির উপর বুদ্ধির প্রভাব নিরূপণের জন্য মনোবিজ্ঞানীরা বিবিধ গবেষণা করেছেন।

মনোবিজ্ঞানী টারম্যান মানুষের বুদ্ধির সাথে বংশগতির সম্পর্কের উপর অনেক গবেষণা পরিচালনা ও পর্যালোচনা করে দেখতে পান যে, অভিন্ন যমজ সন্তান, ভিন্ন যমজ সন্তান, এক পিতামাতার সন্তান ও এক গোষ্ঠীভুক্ত ভাই-বোনের মধ্যে বংশধারার সমতা ও নৈকট্য যত বেশি, বুদ্ধিঅভীক্ষার ফলও তত কাছাকাছি।  (ক্রমশ:)

সংস্কার ২৪১ মার্চ ২০১৯