সম্পাদকীয়

ব্যতিক্রমধর্মী মাসিক পত্রিকা সংস্কারের এ সংখ্যাটি হচ্ছে ২৪ তম বর্ষ শুরু সংখ্যা। আজ থেকে ২৪বছর আগে ১৯৯৭ সালের আগস্ট মাসে বেরিয়েছিল সংস্কারের প্রথম সংখ্যাটি। সেই প্রথম আলোর মুখদেখা এবং পথ চলা শুরু করে স.......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-কুরআন

(৫১ থেকে ৬৫)৫১. সে বললো: তাহলে অতীত হয়ে যাওয়া লোকদের অবস্থা কী?৫২. মূসা বললো: এ বিষয়ের জ্ঞান আমার প্রভুর কাছে কিতবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি ভুলও করেন নাই, ভুলেওযাননা।৫৩. তিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্য বিছানা.......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-হাদীস

আলী রা. হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ইরশাদ করেছেন, বান্দাযখন মেসওয়াক করে নামাযের জন্য দাঁড়ায় তখন ফেরেশতা তার পিছনে দাঁড়িয়ে যায় এবং অত্যন্তমনোযোগ সহকারে তার তেলাওয়া.......

বিস্তারিত পড়ুন

মুসলিম উম্মাহর বিপর্যয় ও তার প্রতিকার

মুফতী আমজাদুল হক খান আরমানী

(জুলাই ২০২০ সংখ্যা এর পর)
স্বাধীনতা রক্ষা করা ঈমানী দায়িত্ব
পৃথিবীতে মানুষ স্বাধীনভাবে জন্মগ্রহণ করে কিন্তু তাকে সর্বত্র পরাধীন অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।’
সেই পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসতে মানুষকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়। স্বভাবগতভাবেই
মানুষ একটি স্বাধীনচেতা প্রাণী। পরাধীন বা অন্যের অধীনে থাকতে চায় না, স্বাধীন থাকতে চায়।
প্রয়োজনে এর জন্য জীবনও দিয়ে দেয়। যে স্বাধীনতার জন্য মানুষের স্বপ্ন, স্বাদ, সংগ্রাম ও সাধনার
বিকল্প নেই আসলে সে স্বাধীনতা নামের এ বস্তুটির সত্যিকার পরিচয় কি? কেনই বা সেই বিস্ময়কর
বস্তুকে লক্ষ কোটি প্রাণের বিনিময়ে অর্জন করতে হয়? যার জন্য ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয়
জীবনে ঘটে কল্পনাতীত ফ্যাসাদ।
স্বাধীনতা মানে স্ব-অধীনতা বা নিজের অধীনতা, পরাধীনতা বা অন্য কারো অধীনতা নয়। ‘যে
স্বাধীনতা বলতে নিজের খুশিমত কাজ করাকে বোঝায়, যদি ওই কাজের ™^ারা অন্যের অনুরূপ
স্বাধীনতা উপভোগে বাধা সৃষ্টি না করে।’ আধুনিক পণ্ডিতদের ভাষায় স্বাধীনতা সেই অনুভূতিটির নাম,
যা অর্জিত হলে মানুষ অন্যের হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণ মুক্ত হয়ে এই পৃথিবীতে নিজ অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে
পারে। আত্মবিকাশ করতে পারে, নিজেই নিজ দেশ ও সম্পদের মালিক হতে পারে, সার্বভৌমত্ব অর্জন
করতে পারে, কাঙ্খিত সুখ ভোগ করতে পারে। যার মাধ্যমে মানুষ দমন মূলক বাধ্য-বাধকতার

পরিসমাপ্তি এবং প্রাকৃতিক ও নাগরিক অধিকার অর্জন করে। সমাজে বসবাসরত প্রত্যেকটি নাগরিকের
রয়েছে স্বতন্ত্র নাগরিক অধিকার।
রাজনৈতিক স্বাধীনতা
যার ভিত্তিতে প্রত্যেক নাগরিক নিজের সরকার গঠন এবং তাতে পূর্ণরূপে অংশগ্রহণের অধিকার রাখে।
মানুষ স্বাধীনতার মাধ্যমে নিজ মনের কামনা-বাসনাকে বাস্তবায়িত করতে চায়। জীবনের উন্নতি ও
বিকাশ চায়। এ ধরাপৃষ্ঠে আল্লাহ মানুষকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, দিয়েছেন সৃষ্টির সেরা
রূপ-সৌন্দর্য, দিয়েছেন জগতে তার অধিকার, উš§ুক্ত করেছেন তার জন্য সব নিয়ামতের ভাণ্ডার
এবং বরাদ্দ করেছেন জ্ঞান ও অধিকার। যারা এ জ্ঞান শক্তিকে কাজে লাগিয়ে অধীন বিশ^কে জয় করে
নেয়ার সংগ্রাম-সাধনা করে, স্বাধীনতা তাদেরই জন্য।
আল্লাহ মানুষকে জন্মগতভাবে স্বাধীন করে সৃষ্টি করেছেন। তাই সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক
ভাবে মানুষ অন্যের পরাধীন থাকতে চায় না। আর ইসলাম ধর্মও এরকম পরাধীনতাকে সমর্থন করে
না। ইসলামে পরাধীনতাকে ‘আজাবুম মুহীন’ বা কঠোর আজাব বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহর নবী
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের জন্য অনেক সাধনা করেছেন।
এমনকি সাহাবীদের নিয়ে মদীনায় হিজরত করেছেন এবং মদীনাকে একটি স্বাধীন ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে
গঠন করেছিলেন। এই স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দাওয়াতি
মিশনকে আরো তীব্র গতিতে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে মক্কা
বিজয় সূচিত হয়। যার মধ্য দিয়ে এ স্বাধীনতার বিস্তৃৃতি ও পরিধি আরো বৃদ্ধি পায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র মদীনায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার ধর্মীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক
স্বাধীনতা ছিল। আর এর ফলে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর লোকদের মধ্যে সহাবস্থান সম্ভব হয়। মদীনা রাষ্ট্র
পৃথিবীর ইতিহাসে যে কোনো সময়ের, যে কোনো কালের জন্য শান্তি, শৃঙ্খলা, মানবতা ও উদারতার
প্রতীক হয়ে থাকবে। মাতৃভূমিকে ভালোবাসা এবং এর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা ঈমানের
অংশ। আরবীতে বলা হয় ‘হুব্বুল ওয়াতান মিনাল ঈমান’ অর্থাৎ দেশপ্রেম ঈমানের অংশ। রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর স্বদেশকে ভালোবাসতেন এবং দেশের ভালোবাসায় উদ্ভদ্ধ করার
জন্য তিনি ঘোষণা করেছেন প্রত্যেক মানুষের উচিত দেশকে ভালোবাসা। যে লোক দেশকে ভালোবাসে
না সে প্রকৃতপক্ষে ঈমানদার নয়। পরাধীনরা তাদের স্বীয় মাতৃভূমি উদ্ধার ও স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম
করবে, এটাই ইসলামের বিধান। আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা করেছেন,
যুদ্ধে অনুমতি দেয়া হল তাদেরকে যাদের সাথে কাফেররা যুদ্ধ করে; কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা
হয়েছে। আল্লাহ্ তাদেরকে সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম। যাদেরকে তাদের ঘর-বাড়ী থেকে অন্যায়ভাবে

