সম্পাদকীয়

ব্যতিক্রমধর্মী মাসিক পত্রিকা সংস্কারের এ সংখ্যাটি হচ্ছে ২৪ তম বর্ষ শুরু সংখ্যা। আজ থেকে ২৪বছর আগে ১৯৯৭ সালের আগস্ট মাসে বেরিয়েছিল সংস্কারের প্রথম সংখ্যাটি। সেই প্রথম আলোর মুখদেখা এবং পথ চলা শুরু করে স.......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-কুরআন

(৫১ থেকে ৬৫)৫১. সে বললো: তাহলে অতীত হয়ে যাওয়া লোকদের অবস্থা কী?৫২. মূসা বললো: এ বিষয়ের জ্ঞান আমার প্রভুর কাছে কিতবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি ভুলও করেন নাই, ভুলেওযাননা।৫৩. তিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্য বিছানা.......

বিস্তারিত পড়ুন

আল-হাদীস

আলী রা. হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ইরশাদ করেছেন, বান্দাযখন মেসওয়াক করে নামাযের জন্য দাঁড়ায় তখন ফেরেশতা তার পিছনে দাঁড়িয়ে যায় এবং অত্যন্তমনোযোগ সহকারে তার তেলাওয়া.......

বিস্তারিত পড়ুন

রাসূল সা. কে আমরা কেন ভালবাসি

ড. আবদুল মুকিত আযহারী

(জুলাই ২০২০ সংখ্যা এর পর)
মক্কা বিজয়ের দিন হযরত আবু বকর রা. উনার বাবা, বৃদ্ধ বাবা, অন্ধ বাবাকে নিয়ে আসছেন
আল্লাহর রাসূলের কাছে। হে আল্লাহর রাসূল! এ আবু কুহাফা আমার বাবা। ইসলাম গ্রহণ করবে, তাকে
মুসলমান বানান। আল্লাহর রাসূল বলেন কেন, তুমি এই বুড়া মানুষকে এত কষ্ট করে নিয়ে আসছো?
তাকে বাড়িতেই রাখতে? আমিই তার কাছে যেতাম। হযরত আবু বকর বলেন না আপনি আল্লাহর
রাসূল, আমার পিতা হলেও সে আপনার কাছে আসার বেশী উপযোগী। যখন আল্লাহর রাসূল সা.
উনাকে ইসলাম গ্রহণ করাচ্ছেন তো হযরত আবু বকরের চোখ থেকে ঝর-ঝর করে পানি পড়ছে। তখন
রাসূল সা. জিজ্ঞাসা করেন, হে আবু বকর আজকে তো তোমার খুশির দিন, তোমার পিতা এতদিন পরে
ইসলাম গ্রহণ করছে তুমি আজকে খুশি না হয়ে কাঁদো কেন? হযরত আবু বকর তখন কি বলেন, আমি
এই জন্যে কাঁদছি আজ অনেক আশার পরে যেই মানুষটা ইসলাম গ্রহণ করছে এই হাতটা যদি আমার
পিতার না হয়ে আপনার চাচা আবু তালেবের হতো তাহলে আপনি বেশী খুশি হতেন। সেই খুশিটা
আপনাকে করাতে পারি নাই-এই দু:খে আমি কাঁদছি। কি রকম ভালোবাসা রাসূলের জন্য, রাসূলুল্লাহ সা.
ওহুদের যুদ্ধে, বদরের যুদ্ধে, বের হবেন। মদীনাবাসী রাসূল সা. এর সাথে ওয়াদা করেছে, রাসূল সা. কে
রক্ষা করবে, সমস্ত শত্র“ থেকে রক্ষা করবে, কিন্তু রাসূল সা. বাইরে গিয়ে কারো উপর আক্রমণ করবে
এ কথা মদীনা বাসীদের সাথে রাসূলের বাইয়াতে আকাবায়ের অঙ্গীকারে ছিল না। তো আল্লাহর রাসূল
সা. সমস্ত সাহাবায়ে কেরামকে একত্রিত করেছেন। বলছেন পরামর্শ দাও, আমি কি করব? আমি বাইরে
গিয়ে আবু সুফিয়ান সহ কাফেরদের দলকে আক্রমণ করবো না করবো না আবু বকর রা. বললেন
অবশ্যই করবেন। রাসূল তার জন্য দোয়া করলেন এবং ভালো বললেন। তারপর হযরত ওমর রা.
বললেন, তারপর বলছেন আরো পরামর্শ দাও। মেকয়াদ ইবনু আশাজেত উনিও মুহাজির, উনি দাঁড়িয়ে
বলছেন হে আল্লাহর রাসূল! আমরা বনী ইসরাঈলের মতো বলবো না। বনী ইসরাঈল যখন মূসা আ.
কে বলেছিলো যুদ্ধের সময়, যান আপনি এবং আপনার রব, আপনি এবং আপনার আল্লাহ দু’জনই গিয়ে
যুদ্ধ করেন, আমরা এখানে বসে রইলাম, আমরা যুদ্ধ করব না। মেকয়াদ ইবনু আশাজেত বলেন যে,
আমরা বনি ইসরাঈলের মতো বলবো না বরং হে আল্লাহর রাসূল আমরা আপনার সাথে যুদ্ধ করবো।
আপনি যদি আমাদের সকলকে বারকুল গামাদ স্থানে, অনেক দূরে, কয়েকশ কিলোমিটার দূরে, এমনকি
হাজার কিলোমিটার দূরে ওখানেও যদি আমাদেরকে আক্রমণের জন্য নিয়ে যান তবুও আমরা সবাই

