সম্পাদকীয়

ব্যতিক্রমধর্মী মাসিক পত্রিকা সংস্কারের এ সংখ্যাটি হচ্ছে ২৪ তম বর্ষ শুরু সংখ্যা। আজ থেকে ২৪বছর আগে ১৯৯৭ সালের আগস্ট মাসে বেরিয়েছিল সংস্কারের প্রথম সংখ্যাটি। সেই প্রথম আলোর মুখদেখা এবং পথ চলা শুরু করে স.......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-কুরআন

(৫১ থেকে ৬৫)৫১. সে বললো: তাহলে অতীত হয়ে যাওয়া লোকদের অবস্থা কী?৫২. মূসা বললো: এ বিষয়ের জ্ঞান আমার প্রভুর কাছে কিতবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি ভুলও করেন নাই, ভুলেওযাননা।৫৩. তিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্য বিছানা.......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-হাদীস

আলী রা. হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ইরশাদ করেছেন, বান্দাযখন মেসওয়াক করে নামাযের জন্য দাঁড়ায় তখন ফেরেশতা তার পিছনে দাঁড়িয়ে যায় এবং অত্যন্তমনোযোগ সহকারে তার তেলাওয়া.......

বিস্তারিত পড়ুন

সম্পাদকীয়

ব্যতিক্রমধর্মী মাসিক পত্রিকা সংস্কারের এ সংখ্যাটি হচ্ছে ২৪ তম বর্ষ শুরু সংখ্যা। আজ থেকে ২৪
বছর আগে ১৯৯৭ সালের আগস্ট মাসে বেরিয়েছিল সংস্কারের প্রথম সংখ্যাটি। সেই প্রথম আলোর মুখ
দেখা এবং পথ চলা শুরু করে সংস্কার পত্রিকাটি এখনও কড়া নেড়ে চলেছে পাঠক, লেখক, শুভানুধ্যায়ী
প্রিয় মানুষদের দরজায়। এই ২৪ বছরের পথ চলতে গিয়ে আমরা হারিয়েছি অনেককে। আবার আমাদের
সাথে যুক্ত হয়েছেন অনেকেই। যারা প্রথম থেকে মাসিক সংস্কারের সাথে জড়িত ছিল তাদের অনেকেই
আজ নেই। মহান আল্লাহর দরবারে তাদের রূহের মাগফেরাত কামনা করছি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি
তাদের জন্য, তাদের অবদানের জন্য, তাদের সেবা এবং তাদের সৃষ্টির জন্য। এ পথ পরিক্রমায়
আমাদের সাথে যারা নতুন করে যুক্ত হয়েছেন তাদের সকলকে স্বাগত জানাই। আমাদের পথ শেষ
হয়নি, পথ চলায় আরো গতিময়তা যুক্ত হয়েছে। যখন সংস্কার পত্রিকার প্রথম সংখ্যাটি বের হয়, তখন
প্রিন্ট মিডিয়ার যুগে যে অবস্থার মধ্যে আমাদেরকে এগুতে হয়েছিল তা থেকে বর্তমানে অনেক অনেক
উন্নত ভাবে পত্রিকা বের করার সুযোগ রয়েছে। সেই সময়কার প্রিন্টিং এর ঝামেলাগুলো এখন আর
তেমন বেশি পোহাতে হয় না। কিন্তু প্রিন্টিং এর খরচ কখনোই পত্রিকা জগতের পিছু ছাড়েনি। কাগজের
দাম বৃদ্ধি, প্রিন্টিং এর আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোর মূল্য বৃদ্ধি ইত্যাদি পত্রিকার সাথে সাথে আঠার মতো
লেগে আছে। সবকিছু ডিঙিয়ে আমরা ভবিষ্যতে চলার পথের অঙ্গীকার নিয়ে সামনে এগুতে চাই। আমরা
এখন করোনাকাল অতিক্রম করছি। এই করোনা বর্তমানে বিশ্বময় মহামারী আকারে আবির্ভূত হয়েছে।
আল্লাহর সৈনিক করোনা ভাইরাস-এ কথা আমরা আগেও বলেছিলাম। করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে
মানুষ অনেকটা সংযত হয়েছিল। বেশ্যাখানা, অশ্লীল সিনেমা, সরাইখানা ইত্যাদি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
মানুষ নতুন করে বুঝতে শিখেছিল যে একজন স্রষ্টা নিশ্চয়ই রয়েছেন, যার কাছে অপরাধী হলে শাস্তি
হিসেবে তিনি এমনি করে কোন একটি সেনাবাহিনী দিয়ে শাস্তির ব্যবস্থা করেন। করোনাকালেও তার
ব্যতিক্রম ঘটেনি। করোনা থেকে মুক্তির জন্য আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করব। সৃষ্টিকর্তার কাছে
আমাদের অপরাধের শেষ নেই। তাই প্রতিটি মুহূর্ত তার কাছে ক্ষমা চাইবো এবং এমন ক্ষমা চাইবো যে
্ক্ষমা চাওয়ার পরে এই ধরনের অপরাধে আর কখনো লিপ্ত হবো না। তওবা করে আল্লাহর সান্নিধ্য