বহিস্কার করা হয়েছে শুধু এই অপরাধে যে, তারা বলে আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ্। আল্লাহ্ যদি মানব
জাতির একদলকে অপর দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে (খৃষ্টানদের) নির্জন গির্জা, ইবাদত খানা,
(ইহুদীদের) উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ বিধ্বস্ত হয়ে যেত, যেগুলাতে আল্লাহ্র নাম অধিক স্মরণ করা
হয়। আর তাই তো মহান আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেন, আল্লাহ্ নিশ্চয়ই তাদেরকে সাহায্য করবেন,
যারা আল্লাহ্র সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পরাক্রমশালী শক্তিধর। (হজ্ব: ৩৯)
স্বদেশের স্বাধীনতা রক্ষার ব্যাপারে ইসলামেও জোর তাগিদ রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম মদীনা রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সব রকমের ব্যবস্থা করেছেন, এমনকি
অনেক যুদ্ধও করেছেন। নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করাকে ইসলাম উৎসাহিত
করেছে। বাংলাদেশসহ বিশে^র ইতিহাসে এমনি অনেক বীর সেনা রয়েছেন যারা দেশরক্ষার জন্য
আত্মত্যাগ করেছেন। জাতি তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে, ইতিহাসের পাতায় তাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা
রয়েছে। বাংলাদেশ নামক যে ভূখণ্ডটিতে আমরা বসবাস করছি সেটারও স্বাধীনতা অর্জন করতে অনেক
আত্ম্নত্যাগ করতে হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল,
১৬ ডিসেম্বর তা শেষ হয়। এ আন্দোলনে যারা অংশগ্রহণ করেছেন তারাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। জাতি
তাদের কাছে চিরঋণী। আল্লাহ পাকও তাদের চিরশান্তির স্থান জান্নাতে আবাস দেবেন বলে ঘোষণা
দিয়েছেন। ‘প্রকৃতপক্ষে, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম এখনো চলছে। কারণ অর্থনীতিতে আমরা এখনো
আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি, আমাদের রাজনীতিও বিদেশিদের
প্রভাবমুক্ত নয়, সুস্থ পরিবেশ স্বাধীনতার পর থেকে বেশকিছু সময় ছিল না। তাই বলা হয়ে থাকে,
‘স্বাধীনতা অর্জন করার চেয়ে রক্ষা করা কঠিন।’ আমাদের সেই কঠিন কাজটুকু করার দায়িত্ব নিতে
হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বিদেশি প্রভাবমুক্ত
আত্মনির্ভরশীল দেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। মহান আল্লাহ প্রদত্ত আমাদের এ
দেশ শুধু বাংলাদেশই নয় বরং সুজলা, সুফলা, শষ্য, শ্যামলা, সোনার বাংলা। এ দেশ পাকিস্তানী
হানাদার বাহিনীর নির্মম জুলুম-নির্যাতন অত্যাচার ও নিপিড়নের শিকারে পরিণত হয়েছিল। তাদের
অত্যাচারের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। সে যুদ্ধে শরীক হয়েছিলেন
এদেশেরই জাতি ধর্ম-বর্ণ সকল পেশার মানুষ। যারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। সেই লক্ষ লক্ষ বীর মুক্তি
যোদ্ধার রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। মহান আল্লাহ তা’আলার অশেষ
মেহেবানী ও যাদের রক্তের বিনিময়ে একটি ন্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র দান করেছেন, তিনি যেন আমাদের
বাংলাদেশকে সকল প্রকার সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ থেকে মুক্ত রেখে সকল প্রকার দেশ বিরোধী ষরযন্ত্র থেকে
এ সুন্দর দেশকে ও এদেশের মানুষকে হিফাজত করেন। আমীন। (সমাপ্ত)