আপনার সাথে যুদ্ধ করবো। রাসূল সা. খুশি হয়ে গেলেন, তারপরেও বলছেন, আরো পরামর্শ দাও,
আরো পরামর্শ দাও। সাদ ইবনু মুয়াজ রা. দাঁড়িয়ে গেলেন, আমাদেরকেই মনে হয় আপনি বুঝাচ্ছেন?
আনসাররা কী বলে সেটা শুনতে চাচ্ছেন। আমি আনসারদের পক্ষে বলছি, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা
আপনার উপর ঈমান এনেছি, আর আপনাকে আমরা স্বীকৃতি দিয়েছি, আর আমরা এটাও সাক্ষী দিচ্ছি
যে আপনি সত্য। এটা শুধু মুখে বলিনি, এখন কাজ দ্বারা প্রমাণের ক্ষেত্র এসেছে সেটাও করব। আমাদের
সম্পদ আপনার সামনে আছে, যে সম্পদ আপনার লাগে আপনি নেন, আর যেটা আপনি আমাদের জন্য
রাখতে চান রাখেন। কিন্তু এটা আপনি জেনে রাখেন, হে আল্লাহর রাসূল! যে সম্পদ আপনি আমাদের
কাছে রেখে যাবেন তার চেয়ে যে সম্পদ আপনি আমাদের কাছ থেকে নিবেন সেটাই আমাদের কাছে
বেশী প্রিয়। আপনি আমাদের সম্পদ নিয়ে নেন, এটাতেই আমরা খুশি। সা’দ ইবনু মুয়াজ রা. কি
বলছেন? এই যে আমাদের জান আপনার সামনে, আপনি যদি আমাদেরকে নিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপ দেন তখন
সবাই আমরা আপনার সাথে সমুদ্রে ঝাঁপ দিব। কেউ আমরা পিছপা থাকবো না। সবাই আমরা আপনার
সাথে সমুদ্রে ঝাঁপ দিব। আপনি যদি আমাদেরকে বাড়কুল গামাদে নিয়ে যান সবাই আমরা আপনার
সাথে যুদ্ধ করবো।
এগুলো মুখে বলেছেন আর এখন কাজে কর্মে দেখাচ্ছেন। রাসূল সা. এর সাথে তারা যুদ্ধ করেছেন।
উহুদের যুদ্ধে রাসূল সা. বের হয়েছেন। যুদ্ধের জন্য “নয়শত পঞ্চাশ জন” সাহাবায়ে কেরাম নিয়ে
সেনাদল নিয়ে উহুদের যুদ্ধে রাসূল সা. বের হয়েছেন। আর বিপরীতে কাফেরদের “তিন হাজার তিনশ”
আবার তাদের সেনাদল ছিল সুসজ্জিত, অস্ত্রে সজ্জিত। যখন উহুদের কাছাকাছি পৌঁছেন তখন মুনাফিক
আব্দুল্লাহ ইবনু উবাই বলল, আমরা আপনার জন্যে কেন জীবন দিব? আমাদের জীবনের দাম আছে।
আমরা আপনার সাথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না। আব্দুল্লাহ ইবনু উবাই বলে, আমি চলে যাচ্ছি আর
উনার নেতৃত্বে তিনশত পঞ্চাশ জন মুনাফিক ফিরে গেল। বাকি আছে মাত্র ছয়শত পঞ্চাশ জন। তখন
সাহাবায়ে কেরামের মনোবল ভেঙ্গে গেছে। তারপরও সমস্ত সাহাবায়ে কেরাম যুদ্ধে গেছেন। রাসূল সা.
যুদ্ধের জন্য জাবালে রুমাত পাহাড়ে কিছু সাহাবায়ে কেরামকে রাখলেন। তাদেরকে বললেন, তোমরা
এখানে থাকবে আমরা জয়ী হই অথবা পরাজিত হই; তোমরা এই জায়গা ত্যাগ করবে না।
হযরত আনাস বিন মালেক রা. বলেন তারপর আমাদের উহুদের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। আমরা যখন যুদ্ধ
শুরু করছি কাফেররা আমাদের কাছ থেকে উটের দুধ দুয়ানোর সময় অর্থাৎ একবার উটের দুধ দুয়ালে
আর এক বার দুধ দুয়াতে ঘন্টা খানেক সময় লাগে অর্থাৎ ঘন্টা খানেক সময়ের মধ্যেই পরাজিত
হয়েছে। আর মুসলমারা জয় লাভ করে। এই অবস্থা দেখে যারা জাবালে রুমাত পাহাড়ে ছিল তারা বলে
মুসলমানেরা তো জয়লাভ করেছে; তাই উনাদের মধ্য থেকে অনেকে নীচে চলে আসল। কিন্তু যিনি