পাওয়া গেলে হয়তো বা এমনি ভাইরাস বা মহামারীর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে আল্লাহ আমাদেরকে
রক্ষা করতে পারেন। তবে হ্যাঁ শুধুমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করে বসে থাকতেই আল্লাহ বলেন নি।
সৃষ্টিকর্তার আদেশ-তোমরা চেষ্টা করো সফল হবে। তাহলে এই চেষ্টার মাধ্যমে আমরা যে কাজগুলো
করতে পারি, সেগুলো হচ্ছে, করোনা ভাইরাস থেকে বেঁচে থাকার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ,
পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ ইত্যাদি। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আমরা মুখে মাস্ক ব্যবহার করে বাসা থেকে
বের হবার পর চলতে পারি, হাট বাজারে যেতে পারি, আমাদের অফিস আদালতে যেতে পারি,
গণপরিবহনে উঠতে পারি, তাহলে অন্তত পক্ষে আমাদের অসুস্থ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা অনেকাংশে কমে
আসবে। পাশাপাশি হাত-পা ধুয়ে রাখা দরকার। চোখে, নাকে-মুখে দেয়ার আগে হাত ধুয়ে নেওয়াসহ
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপর আমরা গুরুত্ব দিতে পারি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিষ্কার-পরিছন্নতা তথা হাত
ধোয়ার উপর গুরুত্ব দিয়েছে। ইসলাম প্রথম যুগ থেকেই পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম ওযু কে এ ব্যাপারে
বড় একটি পদ্ধতি হিসেবে উপস্থাপন করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর একটি,
যার অর্থ হচ্ছে-তোমাদের বাড়ীর পাশে যদি একটি নদী থাকে, তাহলে সেই নদীতে যদি তোমরা দিনের
মধ্যে পাঁচবার গোসল করো, তাহলে কি তোমাদের গায়ে ময়লা থাকতে পারে? নিশ্চয়ই না। আর এটি
হচ্ছে পাঁচবার অজু করার উদাহরণ। ওযুতে যেসব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ধোয়া এবং মাসেহ করার নিয়ম রয়েছে
সেগুলো ঠিকমত করা হলে এই করোনা নামক ভাইরাস থেকে আমরা অনেকটাই হিফাজতে থাকতে
পারি। এদিকে করোনা থেকে হিফাজতে থাকার জন্য আমাদের আর যে বিষয়টি করা উচিত, তা হচ্ছে
পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ। পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা মানে দামি খাবার খাওয়া নয়। স্বাস্থ্যকর তেল
ব্যবহার করা, ফাস্টফুড জাতীয় খাবারগুলোকে বয়কট করা, শাকসবজি বেশী বেশী গ্রহণ করা,
ইত্যাদির মাধ্যমে সুষম খাদ্য গ্রহণের চেষ্টা করলে আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি হতে
পারে। আর এটা বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশী আছে,
তারা করোনায় আক্রান্ত হলেও সাধারণ চিকিৎসায় সেরে উঠছেন, আল্লাহ তাদেরকে করোনা থেকে মুক্তি
দিচ্ছেন। তাই আমরা সর্বতোভাবেই পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করব। সংস্কারের ২৪তম বর্ষ শুরুতে
আমরা এর সকল পাঠক, লেখক, শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপনদাতা এবং সংস্কার পরিবারের সকলকে শুভেচ্ছা
জানাচ্ছি। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। সংস্কারের পরবর্তী বছরের সংখ্যাগুলো যেন আমরা সঠিকভাবে
সবার হাতে পৌঁছে দিতে পারি, মহান আল্লাহ আমাদেরকে সেই তাওফিক দান করুন। সংস্কার যেন তার
উদ্দেশ্য সফল করতে, এই পরিবারের সকলকে নিয়ে অগ্রসর হতে পারে, সেই তাওফিক দান করুন।
আমিন!