সেনাপতি ছিলেন সেই হযরত আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর বলছেন, না, রাসূল বলেছেন, সর্ব অবস্থায়
আমাদেরকে এখানে থাকতে আদেশ করেছেন। কিন্তু উনার কথা শোনেন নি। অনেকেই চলে আসলেন,
মাত্র ছয় সাত জন সেখানে ছিলেন। কাফেররা এ অবস্থা দেখে পিছন থেকে খালেদ ইবনু ওয়ালিদ এর
নেতৃত্বে আক্রমণ করল। ঐ ছয় সাত জনকে প্রথমে হত্যা করার পর মুসলমানদের উপর আক্রমণ
করছে। এদিক থেকে যখন আক্রমণ করে তখন অন্য পাশের কাফেররা সামনে থেকে আক্রমণ করে।
এভাবে কাফের শত্র“রা দুই পাশ দিয়ে আক্রমণ করে। আর আক্রমণের মূল টার্গের হল রাসূলুল্লাহ সা.।
রাসূল সা. কে যখন তারা পায় তখন তারা সবাই মিলে রাসূল সা. এর উপর আক্রমণ করে। ইবনু
কামিয়া নামে একজন কাফের তলোয়ার নিয়ে রাসূল সা. এর উপর আক্রমণ করে এক পর্যায়ে রাসূল
সা. এর মাথায় আঘাত করে। রাসূল সা. এর মাথায় যে বর্ম ছিল, লোহার যে টুপি ছিলো, সে টুপির
আংটা রাসূল সা. এর গালের মধ্যে ঢুকে যায়। আর ঢুকে যাবার পর সেখান থেকে রক্ত বের হচ্ছে।
আর দূর থেকে ঐ পাশ থেকে যারা খালেদ বিন ওয়ালিদ এর নেতৃত্বে আসছিল; তারা তীর মারছে।
রাসূল সা. এর উপর এরকম মুহুর্মুহু আক্রমণ দেখে সকল সাহাবায়ে কেরাম রাসূল সা. কে ঘিরে ফেলে।
তার মধ্যে তালহা ইবনু উবাইদল্লাহ রা. রাসূল সা. এর সামনে এসে দাঁড়িয়ে যান। রাসূল সা. এর
সামনে এসে দাঁড়িয়ে শত্র“পক্ষ যত তীর নিক্ষেপ করছে আর যত তীর রাসূল সা. এর দিকে আসছে এ
সব তীর হযরত তালহা রা. এর বুকে বিদ্ধ হচ্ছে। ঐ তীরের আঘাতের ফলে রাসূল সা. এক পর্যায়ে
একটি গর্তের মধ্যে পড়ে বেহুশ হয়ে যান। যখন রাসূল সা. এর হুশ ফিরে তখন তালহা রা. এর পাশ
দিয়ে একটু মাথা উচু করে দেখছিলেন যে কি অবস্থা? তালহা রা. কি বলেন? হে রাসূল সা.! আপনি
মাথা উঁচু করবেন না, মাথা নিচু করে রাখেন। আপনার গায়ে হয়তো কোন তীর লেগে যাবে। সমস্ত
তীর আমার বুকে লাগবে, আমার গলা আজ আপনার গলা রক্ষার জন্য ঢাল হিসেবে সমর্পণ করেছি।
হযরত তালহা রা. নিজের জীবনকে ঢাল স্বরূপ উৎসর্গ করলেন। তিনি বলেন, আমার গলা, আমার বুক
আপনার জন্য ঢাল স্বরূপ থাকবে আর আপনি পিছনে থাকেন। হযরত তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ রা. এর
বুকে তীর নিক্ষেপ হচ্ছে আর উনি তীর মারছেন এবং প্রতিরোধ করছেন ।
আবু দুজানা নামক আরেকজন সাহাবী আরেক পাশ থেকে এসে উনার পিঠ পেতে দিয়েছেন। যত
আঘাত আসছে, যত তলোয়ার আসছে, আর যত তীর আসছে সব উনার পিঠের উপর লাগছে । রাসূল
সা. কে আগলে ধরে রাখছেন নুসাইবা ইবনু কাব নামক একজন মহিলা সাহাবী তার ছেলে ইবনু
আম্মারা রা. কে নিয়ে যুদ্ধে এসেছিলেন। উনি মূলত যোদ্ধাদের সহযোগিতার জন্যে এসেছিলেন। তিনি
পানি এনে দিবেন, অসুস্থ ব্যক্তির শুশ্র“ষা করবেন। কিন্তু যখন রাসূল সা. এর উপর এরকম আক্রমণ
দেখছেন তখন উনি উনার ছেলেকে নিয়ে রাসূল সা. কে বাঁচাতে চলে আসেন। হযরত উম্মে আম্মারা

রা. তলোয়ার নিয়ে কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করছেন আর ওনার ছেলেকে বলেন, হে ছেলে! দাঁড়াও, আর
এই যোদ্ধাদেরকে সড়াও, এই কাফেরদের উপর হামলা কর, আর রাসূল সা. এর পিছন থেকে সড়িয়ে
নাও। তখন উনি যে শত্র“ যেদিক থেকে আসছিল, তাদের উপর তলোয়ার চালাচ্ছেন। এমন সময় উনার
উপর কাফেরদের পক্ষ থেকে একটা আক্রমণ আসল। এই আক্রমণের এক পর্যায়ে হযরত উম্মে আম্মারা
রা. দেখছেন, তার ছেলে হযরত আম্মারা রা. আহত হয়ে জমিনে পড়ে আছেন। জমিনে পড়ে থাকা তার
ছেলেকে বাঁচাতে যাবে? না, তিনি রাসূল সা. কে ছেড়ে যান নাই। আর রাসূল সা. এর পাশে দাঁড়িয়ে
তার ছেলেকে কখনও বলছে, হে ছেলে! তুমি দাঁড়াও, হে ছেলে! তোমার জীবন দিয়ে রাসূল সা. কে
বাঁচাও। দাঁড়াও, যতটুকু শক্তি আছে তা নিয়ে দাঁড়িয়ে যাও। আর উনি তলোয়ার নিয়ে রাসূল সা. কে
বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। রাসূল সা. হযরত উম্মে আমারা রা. এর এ অবস্থা দেখে কি
বলছেন? হে উম্মে আমারা! তুমি আজ যা করছ, এরকম কেউ করতে পারবে না। কেউ এরকম করতে
পারবে না । এ অবস্থায় যখন কাফেরদের আক্রমণ কিছুটা কমে তখন রাসূল সা. কোনভাবে একটু উঠে
পাশে একটি পাহাড় ছিলো সে পাহাড়ের উপর উঠতে চেষ্টা করেন। একটু নিরাপদ স্থানে উঠতে চাচ্ছেন
কিন্তু রাসূল সা. এতটা আহত ছিলেন যে, ওখানে তিনি উঠতে পারছেন না। হযরত তালহা রা. যিনি
জখমে জখমে জর্জরিত, রক্তাক্ত উনি নীচু হয়ে গেলেন আর বলেন, হে আল্লাহর রাসূল সা.! আপনি
আমার পিঠে পা দিয়ে ওখানে ওঠেন। রাসূল উনার পিঠে পা দিয়ে ওখানে উঠেন ।
রাসূল সা. এর এমন অবস্থা যে, রাসূল সা. এর চেহারায় বর্মের দু’টি আংটা ঢুকে আছে। মালেক ইবনু
সিনান রা. রাসূল সা. এর কাছে এসে দেখেন, রাসূল সা. এর এ আংটাটা বের করতে হবে। না হলে
রক্ত পড়তে পড়তে রাসূল সা. মারা যেতে পারেন। আর ঐ আংটা যদি কোন কিছু দিয়ে ধরে বের করে
বা হাত দিয়ে ধরে বের করে রাসূল সা. ক্ষতবিক্ষত হবেন। আবু উবায়দা ইবনু যাররা রা. এসে তকে
বলেন, আংটা বের করার কাজটা করতে আমাকে অনুমতি দেন। মালেক ইবনু সিনান রা. বলেন, হে
আল্লাহর রাসূল সা.! আমাকে অনুমতি দেন। হযরত আবু বকর রা. বলেন যে, আমাকে দাও, আমি এই
আংটাটা উঠাই। মালেক ইবনু সিনান রা. বলেন যে, আমাকে এই সুযোগটা দেন; আমি এই আংটাটা
একটু উঠাই। অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরাম এ কঠিন কাজ করার জন্য প্রতিযোগিতা শুরু করলেন। অবশেষে
মালিক ইবনু সিনান রা. তার দাঁত দিয়ে আংটা টা আস্তে আস্তে বের করতে থাকেন; যেন রাসূল সা.
আরো বেশী আহত না হন। আস্তে আস্তে ধরে একটু উঠান। উঠানোর কারণে মুখের মধ্যে রক্ত জমে
যায় তখন সে রক্ত ফেলেন। তখন দেখেন, রক্তের সাথে তার আরেকটি দাঁতও পড়ে গেল। আংটাটা
উঠানোটা এত কঠিন যে, দাঁতও পড়ে গেল। আবার আরেকটা আংটা উঠাতে গেলে আরেকটা দাঁত পড়ে

গেল। এভাবে হযরত সিনান রা. এর সামনের চারটি দাঁত পড়ে গেল আর অবশেষে রাসূল সা. এর
মাথা থেকে সেই আংটাটা বের করলেন ।
সাহাবায় কেরাম রা. নিজেদের জীবন দিয়ে রাসূলুল্লাহ সা. কে এভাবে রক্ষা করেছেন। আজ আমাদের
সেই রাসূলকে রক্ষা করার জন্যে রাসূল সা. হয়ত কবর থেকে বার বার ডাকছেন, হে উম্মত এখনো
আমাকে গালি দেয়; তোমরা কি কর? তোমরা কি দেখনা? আমার কুরআনের উপর মানুষের আক্রমণ
আসে; মানুষের তিরস্কার, সমালোচনা আসে। আমার হাদীসের উপর মানুষের আক্রমণ আসে; তোমরা
কী কর? আর আমরা বসে আছি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে রাসূল সা. এর জন্য সহযোগিতা
করার তাওফীক দান করেন। সমাপ্ত